পুনর্মাশুকভব

হিমু's picture
Submitted by himu on Fri, 04/02/2011 - 4:59pm
Categories:

"ঐ যে পাখি! বকপাখি!" উৎফুল্ল স্বরে বলে ফাকমিদুল হক।

রমণ সুমহান বেজায় বিরক্ত হন। ফাকমিদুলকে ইদানীং আর সহ্য হচ্ছে না তার। নির্বোধ লোকের সঙ্গ তিনি অপছন্দ করেন না, কিন্তু সেই নির্বোধ যদি তার প্রাপ্য থেকে তাকে বঞ্চিত করে, তার ওপর চটবার বৈধ কারণ তৈরি হয় বই কি। ফাকমিদুলকে পশ্চাদ্দেশে একটা লাথি মেরে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দিতে ইচ্ছা করে তার, কিন্তু জীবনের সায়াহ্নে এসে তিনি বুঝতে শিখেছেন, ক্রোধ তার মহত্তম অবস্থানে পৌঁছায় সংবৃত হয়ে। তিনি মনের একটি কুঠুরি খুলে একটা চেরাগ বার করেন, তারপর রাগের দৈত্যটাকে পুরে ফেলেন তার ভেতর। ফাকমিদুলের পশ্চাদ্দেশে কোনো কিছুই এখন করতে যাওয়া সমীচীন হবে না। এখন মিত্রতার সময়।

কিন্তু ফাকমিদুল কাজটা কঠিন করে তোলে মুহুর্মুহু! "ঐ যে আরেকটা পাখি! কাকপাখি!"


ওমর ফারুকও বিরক্ত হয় ফাকমিদুলের ওপর। বেটা এক বছর মার্কিন দেশে থেকে এসে হিলারি ক্লিনটনের মতো আচরণ করছে। তুই তো ব্যাটা গ্রামের ছেলে, লুঙ্গি পরে গ্রামের স্কুলে যেতি, আর এখন বকপাখি কাকপাখি কপচাচ্ছিস? দুইদিনের বৈরাগী আর কাকে বলে?

ড্রাইভার বদি হাসে মিটিমিটি। ওমর ফারুক প্রসঙ্গ ঘোরানোর জন্যে বলে, "ফাকমিদুল ভাই, লেখাটা এনেছেন সাথে করে?"

ফাকমিদুল এবার একটু সিরিয়াস হয়, জানালা থেকে মুখ ফিরিয়ে বলে, "আমার কি লেখা বগলতলায় নিয়ে ঘুরতে হবে নাকি? সবকিছু মাথায় আছে। ভুলে যায়েন না, আমি একজন শিক্ষক। প্রতিদিন হাজার হাজার বেয়াদব ছেলেমেয়ের সামনে লেকচার দেই। আপনার মতো হাটেমাঠেঘাটে বক্তৃতা দিয়ে রাজনীতি করে বড় হই নাই ঠিকই, কিন্তু লোকজনের সামনে কথা বলার অভ্যাস আমার আছে।"

রমণ সুমহানের মুখে পাতলা একটা হাসি খেলে যায়। লেগে যা নারদ নারদ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বাম স্টান্টবাজ ওমর ফারুকের সাথে সাদা প্যানেলঘনিষ্ঠ ফাকমিদুল হকের মধ্যে কিছু খিটিমিটি তো লাগাই স্বাভাবিক। এলজিইডির এবড়োখেবড়ো রাস্তায় মাইক্রোবাসে ঝাঁকি খেতে খেতে চলার সময়টা তাহলে নেহায়েত নিরস কাটবে না।

ইদ্রিস ফকির বদিকে পথ দেখায়। "হ সামনে নিয়ে রাহেন। পরে আর যাবেনানে গাড়ি। রাস্তা নাই। হাইটে যাতি হবেনে।"

ফাকমিদুল উৎকণ্ঠিত স্বরে প্রশ্ন করে, "কত দূর?"

ইদ্রিস ফকির ঠাণ্ডা হাসি হেসে বলে, "বেশি দূর না স্যার। দশ পুনারো মিনিট হাটতি হবে, তারপরে পৌছয় যাবেনেন। গরিব মানুষ তো। সরকারের রাস্তা কি গরিব মানষির বাড়ির ধার দিয়ে যায়?"

রমণ সুমহান একটা চাদর জড়িয়ে নেন গায়ে। "সবকিছু ঠিক আছে না ফকির সাহেব?"

ইদ্রিস ফকির হাসে মিটিমিটি। "সব কি আর ঠিক থাহে স্যার? তাগো মাইয়ে মইরে গেছে। দ্যাহেন বুঝয় শুনয় ...।"

ওমর ফারুকের কানে যায় না সব কথা। সে একটু অস্থির হয়ে ভাবে টাকার কথা। তাদের প্রত্যেকে দেড় লাখ করে পাবে কাজটা উদ্ধার হলে। একটা নতুন ল্যাপটপ কিনতে হবে তাকে, সেটা এই খ্যাপের টাকা থেকেই কেনা যাবে তাহলে। পুরোনো ল্যাপটপটার ব্যাটারি খুব সমস্যা করছে। জরুরি সব লেখার ফাঁকে ব্যাটারি ডুকরে উঠে কাঁদতে থাকে।

খ্যাপটা যোগাড় করে এনেছেন রমণ সুমহানই। তিনি পাকা লোক, জহুরির চোখ, তাছাড়া কড়াইল বস্তিতে গবেষণার কাজে সময় কাটিয়েছেন বিস্তর। গণ্ডগোল কীভাবে লাগে, কীভাবে এগোয়, আর কীভাবে নিরসন হয়, সবই তাঁর নখদর্পণে। আর শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা গ্রামে এসব গণ্ডগোল কড়াইল বস্তির তুলনায় শতগুণে নিরীহ, বিশেষ করে ভিক্টিম যেখানে দরিদ্র ভূমিহীন।

স্থানীয় প্রতিনিধিই ইদ্রিস ফকিরকে ডেকে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলো। ইদ্রিস ফকিরও বাতাসে বড় হয়নি, অনেক লোক চরিয়েই তবে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হয়েছে সে। রমণ সুমহানের চোখ দেখেই বাকিটা পড়ে নিয়েছে সে।

ধর্ষক মাহবুব পলাতক, কিন্তু তার আত্মীয়স্বজনেরা তো আছে আশেপাশেই। তারা যথেষ্ট বিত্তশালীও। ধানী জমি আছে প্রচুর, আর ছেলের জান বাঁচানো নিয়ে কথা, দরকার হলে তারা কিছু ধানী জমি বন্ধকও রাখবে। এক লক্ষ করে তিনজনকে তিন লক্ষ আর স্থানীয় প্রতিনিধিকে পঞ্চাশ হাজার, মোট সাড়ে তিন লাখের প্রস্তাব দিয়েছিলো ইদ্রিস। দরদাম করাটা সংস্কৃতিরই অংশ, তাই রমণ সুমহান তাকে মিষ্টি হেসে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, সাত লাখ টাকা দিয়ে মিটমাটের প্রস্তাবটা যে ইদ্রিস হেনার বড় ভাইকে দিয়েছিলো, সে সম্পর্কে তাঁরা অবগত আছেন। এরপর আর ঝামেলা করেনি ইদ্রিস, মোট সাড়ে পাঁচ লক্ষের চুক্তি হয়েছে। স্থানীয় প্রতিনিধি এক লক্ষ পেলেই খুশি।

