ফেব্রুয়ারি চার

রায়হান আবীর's picture
Submitted by raihan abir on Sun, 05/02/2012 - 3:14pm
Categories:

বিজ্ঞান শাখার ছাত্রী না হয়েও আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা নীতি ভালোই বুঝেন কনকচাঁপা। শুধু ভালো জানাতেই শেষ নয় তিনি অনুভবও করেন আপেক্ষিকতা, কোয়ান্টাম মেকানিক্স। অনুভবেই শেষ হতে পারতো বিষয়টা। কিন্তু কোনো কিছুই আসলে কোনো কিছুতে গিয়ে শেষ হয়না। কনকচাঁপা তাই উপ-সম্পাদকীয় লিখেন। সেখানে তিনি আপেক্ষিকতা নিয়ে জ্ঞান কপচান, হিগস বোসন কণা নিয়ে জ্ঞান কপচান, তারপর আরও অনেক অনেক বিষয় নিয়ে। সত্যেন বোস প্রসঙ্গ আসাতে তিনি বলেন-

Quote:
আর গত বছরের সবচেয়ে বড় আবিষ্কারের দাবি (মিনমিনে কণ্ঠে) করছে সার্ন নামক ইউরোপের পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র। তাঁরা নাকি 'ঈশ্বর কণা'! আবিষ্কারের পথে খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে! হিগস বোসন কণার সম্ভাব্য আবিষ্কারক যুক্তরাষ্ট্রের পিটার হিগস ও ভারতের সত্যেন্দ্রনাথ বোস (তিনি নাকি আসলে বাংলাদেশি) এই ঈশ্বর কণার অস্তিত্বের অনুমানকারী।

পদার্থবিজ্ঞান আজকে কোথায় চলে গেছে। বহুদূর পথ পাড়ি দিয়ে তারা আজ হিগস-বোসন কণা খুঁজে পাবার জন্য জান তামা তামা করে ফেলছে। অথচ এই বোসন কণার আবিষ্কার হয়েছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিদেশীরা প্রথমবার তাঁর প্রবন্ধ ভুল বলে গ্রহণ করেনি। সেদিন গিয়াছে। এখন তারা বিলিয়ন ডলার নিয়ে বোসন কণার পেছনে লালায়িত। তবে আমরা এখনও পেপার রিজেক্টকারী বিদেশীই আছি মনে হয়। কেবলামুখী এস্তেনজামের অন্যতম প্রধান পরিদর্শক মেলন সাহেবের কালু পত্রিকায় আজকে বাংলাদেশের আঞ্জুমানা জোলিরা ওরফে কনকচাঁপারাও সম্পাদকীয়, উপ সম্পাদকীয় লিখে ফেলেন। কথায় কথায় হিগস বোসন কণা টেনে আনা বোধহয় এখনকার ফ্যাশন। তাই তারা এসব টেনে আনেন। তারা টেনে আনেন সত্যেন বোসের নাম, যদিও তারা কনফিউজড তিনি আসলেই ভারতীয় 'নাকি' বাংলাদেশি। একটু জেনে নিয়েই লেখা যেতে পারতো। বোসের নামটা উল্লেখ করা যেতো আরেকটু শ্রদ্ধা দিয়ে কিংবা অন্যভাবে। কিন্তু শেয়ার বাজার, মাছের ফরমালিন, এতো এতো ভ্যাজালের ভিড়ে গুগল করার সময় কোথায়।

আমরা তাই বোসকে চিনিনা। কনকচাঁপারাও শেয়ারবাজার কিংবা মাছে ফরমালিন নিয়ে চিন্তিত হয়ে বোসকে জানান জন্য কোয়ালিটি সময় খুঁজে পাননা। তাদের কাছে বোসের পরিচয় ভারতীয় অথবা বাংলাদেশি নাগরিকতাকে কেন্দ্র করেই সীমাবদ্ধ। রব্বানী স্যারকে মাঝে মাঝে আক্ষেপ করতে দেখি। বোসের ল্যাবরেটরির নানা যন্ত্রপাতি যেগুলো অনেকগুলো তার ডিজাইন করা তাদের পদার্থবিজ্ঞানের একসময়ের চেয়ারম্যানের একটি রুমে স্তূপ করে ফেলে রাখার মাধ্যমে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবার আক্ষেপ শুনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের রুমের মতো সত্যেন বোসের ল্যাবটাকেও কি একটা জাদুঘরের মর্যাদা দেওয়া যেতোনা? এরচেয়ে বড় জাদুঘর আর কি আছে, বোসনের জাদু তো এখনও শেষ হয়নি।