মাঘ মাসের শেষে এসে শহরে মরে যায় শীত, কিন্তু চামটা গ্রামে তার পাট্টা পতপত করে উড়ছে। গায়ে ভালোমতো চাদর জড়িয়ে নেন রমণ সুমহান। হামবাগ ওমর ফারুক পরে আছে মোটা ফ্লিসের জ্যাকেট, ফাকমিদুল স্যুট পরার সুযোগ পেয়ে সেটা আর ফসকায়নি। রমণ সুমহান মনে মনে দাঁত বার করে হাসেন। এদের কোনো ধারণাই নেই নিম্নবর্গীয়পনা সম্পর্কে। যে আলোচনা হতে যাচ্ছে সামনে, সে আলোচনায় এরা ফ্লোরই পাবে না এই শহুরে জামাকাপড় পরে। তার মতো চাদর গায়ে ছোটোখাটো মানুষের কথাই শুনবে দরবেশ খাঁ। ঐ ফ্লিসের জ্যাকেট আর উলি কটনের স্যুট অবশ্য কাজে আসবে, একটা অচেনা আবহাওয়া তৈরি করতে। সেটারও দরকার আছে। কিন্তু মঞ্চে সেগুলো নেহায়েতই কাটা সৈনিক।

রমণ সুমহান ইদ্রিস ফকিরের সাথে নিচু গলায় কথা বলতে বলতে হাঁটতে থাকেন, পেছনে বকের মতো পা ফেলতে ফেলতে আসে ফাকমিদুল আর ওমর ফারুক।

"আগে কখনও এসেছেন শরিয়তপুর?" ওমর ফারুক জানতে চায়।

ফাকমিদুল গোমড়া মুখে বলে, "না। শরিয়তপুর আসবো কেন? কী আছে এখানে?"

ওমর ফারুক চুপ করে যায়। লোকটার সঙ্গে স্বাভাবিক আলাপচারিতা চালিয়ে যাওয়াই দায় হয়েছে। ব্লগে এক পশলা চোদা খেয়ে সেইরকম ক্ষেপে আছে ব্যাটা, যাকে পায় তার ওপরই ঝাল ঝাড়ে। মনে মনে হাসে ওমর ফারুক। লবিইস্ট টিচারগুলার সমস্যা সম্পর্কে সে পূর্ণমাত্রায় ওয়াকিবহাল। এরা জানে এদের দৌড় সীমিত। শিক্ষার পরিধি আর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এরা ভেড়ার চামড়া খুলে নেকড়ের দাঁত বের করে খিঁচাতে থাকে।

ওমর ফারুক মুখে বলে, "কিছু নাই। এমনিই জিজ্ঞেস করা। আপনি কথা বলতে না চাইলে ঠিকাছে।"

এবার ফাকমিদুল একটু নরম হয়, সে গোঁ গোঁ করে বলে, "না আমার এদিকটায় আসা হয় নাই। আমি আসলে অ্যাকাডেমিক লোক ছিলাম বরাবরই। ঘোরাঘুরি আমার তেমন পোষায় না। আমি স্কলার মানুষ, জ্ঞানের সৈকতে নুড়ি কুড়াই, বই পড়ি, ব্লগ লিখি, ব্লগ ইস্টাডি করি ... আমার কি মাদারিপুর শরিয়তপুরে ঘোরার টাইম আছে?"

ওমর ফারুক কিছু বলে না, সে নিজেও আগে শরিয়তপুর আসেনি কখনও। পদ্মার নিচে তার আসার প্রয়োজনও পড়েনি কখনও।

ফাকমিদুল বলে, "আচ্ছা, অনেক কিছু বলতে হবে নাকি? অল্প কথায় কাজ সারা যায় না?"

ওমর ফারুক বলে, "দ্যাখেন, অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। অল্প কথায় কাজ হলে আর বেশি কথা বলতে হবে না।"

ফাকমিদুল একটু চুপ করে থেকে বলে, "না ... মানে, পত্রিকায় লেখার তো ধরেন একটা মাপ আছে। এক হাজার শব্দ, দেড় হাজার শব্দ ... তো সেইজন্য ভাবছিলাম আর কি।"

ওমর ফারুক চেষ্টা করেও গলার স্বর থেকে কৌতুক মুছতে পারে না, "এটা তো আর শব্দ ধরে বিল করছেন না। ফ্ল্যাট রেট।"

ফাকমিদুল বিড়বিড় করে কী যেন বলতে থাকে।

রমণ সুমহান ইচ্ছা করেই এ দু'জন থেকে একটু দূরে হাঁটছেন। ওমর ফারুক ছেলেটা এর আগে একবার সামান্য বেয়াদবি করেছিলো তার সাথে, নিশ্চিন্দিপুরকে পচিয়ে দৈনিক কচুবনে পাঠানো একটা লেখা এক দিন ধরে রেখেছিলো সে। এরপর শাহজাদ সরীসৃপ ভাইকে বিচার দিতে হয়েছিলো। শাহজাদ সরীসৃপ ভাইয়ের ঝাড়ি খেয়ে তারপর লেখাটা ঢোকায় ওমর ফারুক। এই বেয়াদবিটা পছন্দ হয়নি তার। সব বেটাই নিজের গণ্ডির ভেতরে ক্ষমতা দেখানোর জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে।

আর ফাকমিদুলের ওপর তার ক্ষোভের কারণটা অন্য। শাহজাদ সরীসৃপ ভাইয়ের সাথে ইদানীং সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না, লোকটা কীভাবে যেন বুঝে ফেলেছে, ফেসবুকে নকল নামে অ্যাকাউন্ট করে রমণ সুমহানই শাহজাদ সরীসৃপের কবিতার কঠোর সব পোঁদপোড়ানো সমালোচনা করে যাচ্ছিলেন। রমণ সুমহান এসব ব্যাপারে যদিও খুব সাবধান থাকেন, কিন্তু কোথাও একটা কিছু গড়বড় হয়েছে নিশ্চয়ই। সেই থেকে দৈনিক কচুবন থেকে তার কাছে আর তেমন একটা লেখা চাওয়া হয় না ইদানীং। ফেসবুকে পল্লব মোহাকে টোকা দিয়েছিলেন তিনি, সেও আবোলতাবোল কথা বলে কেটে পড়েছে। অথচ তিনি জানেন, ইসলামাবাদ ব্লগে ঘনিষ্ঠতার সূত্রে পল্লব মোহাই মেহেরযৌবন সিনেমার কেসটায় ফাকমিদুলের কাছ থেকে লেখা চেয়ে নিয়েছে। পল্লব মোহার উচিত হয়নি এভাবে তাকে টপকে ফাকমিদুলের কাছে যাওয়ার। বিশেষ করে পল্লব যখন জানে, তিনি সিনেমালোচনা নিয়ে বেশ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামার পথে হাঁটছিলেন। নতুন কিছু কথা টুকে রেখেছেন তিনি ৎসিগমুন্ট বোমান আর জ্যাঁ বদ্রিয়ার লেখা থেকে, সেগুলো চমৎকার ফিট করে যেতো মেহেরযৌবনের সাথে। ডিরেক্টর মেয়েটা বেশ মোটা টাকা খরচ করছে বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে পত্রিকা আর টিভিতে সমর্থন আদায়ের জন্য, আর তারও কিছু টাকা দরকার ছিলো এই মুহূর্তে। পল্লব মোহাকে তিনি চটাতে চান না, বিপদে আপদে লোকটা ফিউশন চৌধুরী নিকে ভালোই সাপোর্ট দেয় তাকে, এই খ্যাপ ফসকানোর কারণে তিনি ফাকমিদুলের ওপর তাই যথার্থ ও বিশুদ্ধভাবে চটে আছেন।

হাঁটতে হাঁটতে চারজনের ছোট্টো দলটা চলে আসে দরবেশ খাঁর কুঁড়ের কাছে। একেবারে হতদরিদ্র লোকের ভিটা নয়, কিন্তু দৈন্যের ছাপ সুস্পষ্ট। একটা হালকা কান্নার সুর ভেসে আসছে দূর থেকে, বাতাসে আগরবাতির বাসি ঘ্রাণ।

শয়তানও বুঝবে, কেউ মারা গেছে এ বাড়িতে।

হেনা নামের মেয়েটির ভাগ্য সর্বার্থেই খারাপ। প্রতিবেশী মাহবুব দীর্ঘ সময় ধরেই নিশ্চয়ই উত্ত্যক্ত করে আসছিলো মেয়েটিকে, সেদিন রাতে সে আর তর সহ্য করতে পারেনি। হেনা কেন বের হয়েছিলো রাতে বাড়ি থেকে? প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে নিশ্চয়ই। সালিশে যদিও মাতবররা বলেছে অন্য কথা। কোনো ধর্মভীরু বালেগ মেয়ে কেন যাবে এত রাতে মাহবুবের নাগালের ভেতরে? তার দিলে ময়লা ছিলো। মাহবুবের গামছাটার মতোই ময়লা, যেটা দিয়ে সে হেনার হাত আর মুখ বেঁধে তাকে ধর্ষণ করেছিলো।

রমণ সুমহানের মাথাটা একটু ঝিমঝিম করে ওঠে দৃশ্যটা কল্পনা করতে গিয়ে। একটা গল্প কি হয় না এ নিয়ে? পরিত্যক্ত একটা ঘরে এই বিপন্না কিশোরীকে বেঁধে প্রবল ধর্ষণে লিপ্ত এক কাপুরুষ। মেয়েটার মুখের বাঁধন হঠাৎ ছুটে গেলো, সে সারা শরীরের শক্তি ফুসফুসে সঞ্চয় করে প্রাণপণে চেঁচিয়ে উঠলো, "বাঁচান! আব্বা গো, বাঁচান!"

মাহবুবের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কী হবে? সে মেয়েটার ভেতর থেকে নিজেকে বের করে আনবে? নাকি গলা টিপে ধরবে হেনার? নাকি আবার গামছা দিয়ে মুখটা ভালোমতো বাঁধার চেষ্টা করবে? কিন্তু হেনা ততক্ষণে এই পশুর হাত থেকে রক্ষার একমাত্র অস্ত্রটি আঁকড়ে ধরেছে, সে তীব্র, তীক্ষ্ণ, অভ্রভেদী আর্তনাদে চামটা গ্রামকে জাগিয়ে তুলেছে, "বাঁচান! আল্লার দোহাই লাগে, বাঁচান!"

রমণ সুমহান কল্পনায় দেখতে পান নিদ্রিত ভূমিহীন ক্ষেতমজুর দরবেশকে। দরবেশের ঘুমের প্রলেপ ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসতে শুরু করে, স্বপ্ন থেকে তন্দ্রায় নেমে সে শোনে পরিচিত কণ্ঠের আর্তনাদ। পাশের ঘরে খচমচ করে শব্দ হয়, তার ছেলে ইকবাল জেগে উঠে বলছে, হ্যানায় চিল্লাইতেছে না? অ মা, হ্যানায় চিল্লাইতেছে তো? হ্যানায় কই?

এরপর আরো কয়েক মিনিট লাগে তাদের লাঠি হাতে বের হতে। ওদিকে মাহবুব তার শিশ্নের যাবতীয় রক্ত হারিয়ে ন্যুব্জ, সে দ্রুত উঠে লুঙ্গি ঠিক করে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। কিন্তু মাহবুবের খরভাষ স্ত্রী শিল্পীও ঘুম থেকে উঠে গেছে, সে উঠানে বেরিয়ে এসেছে একটা দা হাতে।

মাহবুবের কলেজপড়ুয়া ছোটো ভাই নিপু বুঝতে পারে ঘটনা কী হয়েছে, সে ঘরে ঢুকে আলুথালু হেনার গালে প্রকাণ্ড এক চড় কষায়। হেনা তখন ছেঁড়া সালোয়ার কোমরে জড়ো করে বিছানা ছেড়ে ওঠার চেষ্টা করছে, তার ঊরুমূলে ছোপ ছোপ রক্ত, নিপুর চড় খেয়ে সে পড়ে যায়। তার কণ্ঠ ছিঁড়ে আরেকটা চিৎকার বেরিয়ে আসে, "আব্বা! আব্বা গো!"

এরপর কী হয়? দরবেশ আর ইকবাল কি লাঠি আর দা হাতে ঢুকে পড়ে মাহবুবদের ভিটায়? তারা কি দেখতে পায়, তাদের কন্যা ও বোন কীভাবে একটি কাপড়ের স্তুপের মতো পড়ে আছে ঐ অন্ধকার ঘরের মেঝেতে, তাকে লাথি মারছে শিল্পী, হিসহিস করে বলছে, হ্যাটামারানি খানকি, এই আছেলে তোর মনে? বাজারে গিয়া ঘর নিতে পারিস না?

রমণ সুমহান প্রবল উত্থান টের পান নিজের অন্দরে। গল্প লেখা যায় হেনাকে নিয়ে। শক্ত একটা গল্প। ৎসিগমুন্ট বোমানের তরল ভয়ের তত্ত্বটা ওখানে ফিট করে দেয়া যাবে অনায়াসে। এটা শুধু এক ধর্ষণের গল্পই নয়, বরং ধর্ষণ পরবর্তী ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের গল্পও বটে। ধর্ষণ মানেই সালিশ, পাংশু মুখে বসে আছে হেনা, তার সামনে প্রবল সব সমাজপতি, মাহবুব নিখোঁজ। ঐ সালিশের অংশটুকু তিনি পুরো মুনশিয়ানায় ফুটিয়ে তুলবেন। দেখাবেন ধর্ষণ কী করে একটি ব্যক্তিক অপরাধের পাশাপাশি একটি সামাজিক সমাভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি মানুষের ভূমিকা আছে মাহবুব আর হেনার মধ্যে ঘটে যাওয়া যৌন সংস্পর্শের সাথে। এই ভূমিকাগুলো আসে না গল্পে। শুধু ধর্ষক আর ধর্ষিতার চোখ দিয়ে ধর্ষণকে দেখার সময় পার করে এসেছে পৃথিবী। একটা গল্প হতেই পারে হেনাকে নিয়ে।

দোররার ঘায়ে হেনার অসুস্থ হয়ে পড়া, তারপর তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে গিয়েও সমাজপতিদের চাপে আবার ফিরিয়ে আনা, তারপর অবস্থার অবনতি হলে আবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, এবং সেখানে হেনার মৃত্যু নিয়ে তিনি আপাতত কিছু লিখবেন না। টু মাচ মেলোড্রামা রুইনস আ গুড প্লট। মেলোড্রামা ছেঁটে বাকিটুকুকে তিনি কয়েকমাস সময় নিয়ে সাজাবেন। ধর্ষণ পরবর্তী মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ড এই গল্পে একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। তাছাড়া ওটা ৎসিগমুন্ট বোমানের তত্ত্বের সাথে যায়ও না। ভালো একটা থিওরি শুধু শুধু ফ্যাক্টের মুখে ফেলে পচিয়ে কী লাভ?

ইদ্রিস ফকির হাঁক দেয়, "ইকবাল, আছো নেহি ঘরে?"

দরজা খোলার পর ভেতরে একটা মলিন কুপির আলো উঠানে এসে পড়ে কাঁপা পায়ে, লম্বাচওড়া এক যুবকের দেহরেখা সে আলোর পথ আটকে দাঁড়ায়। "ইদ্রিস কাকা?"

ইদ্রিস ফকির সোৎসাহে বলেন, "এনারা সাম্বাদিক। ঢাকা থিকা আয়েছেন। তগো লগে কথা বলবেন।"

ইকবাল সতর্কভাবে বলে, "আব্বারে ডাকপো?"

ইদ্রিস ফকির সস্নেহে হাসে টেনে টেনে। "আবার দরবেশ ভাইরে টানবি ক্যা এর মধ্যি? তুই ত বাড়ির বড় ছাওয়াল, তোর সাথে কথা কলিই হবেনে।"

ইকবাল মলিন গলায় বলে, "সালামালিকুম।"

ফাকমিদুল এগিয়ে এসে কাশে। "ওয়ালাইকুম সালাম। আমি ফাকমিদুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তুমি নিশ্চয়ই হেনার ভাই? ... নাইস টু মিট ইউ। কীসে পড় তুমি?"