কথাগুলো ক্যানো বললাম? দেশকে আমি ভালোবাসি। মাঝে যদিও নদীর ওপারে থাকা বিদেশেই সর্ব-সুখের হাতছানি দেখতে পেতাম এখন সে অনুভূতি ধীরে ধীরে ম্লান হচ্ছে। দেশ নিয়েও একটু আশাবাদী হচ্ছি। দেশে থেকেও সুখী হওয়া যায় বুঝতে পারছি। দেশে বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করা যায় বুঝতে পারছি। দেশটার বর্তমান অবস্থা যদিও খুব খারাপ। নিজেকে বোঝাই, মাত্র তো চল্লিশ বছর হলো। আরো কয়েকশ বছর যাক তারপর নিশ্চয়ই একটা কিছু হয়ে যাবে। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় আমরা ভুল পথে হাঁটছি। কথাটা হয়তো খুবই কেতাবি শোনাবে, কেতাবি কথা বলতে ভালো পাইনা তারপরও বলি- আমরা আসলেই আমাদের গুণীদের মর্যাদা দেই না।

শাহরুখ খানে আমরা মাতোয়ারা হই, আমরা সত্যেন বোসকে চিনিনা। আজকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে যে ছেলেরা ঢুকছে তাদের সামনে যদি ভালো ভালো কাজের উদাহরণ আমরা তুলে না ধরি তাহলে তারা অনুপ্রেরণা পাবে কোথা থেকে ভালো কিছু করার? অসুস্থ রাজনীতি, মারামারি, কাটাকাটি দেখে কতোটা বিজ্ঞামনষ্ক তারা হবে? আমরা আমাদের গুণী মানুষগুলার নাম উচ্চারণ করিনা, তাদের কর্ম পর্যালোচনা করিনা, তাদের শ্রমের মর্দাযা দেই না, মেধার তো নাই।

আমাদের দেশে তাই এখন কনকচাঁপারা উপসম্পাদকীয় লিখেন। হুম্যানরা হন সুপারহিরু।

বোসের কথা উঠলেই আব্বু একটা কথা বলেন প্রায়ই। লোকটা শিকল ধূমপায়ী ছিলো। একটার পর একটা সিগ্রেট ধরাতেন। সেই সিগ্রেটের আগুন আঙ্গুল স্পর্শ করলে তিনি খোঁজ পেতেন এবং পুটু ফেলে দিয়ে নতুন একটা ধরাতেন। তারপর আরেকটা ধরাতেন, আগুন আঙ্গুল স্পর্শের পর আবার খোঁজ পেতেন, তারপর আরেকটা। এভাবে নাকি তার আঙ্গুলে একসময় ঘা হয়ে গিয়েছিলো। আব্বু বলেন, দপ্তরির ভাষ্যমতে- সত্যেন বোসের দিন রাতের হিসেব থাকতোনা, অনেক সময়ই।

তথ্যটাকে অতিরঞ্জিত মনে হয়না। এইধরনের অনেক মানুষের জীবনের সাথে সামান্যতম পরিচিতিই বলে দেয় এমন হওয়া খুব সম্ভব। আর এখানেই মনের মাঝে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন এসে উপস্থিত হয়, তাহলে আমি পারিনা কেনো? আমি ক্যানো একটা বিষয়ে অনেক অনেক গভীরে যাবার পথে ধৈর্য হারিয়ে ফেলি।

গতকাল রাতে ব্লগ লিখতে বসলাম। দ্বিতীয় পর্ব। তারপর ফেসবুকে অনেক অনেক ঘুরাঘুরি করে, ইউটিউব বিচরণ করে ঘুমাতে গেলাম। সামান্য একটা ব্লগ সেটাও আলসেমিতে লিখতে পারলাম না। এই তবে মানবজন্ম? ফেসবুক, ইউটিউব, নাইনগ্যাগ তারপর ব্যাকটেরিয়া?

বুঝিনা। অনেক কিছুই বুঝিনা। যেমন বুঝিনা হুমায়ুন আজাদকে।

আমার সবকিছুই শুরু হয়েছে একটু পরে। সবকিছু মানে গান শোনা, তিনগোয়েন্দা-হুম্যান টাইপ বাদে অন্য বই পড়া, সিনেমা দেখা। ক্যাডেট কলেজে ক্লাস সেভেনে যখন ঢুকি তখন প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিও শো দেখানো হতো। বেশিরভাগ সময়েই হিন্দি সিনেমা। আমাদের বাসায় তখন ডিস কানেকশন ছিলোনা। এবং অবাক হলেও কিছু করার নাই, আমি যখন ক্যাডেটে যাই তখন আমি বলিউডের শাহরুখ কিংবা সালমান খান ছাড়া ডাকসাইটের নায়কদের কাউকেই চিনতামই না। চেহারা হয়তো পথে প্রান্তরে দেখেছি, সুন্দরী ঐশ্বরিয়া কিংবা রানীমূখার্জি বাদে বাকি নায়িকারাও আমার কাছে অপরিচিত।