ইকবাল সন্দিগ্ধ গলায় বলে, "আমি পড়ি না।"

ফাকমিদুল বলে, "দ্যাটস ব্যাড। আচ্ছা, তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই আমরা। তুমি নিশ্চয়ই জানো, অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন দোহে তৃণসম দহে? এখন দ্যাখো, আমরা এই ঘৃণার রাজনীতি আর কতদিন করে যাবো?"

ইকবাল বলে, "আমরা তো ইদ্রিস কাকারে কইয়ে দিছি বিচার চাই। টাহাপয়সা দিয়ে চুপ করবা ক্যা কাকা? আমার বুনের জানের এট্টা দাম নাই?"

ফাকমিদুল একটা হাত উঁচিয়ে ধরেন, "এগজ্যাক্টলি! কিন্তু দাম দিয়ে কি আর জান পাওয়া যায়? দ্যাখো, যা হয়ে গেছে, সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক, কিন্তু তোমাকে সামনে আগাতে হবে।"

ওমর ফারুক বলে, "দ্যাখো ইকবাল, আমরা এই খবরটা শুনে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছি। আমি জানি, তোমার বোন আর মাহবুবের মধ্যে ভালোবাসাটা অপরাধী ...।"

ইকবাল গর্জে ওঠে, "কিসির ভালবাসা? ওইথি জোর কইরে আমার বুনের ইজ্জত কাড়ছে, তার শ্লেলতাহানি করছে, তারপর সগগলে মিলে তারে মাইরে খুন করছে। হাসপাতালে নিয়ে গেছেলাম, ওরা কইছে খবরদার নিবি না, ফিরেইয়ে আন!" তার গলা বাষ্পরুদ্ধ হয়ে আসে।

রমণ সুমহান খুব সতর্ক চোখে দেখেন, ইকবালের হাতের নাগালে কোনো লাঠি কিংবা দা আছে কি না। ছোটো দা ছুঁড়ে মারলে খুব বিপজ্জনক অস্ত্র হয়।

ওমর ফারুক বলে, "না ইকবাল, তুমি ভুল বুঝছো। মাহবুব আর হেনার মধ্যে ভালোবাসা হতেই পারে। এখন তুমি শোকাতপ্ত, তাই বুঝতে পারচো না, ধর্ষক আর ধর্ষিতা, নিহত ও হত্যাকারী কীভাবে পরস্পরকে ভালবাসতে পারে? এর উত্তর আছে আমার কাছে। প্রথমত, উভয়ের মন থেকে ঘটনাটির স্মৃতি মুছে ফেলে যুদ্ধ ও সংঘাতের বাইরের জমিনে তাদের নিয়ে যেতে হবে। হেনা তো মারাই গেল, এখন তার অভিজ্ঞতাটা এবং ইতিহাসটাকেও যদি নাই করে দিতো পারো, তাহলে সেই শূন্য সময়, সেই ফাঁকা স্পেসে তাদের মিলবার একটা সুযোগ থাকলেও থাকতে পারে।"

ইকবাল বিভ্রান্ত কণ্ঠে বলে, "আফনি কি কতিছেন বুঝতিছি ন্যা। কিসির ভালবাসা? কি কতিছেন আফনি এগলা?"

ওমর ফারুক থামে না, সে হাত তোলে ট্রাফিকের পুলিশের মতো। তার কপালে জ্বলে ওঠা ট্রাফিকের লালবাতি দেখে ইকবাল থেমে যায়। ওমর ফারুক বলে চলে, "এই ভালবাসার সাক্ষী হতে হলে দর্শকদেরও সব ভুলে যেতে হয়, চলে যেতে হয় ইতিহাস, ভূমি, মানুষ আর স্মৃতির বাইরের সেই শূন্যস্থানে। কিন্তু স্মৃতি, যন্ত্রণা, ভয় ও ঘৃণা দ্বারা ভারাক্রান্ত একটি গ্রামে কীভাবে তা সম্ভব? সম্ভব নয় বলেই ভালবাসাটা হয় অপরাধী এবং পাত্রপাত্রীদের হতে হয় অভিযুক্ত। তারা হারিয়ে যায় এবং প্রত্যাখ্যাত হয়। যেমন হয়েছে মাহবুব আর হেনা। তাদের নিষিদ্ধ প্রেম হওয়ার আরেকটি পথ হলো, সময়কে উল্টোদিকে প্রবাহিত করে খোদ নির্যাতনের ঘটনাটিকে অতীতেই রদ করা, ঘটতে না দেওয়া। কিন্তু এ দুটোর কোনোটাই সম্ভব নয়। সম্ভব একমাত্র ভবিষ্যতে, যখন উভয় পক্ষ একটা রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গিয়ে নতুনভাবে মানবিক বন্ধন নির্মাণ করবে, সৃষ্টি করবে নতুন ইতিহাস এবং নতুন বাস্তবতা। তাই ইকবাল, তোমাকেই এখন এগিয়ে আসতে হবে রিকনসিলিয়েশনের জন্য। ঘৃণা নয়, পরস্পর সমঝোতার ভিত্তিতে হাঁটতে হবে নতুন পথে।"

ইকবাল চিৎকার করে ওঠে, "আফনি এইগুলি কী কতিছেন?"

ফাকমিদুল এগিয়ে আসে। "থামেন ফারুক, আপনি বেশি প্যাচান সব সময়। ... ইকবাল, শোনো। তুমি দুনিয়ার অনেক কিছুই বোঝো না। আমরা ঢাকায় থাকি, গবেষণা করি, অনেক কিছু জানি। যা বলি মন দিয়ে শুনে যাও শুধু। তোমার প্রতিক্রিয়ার যে গড় বৈশিষ্ট্য, তাতে মূলত আত্মীয়তার চেতনার বিপরীতে উল্লম্ব অবস্থানে রেখে ঘটনাটি বিচার করা হয়েছে। আমি হেনার মৃত্যুর ঘটনাটি বিচার করতে চাই বাংলাদেশের অন্যান্য সামাজিক সঙ্কটেরসঙ্গে আনুভূমিকভাবে। তার সঙ্গে মেলাতে চাই জাতি-রাষ্ট্র ধারণার। জাতি-রাষ্ট্র যদি বেনেডিক্ট এন্ডারসনের ভাষায় একটি ইমাজিনড কমিউনিটি অথবা গায়ত্রী স্পিভাকের ভাষায় আর্টিফিশিয়াল কনস্ট্রাক্ট হয়ে থাকে, তবে তার কল্পিত ঐক্য ও সংহতির জন্য লাগাতারভাবে একটি আদর্শ জাতীয়তার অবয়ব বা বৈশিষ্ট্য গড়ে তুলতে হয় এবং স্টুয়ার্ট হলের মতে কিছু রেপ্রিজেন্টেশন-পদ্ধতির মাধ্যমে এই নির্মাণের কাজটি করতে হয়, সেই অবয়ব বা বৈশিষ্ট্য ধরে রাখার জন্যও ...।"

এইবার দরবেশ খাঁ বেরিয়ে আসে ঘরের স্বল্পালোকিত আয়তন ছেড়ে। ছেলের মতো সেও দীর্ঘাঙ্গ, কিন্তু কৃশ। ফাকমিদুল দুই পা পিছিয়ে যায়।

ভাঙা গলায় দরবেশ খাঁ বলে, "আমরা কিছু চাই ন্যা। আমার মাইয়েডারে মাইরে ফেলাইছে, তার বিচার চাতিছি খালি। এট্টা কচি মাইয়ে, পয়সা ছেলো না ভাল খাওয়াতি পরাতি পারতাম না, ইস্কুলে দেছেলাম কুলোতি পারলাম না। কিন্তু সে তো দোষ করে নাই কোনো। তারে এম্বালা বেইজ্জত কইরে সগগলের সামনে বিচার কইরে আবার মাটিতি ফেলাইয়ে দোররা মারলো। আফনারা বড় শহরের লোক, বিচার করেন।"

রমণ সুমহান এবার একটা সিগারেট ধরান। ইকবাল নিরুপায় মথের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় সেই সিগারেটের আগুনের দিকে।

রমণ সুমহান বলেন, "আপনার আরেকটা মাইয়া আছে না? তার তো একটা গতি করা লাগবে, নাকি?"

দরবেশ খাঁ কাঁপা গলায় বলেন, "হ আমার ছোড মাইয়েডা ... সারাদিন খায় নাই কিছু, বুবুর নেইগে কানতি কানতি শ্যাষ মাইয়েডা ...!"

রমণ সুমহান কথা বাড়ান না। তিনি কড়াইল বস্তিতে গবেষণার সময় প্রচুর ঝগড়া কাছ থেকে দেখেছেন, মিটমাটের ব্যাপারে তিনি ভালো বোঝেন, বিশেষ করে কিছু ঝগড়া যেখানে তিনি নিজেই লাগিয়ে দিয়েছিলেন গবেষণার অংশ হিসেবে। তিনি সংক্ষেপে বলেন, "আপনার কপাল খারাপ দরবেশ ভাই। আপনার মেয়ের নামে অনেক কথা চইলা গেছে বিভিন্ন পেপারে। তারা পয়সা খাইয়া কী না কী লেখে কোনো ঠিক নাই। আমরা আপনার দুঃখ বুঝি। আমরা আপনারে অনুরোধ করতেছি, মামলা মকদ্দমায় যাইয়েন না। মাহবুব তো আর দোররা মারে নাই হেনারে। মারছে? সে একটা বলদ, ভুল কইরা জ্বিনের আছরে একটা কাম কইরা ফালাইছে। সে তো আপনার আত্মীয়ই হয় একরকম। তো ঘরে ঘরে এইসব মকদ্দমা কইরা কি টিকতে পারবেন? করেন তো খ্যাতের বদলির কাম। এদের সাথে বিবাদ কইরা পারবেন না। তারচেয়ে মাহবুব গ্রামে ফিরলে জুতা মাইরেন। যা-ই করেন, মাইয়া ফিরত পাইবেন না। ছোটো মাইয়ার পড়াশোনা বিয়াশাদির কিছু খরচাপাতি দিবে তারা, ভালমতো ব্যবস্থা দেখেন। ফারুক, ফাকমিদুল, চলেন আমরা যাই। আসি, স্লামালিকুম।"

ফাকমিদুল বলে, "এই প্রতিশোধ অথবা প্রতিরোধের ডাইকোটমি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে, ধূসর জায়গাগুলোকে বিবেচনায় আনতে হবে ...।"

রমণ সুমহান হ্যাঁচকা টান দেন তার হাত ধরে, "চলেন তো!"

ইদ্রিস ফকির মিহি গলায় আরো কয়েকটা বাক্য বিনিময় করে দরবেশের সাথে। রমণ সুমহান জোরে পা চালান।

ওমর ফারুক চুপ করে থাকে, ফাকমিদুল বক বক করে যায়, "এই ব্যাপারটা বুঝতে হবে, এই ডিসকার্সিভ আলোচনাটা হওয়া জরুরি। ধর্ষণ হলেই লোকজন একেবারে পাগল হয়ে যায়। জাতীয়তাবাদী জঙ্গি দিয়ে দেশটা ছেয়ে গেছে, কেউ একটু ডিকনস্ট্রাক্ট করতে চায় না ধর্ষণের টেক্সটটাকে ...।"

ওমর ফারুক বলে, "ফাকমিদুল ভাই, কালকে ডিসির অফিসের সামনে বক্তৃতা দিতে হবে কিন্তু। দেইখেন, গলায় কাশি যেন বসে না যায়!"

ফাকমিদুল চুপ করে যায়।

ইদ্রিস ফকির কিছুক্ষণ পর জোর পায়ে হাঁটতে হাঁটতে এসে ধরে ফেলে তাদের । উৎফুল্ল গলায় বলে, "স্যার আফনারা অনেক কামেল আদমি! কদমবুছিটা কইরে ফেলাবো স্যার?"

রমণ সুমহান তরল গলায় বলেন, "সালামি দিমু না কিন্তু! দেড় লাখ পুরাটাই দিতে হইব।"

ইদ্রিস ফকির খুশির হাসি হাসে।

মাইক্রোবাস নাক ঘুরিয়ে চামটা গ্রাম ছেড়ে চলে যায় অন্য পৃথিবীর দিকে। সেই পৃথিবীতে একটা পাঁচশো সিসি নরটন মোটরসাইকেলের একমাত্র সিলিণ্ডারে কাঁপন তুলে আর্জেন্টিনার আকাশের নিচে ছুটে বেড়ায় হবুডাক্তার এরনেস্তো। আর দৈনিক কচুবনের মাইক্রোবাসে চড়ে প্রাক্তন বাম ওমর ফারুক হিসাব কষে, পরশুদিন তাকে যেতে হবে খাগড়াছড়ি, মাটিরাঙা উপজেলার পোড়াবাড়ি গ্রামে এক ধর্ষিতা আদিবাসীর ধর্ষকের সাথে রিকনসিলিয়েশনের কাজে।


Comments

অতিথি লেখক's picture

অনেক অনেক কিছু বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এতটাই ইমোশনাল হয়ে গেছি যে কিছুই আর বলতে পারছি না... শুধু পিশাচ শ্রেণীর মানুষ গুলোর জন্যে তীব্র ঘৃণা রেখে গেলাম...

"চৈত্রী"

সায়ন (অন্ধ তীরন্দাজ)'s picture

গুল্লি

১জন পাঠক's picture

অসম্ভব ভালো লিখেছেন। এক কথায় অনবদ্য।বহুদিন পরে একটা ভালো লেখা পড়লাম। রবীন্দ্র পরবর্তী যুগে এধরনের লেখা আর আগে আসে নি। অনবদ্য...অসাধারণ... পড়তে পড়তে চোখে পানি এসে গেল। শুধু যে প্রাসঙ্গিক ও সময়উপযোগী লেখা তাই নয় একেবারে সমস্যার মূলে কুঠারাঘাত করেছেন। লেখকের বক্তবের সাথে পুরোপুরি একমত। লেখাটিকে স্টিকি করা হোক....

হিমু's picture

গুড় জব কইলেন না যে?

নিলয় নন্দী's picture

তাহলে আমি দিলাম
(গুড়)

শুভাশীষ দাশ's picture

Quote:
অসম্ভব ভালো লিখেছেন। এক কথায় অনবদ্য।বহুদিন পরে একটা ভালো লেখা পড়লাম। রবীন্দ্র পরবর্তী যুগে এধরনের লেখা আর আগে আসে নি। অনবদ্য...অসাধারণ... পড়তে পড়তে চোখে পানি এসে গেল। শুধু যে প্রাসঙ্গিক ও সময়উপযোগী লেখা তাই নয় একেবারে সমস্যার মূলে কুঠারাঘাত করেছেন। লেখকের বক্তবের সাথে পুরোপুরি একমত। লেখাটিকে স্টিকি করা হোক....

গুগল সার্চ

কৌস্তুভ's picture

দেঁতো হাসি

অতিথি লেখক's picture

'ব্লগিং কমেন্ট মেড ইজি' পাওয়া যায় নাকি!

অপছন্দনীয়'s picture

দেঁতো হাসি

হাসিব's picture

নিচে একটা মন্তব্যেও দেখলাম দোররা না কী যেন মারার আহবান জানাচ্ছে কে যেন। এগিলি কাঁচা খেলা। সচলায়তনে পুরাণ পাপী কিন্তু কম নাই। খিয়াল কৈরা।

কৌস্তুভ's picture

যখন ওই মন্তব্যটা করেছিলাম, তখন জানতাম না যে ছেলেটার নাম আসলেই মাহবুব। আর ঘটনাটা নিয়ে, সত্যিই কিছু বলার নেই...

অতিথি লেখক's picture

Quote:
সে সারা শরীরের শক্তি ফুসফুসে সঞ্চয় করে প্রাণপণে চেঁচিয়ে উঠলো, "বাঁচান! আব্বা গো, বাঁচান!"

আমরা কখনই এই চিৎকারের ভয়াবহতা অনুভব করতে পারব না। একজন বাবার কানে যখন এই আর্তনাদ যায়, তার মনের অবস্থা কী হতে পারে? শেষের প্রশ্নটা আবার পুরুষতান্ত্রিক চোখে দেখা হয়ে গেল বুঝি!
-রু

নাদির জুনাইদ's picture

এই গল্পটার অনেক দরকার ছিল।

আমিই সে's picture

ফারুক ওয়াসিফকে প্রথম চিনি ম্যালাদিন আগে। শামসুন্নাহার হলে রাতের আধারে পুলিশ ঢুকে তান্ডব চালিয়েছে। ভিসি আনোয়ার কিংবা জানোয়ার চৌধুরী পদত্যাগের দাবীতে ছাত্র বিক্ষোভ তখন তুঙ্গে। সেই সময়ে ফারুক ওয়াসিফ জামাতপন্থী প্রোভিসি আফম ইউসুফ হায়দারকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন। কৌশলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে মিশে মাইক্রোফোন দখল করেন এবং তার বিখ্যাত রিকনসিলিয়েশনের থিওরি কপচাতে থাকেন। আমি নিজে সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। ব্লগের কেউ কী আছেন সেই সময়কার? তারা হয়তো আরও ভালও বলতে পারবেন। বিশেষ করে যদি তারা রোকেয়া হলের সামনে, যে জায়গাটিকে মুক্তঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই জায়গায় ওইদিন উপস্থিত থাকেন।

দয়া করে আপনারা কী একটু মুখ মুখবেন?

এই ছাত্র আন্দোলন দমাতে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনেক পয়সা হাওয়ায় উড়িয়েছিলেন। টাকা দিয়েও ছাত্রদলকে দিয়ে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছিল না। তারা পরিস্থিতি না বুঝে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্টের বাইরে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছিল। তখন ফারুক ওয়াসিফ গং মাঠে নামেন। অনেকখানি সফল হন।
ফারুক ওয়াসিফ এখনো তার কাজটিই করে যাচ্ছেন। ভাড়া খাটা। একটি তথ্য আগাম না জানালেই নয়, ফারুকের এখন ভরা মৌসুম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে ছোটবড়ো অনেক দূর্বলতা রয়ে গেছে। যদ্দুর জানি, জামাত এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ আশাবাদী। জামাতের একটা বড় অংশ এই চলমান বিচার কাজের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসার স্বপ্ন দেখছে। ভাড়া খাটা বুদ্ধিজিগালোদের তাই এখন বেশ ব্যস্ততা। ফারুকের আসল খেলা দেখার জন্য আরেকটু ধৈর্য্য ধরতে হবে সবাইকে।
তবে ফারুক কেবল নিজের একক চেষ্টায় ফারুক হননি। এর দায় আমাদের সবাইকে কমবেশি নিতে হবে। আমরাই ফারুককে মাথায় উঠিয়েছি। বড় বড় প্ল্যাটফর্মে জায়গা করে দিয়েছি। সেইদিনের ঘটনার বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীকে আমি চিনি, যারা পরবর্তীতে ফারুকের সেই অপকর্মের কোন প্রতিবাদ করেননি বরং অনেকক্ষেত্রে সহাবস্থান বজায় রেখে চলেছেন।

হিমু's picture

জনাব, আপনারাই যেখানে নিজের নামে বলার সাহস রাখেন না, বাকিরা কেন মুখ খুলতে এগিয়ে আসবে? তা আপনি কোন জন, বিল্লাহ না হাফিজ?

অতিথি লেখক's picture

অসাধারণ লেখা...

শুধু আপনার লেখা পড়ার জন্যই প্রতিদিন একবার করে সচলে ঢুকি...

রমণ,ওমর,ফাকমিদুলের মত মানুষগুলার মুখে মুইতা দেয়া উচিত... এটাই ওদের জন্য আদর্শ পানীয়...

হিমাগ্নি

হাসিব's picture

Quote:
শুধু আপনার লেখা পড়ার জন্যই প্রতিদিন একবার করে সচলে ঢুকি...

হেহ হেহ হেহ ... শয়তানী হাসি

রোমেল চৌধুরী's picture

যুগপৎ ্বিবেকাহত, ক্ষুব্ধ ও চমৎকৃত হলাম!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

সবুজ পাহাড়ের রাজা's picture

কি বলবো বুঝতেছি না ।
মানুষ হিসেবে নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে-ঘেন্না হচ্ছে নিজের প্রতি ।
অসহায়দের জন্য বাংলাদেশ নরক ।

অতিথি লেখক's picture

খুবি ভালো লাগলো । অসাধারণ হয়েছে লেখাটা।
-----------------
sad song

নাশতারান's picture

গুরু গুরু

বগা, হগা সব চিনলাম।

ইতিহাসটাকেও যদি নাই করে দিতো পারো- এখানে দিতো > দিতে হবে
ভালবাসা > ভালোবাসা
প্যাচান > প্যাঁচান
সঙ্কটেরসঙ্গে > সংকটের সঙ্গে

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

অমিত's picture

গুরু গুরু

অনার্য সঙ্গীত's picture

গুরু গুরু

হিমু ভাই, অন্তর থেকে আপনাকে প্রণাম ঠুকলাম।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

শুভাশীষ দাশ's picture

ফাহমিদুল হক 'মেহেরজান' প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে খেদ প্রকাশ করছেন প্রায়শ। একটা তথ্য: বেনিডিক্ট এন্ডারসনের একটা বই আছে। নাম 'ইমাজিনড কমিউনিটিস্‌'।

এদিকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের ৬-৭ তারিখ উল্লেখ করে ফাহমিদুলের আরেকটা লেখা পাওয়া যায় অনলাইনে। বেনিডিক্ট, স্পিভাক, স্টুয়ার্ট হল, জয়যাত্রা, মাটির ময়না, মুসলমানিত্ব- আরে এগুলো তো খুব পরিচিত লাগছে। খালি ডিসকোর্স, ন্যারেটিভ, কাউন্টার ন্যারেটিভ ইত্যাদি নাই। ফাহমিদুল দুই বছুরের পুরানো এই লেখায় মেহেরজানকে প্রবিষ্ট করে আর হালকা এটাসেটামিক্স করে আলুতে ছাপিয়ে দিয়েছেন। রুবাইয়াত কিংবা মতি, আপনারা একে যা পেমেন্ট করছেন সেটা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতে পারেন।

হিমু's picture

ফিউশন ফাইভ ওরফে পল্লব মোহা আশা করি এরপর ফাকমিদুলের দোকান থেকে চানাচুর কিনলে একবার গুগুল মেরে দেখবে সেটা বাসি চানাচুর না টাটকা। বুদ্ধিবৃত্তির এই দীনতা নিয়ে ফাকমিদুল হক ফুকো কীভাবে শিক্ষকতা করে যাচ্ছে, আমি বুঝতে পারি না। সিতারা পারভীনের ডিপার্টমেন্টে এইসব ফাঁপা কুষ্মাণ্ডেরা এখন গড়াগড়ি খাচ্ছে কপালে "শিক্ষক" ট্যাগ লাগিয়ে। এই লজ্জা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, এ্‌ই লজ্জা আমাদেরও। দুইদিন পর মনে হয় ডিপজলও ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করবে, যা দিনকাল পড়সে!

স্বপ্নহারা's picture

- শিক্ষকদের এত্ত মহান ভাবেন কেন? জার্মানির জ্ঞানী প্রফদের দেখে বুয়েটের হিস্টরি ভুইলা গেছেন? আমার ত ধারণা, ফাকমিদুলের ক্লাসে জীবনে উন্নতি করতে কী কী শব্দ জানতে হয়, কেম্নে জনসমুখে হাগা বালু দিয়া ঢাকতে হয়, কেমনে রেগুলার ডিগবাজি খাইতে হয়, আবার কেমনে ধরা পড়লে শব্দরাজি দিয়ে সরলরেখাকে ১৩১ ডাইমেনশনে নিয়া গিয়া পেচগি লাগাইতে হয়...পুলাপাইন এইসব পাঠ বেশ ভালভাবে শিখতে পারে!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

অতিথি লেখক's picture

নতুন ভার্শানটা পড়িনি, তবে আপনার দেয়া লিঙ্ক ধরে পুরনোটাই পড়লাম। আমি এখনো ভেবে পাচ্ছি না বেনেডিক্ট এন্ডারসন বা গায়ত্রী স্পিভাককে উনি কিভাবে টেনে নামালেন গনহত্যা আর গনধর্ষন জায়েজ করার কাজে। পুরাই মজহারীয় সিদ্ধির সরবৎ। ভালো লাগছে দেখে যে মজহার উপযুক্ত সাগরেদ রেখে যাচ্ছেন তার অসম্পূর্ণ কাজ চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

মনমাঝি

ফাহিম হাসান's picture

লেখা গুল্লি

রমণ সুমহান ?? চিনলাম না। চিন্তিত

আমি ধোঁয়ার মধ্যে আছি। ফাহমিদুল হকের যোগাযোগ পত্রিকার প্রথম সংখ্যা পড়ে ভালো লেগেছিল। সেই মুগ্ধতাবোধ কোথায় লুকাই এখন? তা ছদ্মবেশটা নিখুঁত ছিল বটে চোখ টিপি

ইশতিয়াক জিকো'র ব্লগে ঢুঁ মারতাম প্রায়ই। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (প্রথমটা দেখেছি, 720 degree ইউটিউবে নেই) বিষয়ক খসড়া, টুকরো কথায় তাকেও মুখচেনা মনে হত।

মুনেম ওয়াসিফ আমার প্রিয় আলোকচিত্রীদের মাঝে অন্যতম। তিনিও বললেন মেহেরজানের সমালোচকরা ফ্যাসিস্ট। তার স্ত্রী এই চলচ্চিত্রের মূল অভিনেত্রীদের একজন।

লেখক/ শিল্পী/ চলচ্চিত্র নির্মাতা/ আলোকচিত্রীদের মত প্রকাশে ভিন্নতা থাকতেই পারে। কিন্তু তাদের লেখা পড়ে, ছবি দেখে মনে অন্যরকম একটা ধারণা তৈরি হয়। অনুমান করে নেই তাদের কলম-ক্যামেরা ঝলসে উঠবে কপটতার বিরুদ্ধে। কিন্তু তারা স্রেফ কাউন্টার ন্যারেটিভ খোঁজে। আফসোস।

অমিত's picture

Quote:
রমণ সুমহান ?? চিনলাম না।

হায় হায় হায়

ফাহিম হাসান's picture

উনি আর দ্দীণূ তাহলে একই ব্যাক্তি! হুমমম।

গুগল করে মজার একটা ভিডিও পেলাম। হো হো হো

হাসিব's picture

Quote:
তিনিও বললেন মেহেরজানের সমালোচকরা ফ্যাসিস্ট।

বরবাদ মগবাজারকে দিয়ে ছবির এক্সিবিশন ওপেন করানো ফটুগফুর মেহেরজানপুন্দকদের ফ্যাসিস্ট বলবেন এইটাতে অবাক হবার কিছু নাই।

আর ইশতিয়াক জিকোর কোন বিষয়ে অবস্থান কোনকালেই কী ছিলো?

ফাহিম হাসান's picture

Quote:
বরবাদ মগবাজারকে দিয়ে ছবির এক্সিবিশন ওপেন করানো ফটুগফুর মেহেরজানপুন্দকদের ফ্যাসিস্ট বলবেন এইটাতে অবাক হবার কিছু নাই।

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

দুই + দুই করতেসি। আগে বলেন তো কোন প্রদর্শনীটা - পাট নাকি সুন্দরবনে নোনা কান্না?

ইশতিয়াক জিকোর প্রথম কাজ ছিল বুয়েটের সনি হত্যা পরবর্তী অবস্থার চিত্র নিয়ে। ভালো লেগেছিল। মনে হয়েছিল যুক্তিবাদী ও সংবেদনশীল হবেন এর নির্মাতা। কেন মনে হয়েছিল, জানি না।

এদের কাউকেই ব্যক্তিগত ভাবে চিনিনা। শুধু কাজ দেখেছি।

নিভৃত_সহচর's picture

এই ঘটনা পড়ে এম্নিতেই রাগে ক্ষোভে স্তব্ধ হয়ে ছিলাম আর আপনার লেখাটি পড়ে মেজাজ আরো খিঁচড়ে গেলো। এইসব বুদ্ধিবেশ্যাদেরকে ধর্ষণ করে তারপর দোররা মারা উচিত। টাকার বিনিময়ে তারা সম্ভবত দুটি জিনিসই স্বেচ্ছায় বরণ করেন কিন্তু টাকা ছাড়া একবারেই এই শাস্তির শিকার হলে হয়তো এই অর্থলোভী পিশাচদের সামান্য বোধোদয় হবে। সুশীল সমাজের নামের আড়ালে এরা যে নষ্টামি করে বেড়াচ্ছে, এদেরকে অশ্লীল দাওয়াই দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় দেখিনা।

হাসিব's picture

ভাইসাহেব কী রিভার্স নাকি হাচাই? আমি দিব্যচোখে রমণ সুমহানের পোস্ট দেখতে পাচ্ছি যেখানে উনি কাইকুই করছেন তাদের ধর্ষণ করে দোররা মারার আয়োজন সচলায়তনে হচ্ছে এই অভিযোগ করে।

নিভৃত_সহচর's picture

বুঝলামনা ইয়ে, মানে... । রিভার্স মানে কি বুঝাইলেন হাসিব ভাই? যা মনে আসছে তাই লিখসি।

হিমু's picture

দ্দীণূ এইবার সচলের বিরুদ্ধে চান্দা তুলে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনবে আপনার পোস্টের স্ক্রিনশট মেরে। দুয়ারে দুয়ারে কেন্দে জারেজার হবে, যে সচলের ফ্যাসিস্টরা তার মিশেল ফুকোতে কাউন্টার নেরেটিভ দিতে চায়।

ধুসর গোধূলি's picture

হ। এমনিতেই তো দেখি ফাহমিদুল হক জনে জনে সচলের পোস্টের লিংক দিয়ে বেড়ায়। এরে তারে ধরে বলে, 'ভাইসাব, এর বিচার করেন।' ভ্যাবদা রইচু আর দ্দীণূ তো এখনও অমাবস্যা-পূণ্যিতে পিছনে হাত বুলায়। চান্স পাইলেই ফুকো'র ফাঁক দিয়া সেই কাহিনি মজলিসে বয়ান করে আর ন্যাংটি'র খুট দিয়া চোখ মুছে।

নিভৃত_সহচর's picture

তাইলে মন্তব্য করাটা সার্থক হবে। দরকার হইলে আরো ২-৩ টা স্ক্রিনশটের যোগান দিয়ে দেব। এই চিজগুলার ঘটনা যা দেখলাম তাতে ভালো কথা কীবোর্ডে আসে না।

মানিক চন্দ্র দাস's picture

হিমু ভাই,
আজ সকাল এগারোটায় চোখ ডলতে ডলতে মোড়ের চায়ের দোকানে গেলাম সাত সকালের চা আর সিগারেট খেতে। দোকানটা এক হুজুর সাহেবের। নাম কবির। দোকানে তখন কবির হুজুর আছেন, খদ্দেরদের বেঞ্চিতে আরো দুই হুজুর তখন বসা। সেই দুই হুজুর এবং কবির হুজুর পূর্ব পরিচিত, তাদের কথা শুনে তাই বুঝলাম।
এক হুজুর বললেন, এই রকম পাক বান্দা দুনিয়ায় একটা ভুল কইরা ফালাইছে। আর কি হইলো দেখেন। ভুলের কথা এখন গোটা দেশ জানে। এইটা কার কাম জানেন?
কবির হুজুর চুপ। তিনি চা বানাচ্ছেন। সাথের হুজুর দাড়ি ঝাঁকিয়ে বললেন, না। কার কাম?
শয়তানের। শয়তানের কাম। তার কাজই হইলো পাক বান্দাদের ভুলে করা কামগুলার খবর অন্য মানুষেরে জানান দেয়া। এতে কি হয়? অন্য মানুষ গুলাও ভাবে, আরে এই কাম তো ইমাম সাহেব করছেন। ভুলেও আর ইমাম সাহেবেগো ধারে কাছে যাওয়া যাইবোনা।
সাথের হুজুর বললেন, ঠিকই বলছেন। এইটা শয়তানের কাম। আর আপনেই বলেন, যেই মাইয়াডা মরছে, হের কি কোন দোষ আছিলো না? আছিলো। এখন মইরা গেছে, মাইয়ার দোষ কারো চোখে পড়বোনা। সবাই কইবো ইমামের দোষ। দেশটা শেষ হইয়া যাইতেছে।
সাথে সঙ্গত দিলেন কবির হুজুর। ঠিক বলছেন ভাই। পাক বান্দার ভুলই মানুষের চোখে পড়ে। এইযে দেখেন, মুন্সীগঞ্জে এয়ারপোর্ট লইয়া গ্যাঞ্জাম হইলো, একটা পুলিশ মরলো, হাজারে বিজারে মানুষ হাসপাতালে, সেইটা কেউ মনে রাখছে? রাখেনাই। সবাই এখন পড়ছে ইমাম সাহেবেরে লইয়া।
আমার সাধের সকালের সিগারেট খাওয়া মাথায় উঠলো। চা টাও কেমন বিস্বাদ লাগা শুরু হলো। দুটোই অর্ধেক ফেলে ঐ দোকান থেকে বের হলাম। আর যাই হোক এই শুয়োরের বাচ্চা ছাগুর দোকানে এই শেষ। এই মাদার... এর জেবেও কোন টাকা দেয়া যাবেনা।

তুলিরেখা's picture

লেখাটা খুব ধারালো, এইসব "বস্তু" দের স্বরূপ প্রকাশ করে দেওয়া প্রয়োজন।
এরা, এই মানুষের পোশাক পরা জন্তুরা আর তাদের কাজকর্মকে হিজিবিজি ভাষার প্যাঁচ মেরে মেরে বৈধতা দেবার এই পোষা কুকুর চাকরগুলো এত তড়পানির সুযোগ পায় কীকরে? বরাহগুলোর সঙ্গে এদেরও উচ্ছেদ করা দরকার।

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

সুহান রিজওয়ান's picture

দ্বিতীয়বার পড়লাম। আরো হয়তো পড়বো। ...

পড়ে মনে হচ্ছে, কয়েকটা নামধাম পালটে দিলেই এই গল্পটা নির্মাণের গুণে বুদ্ধিবেশ্যাদের ডিগবাজির উপর একটা বহুবছর পরেও পাঠ হবার মত গল্পে রুপ নেবে।... এটার আরেকটা সংস্করণ করতে পারেন।

কৌস্তুভ's picture

হিম্ভাই কি ফাহ যে একই লেখা নামধাম বদলে দশবছর পরেও চালিয়ে দেবেন? চোখ টিপি

পরিবর্তনশীল's picture

আমার পড়া সবচেয়ে শক্তিশালী গল্পগুলোর মধ্যে একটা।

রাতঃস্মরণীয়'s picture

ভালো লিখেছেন। এরকম লেখা বহুবছর আগেই প্রয়োজন ছিলো। আমাদের সমাজে এই চুদ্ধিজীবিদের বিচরন ঐতিহাসিক। পয়সা পেলে এরা না পারে এমন কোনও কাজ নেই। জেলাশহরগুলোতেও এদের প্রচন্ড দাপট। গ্রামে-গঞ্জে কিছু হলেই এরা ভাড়ায় যায় 'শালিস' করতে। করুণাময়ী সর্দার খুন হলে এদের স্বরূপ দেখেছিলাম।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

পুতুল's picture

এর আগে বিএসেফ-র হত্যাকাণ্ড নিয়ে লেখা আপনার গল্পটা পড়ে ভেবেছিলাম ঐটা আপনার শ্রেষ্ঠ গল্প। এখন মনে হচ্ছে এইটা।

আপনার কাছে বেশী প্রত্যাশা বলেই মনে হচ্ছে এই গল্পটাতে ধর্ষিতা এবং নিহত মেয়েটার পরিবারের ক্লেশ-টা ঠিকমত আসেনি।

মানুষগুলো প্রভাবশালি মহলের চাপে খুব কোণঠাসা থাকে। কাউকে শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারে না। এমন ভাবে কথা বলে যেন; দোষটা তাদেরই। সম্ভ্রম যেন তারাই হারিয়েছে। একটা বিরাট লজ্জার দায় যেন শুধু ধর্ষিতা পক্ষের। মামলায় ভুল সাক্ষি দেয়ার জন্য (কারণ এই মামলাগুলো চাইলেই কেউ তুলে নিতে পারে না। ভুল সাক্ষি দিয়ে অপরাধীকে বাঁচিয়ে দেয়া ছাড়া আর কোন পথ নাই।) বাদী পক্ষকে অপেক্ষাকৃত বিত্তশালি বিবাদী মহলের ভয়-লোভ এবং লোকলজ্জায় এমন ভাবে জড়িয়ে ফেলা হয় যে; তারা শেষ পর্যন্ত "থাক তোর ভিক্ষা, কুত্তা সামলা" এই মনোভাবে পড়ে নিজেরাই একটা তথাকথিত মিমাংশা মেনে নিতে বাধ্য হয়।

"জিদের ভাত চিবায় খাওয়া ভাল"
তথাকথিত দেহদানের প্রেম নিবেদনে গরিব মেয়েগুলো সাধারণত রাজি হয় না। অশিক্ষিত হলেও মেয়েগুলো ভাল করেই জানে যে; এই প্রেম শুধু দেহ দানের এবং এর দায় মেয়েটিকেই বইতে হবে। প্রত্যাক্ষ্যাত হয়ে ছেলেটি প্রতিশোধ নেয় ধর্ষণ করে বা এসিড নিক্ষেপ করে। সালিশ বা সাংবাদিকদের কাজটা হচ্ছে ঐ "জিদের ভাত চিবিয়ে খাওয়া ছেলেটিকে বাঁচিয়ে দেয়া।" এদের ভূমিকাটা গল্পে মূখ্য হয়ে গেছে।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

অতিথি লেখক's picture

হিমু ভাই,

আপনার লেখা পড়ি বেশ কিছুদিন। বেশ মনোযোগ দিয়েই পড়ছি। আপনার লেখাগুলোকে খেয়াল করলে একটা জিনিষ বোঝা যায় যে চাইলেই প্রতিবাদ করা যায় না, সে প্রতিবাদের ভাষা হতে হবে মানুষরূপী পশুদের উপর এক একটি আঘাত।

আপনার প্রতিবাদের ভাষা হোক আরও কঠোর...আরও উজ্জ্বল... (মোম)।

_____________________

মেঘদূত

Post new comment

The content of this field is kept private and will not be shown publicly.