কলেজে গিয়ে সিনেমা দেখা শুরু করলাম। সিনেমা শেষ হলে পোলাপান পরের পুরো সপ্তাহ সেই মুভির সব হিট সঙ্গীত সহ আরও নানাবিধ সঙ্গীতে বাথরুম প্রাঙ্গণ ভরিয়ে তুলতো। আমি হিন্দি ভাষায় নতুন, গানটানও জানিনা। মুভি দেখি কিন্তু কিছুই বুঝিনা। আমি আমার সব ক্লাসমেটের চেয়ে হিন্দি সিনেমা, হিন্দি গান, হিন্দি নায়ক-নায়িকার বায়োগ্রাফি সম্পর্কে অনেক পেছনে। কিন্তু এভাবে আমার ভালো লাগেনা। এফোর্ট দিলাম। প্রচুর পরিমাণে হিন্দি গান শুনে, প্রয়োজনে লিরিক উদ্ধার করে, লিরিক মুখস্থ করে নিজেও গুনগুন শুরু করে দিলাম। সবাই পারলে আমি পারুম না ক্যান। আমারো তো হিন্দি গান গাইতে ইচ্ছা করে। অল্পদিনে আমি সব নায়ক নায়িকা এবং হাল আমল (মোহাব্বতে, মিশন কাশ্মীর, তুমি, হাম হোগায়ে আপ কে) টাইপ সকল সিনেমা দেখে ফেললাম। তারপর একসময় মনে হলো, ধুচ্ছাই! হিন্দি থেকে এবার আমি পালাবোই। পালালাম। কিন্তু পোলাপানের মতো আপগ্রেড হয়ে।

বই পড়ার অবস্থাও তাই। হুমায়ুন আজাদের সাথে প্রথম পরিচয়ও ক্যাডেট কলেজে। তখন ইত্তেফাকেই বোধকরি "পাক সার জমিন সাদ বাদ" ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছিলো। আমি হুমায়ুন আজাদ এবং আহমদ শরীফ টাইপ বেয়াদপদের খুব ভালো করেই চিনতাম এবং জানতাম আযানের শব্দে এই লোকগুলা বিরক্ত হয়, এরা এতোটাই হেদায়েতের অযোগ্য। এদের বই পড়াই ঠিকনা। আমিও পড়িনি।

হয়তো কখনই হুমায়ুন আজাদ পড়তাম না, হয়তো ছাগু হয়ে বেঁচে থেকে মরে যেতাম একসময়। সেটা তো হয়নি কপালদোষে। পরিবর্তিত জীবনে হুমায়ুন আজাদের সাথে আবার পরিচিত হলাম। প্রথমে কবিতা দিয়ে, তারপর প্রবন্ধ, উপন্যাস। কিন্তু পড়া শুরু করেছি দেরীতে। তাই রয়েসয়ে থাকি। বই পড়ায় এখনও জাতে উঠিনি। 'আমার অবিশ্বাস' পড়লাম গত বইমেলা থেকে কিনে।

পড়ার পর মনে হলো এমন একটা বই কীভাবে লিখেছেন হুমায়ুন আজাদ? বুঝলাম, তিনি অনেক অনেক মেধাবী। কিন্তু তারও কি ইচ্ছা করতোনা প্রফেসর রাজ্জাকের মতো না লিখে থাকতে? ১৪৮ পাতার এমন এক কাব্য নামানোর সময় হুমায়ুন আজাদ মনে মনে কী ভাবতেন? আমরা মানুষেরা সব কাজই করি একটা রিওয়ার্ডকে সামনে রেখে। ক্লাস ওয়ানে আমরা ভাবি আমাদের পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি পেতে হবে, ক্লাস ফাইভ শেষ করে ভাবি ক্লাস এইটের বৃত্তির কথা, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে অনেক অনেক বেতন আর সুন্দরী বউয়ের কথা, তারো পরে ভাবি আমরণ আনন্দ স্বর্গের কথা। আর এই রিওয়ার্ড প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা আমাদের শরীরকে ডোপামিনে ভরিয়ে দেয়। হুমায়ুন আজাদের ডোপামিন প্রবাহ হতো কোনো রিওয়ার্ডের কথা ভেবে?

কিংবা আমিই বা কেনো হুমায়ুন আজাদের রিওয়ার্ড কী সেটা নিয়ে চিন্তিত? চিন্তিত না আসলে, বুঝতে চাই। কারণ 'আমার অবিশ্বাস' এর মতো বই লিখতে শুধু মেধাবী হলেই হয়না যে পরিমাণ শ্রম দিতে হয় সেই শ্রমটা হুমায়ুন আজাদ দিয়েছেন এক রিওয়ার্ডের কথা চিন্তা করে। সেটা নিশ্চিত দুর্দান্ত কিছু হবে। নাকি কিছু কিছু মানুষ কোনো ধরণের রিওয়ার্ডেই বিশ্বাসী না, তারা কাজ করে যান। দু হাতে লিখে যান, কিংবা মস্তিষ্কের ডান বাম দুদিক খিঁচে গবেষণা করে যান।

কিন্তু মানুষের মাঝে হুমায়ুন আজাদ কিংবা বোসের মতো মানুষ এতো কম কেনো? সাধারণ মানুষ কেনো সাধারণ অনেক ব্যাপার স্যাপার নিয়েও এখনও কনফিউজড? বুঝিনা। অনেক কিছুই আসলে বুঝিনা।

গতকাল রাত থেকে আসলে হুমায়ুন আজাদকে মনে পড়ছে খালি। মনে পড়ছে এই লোকটা আর কিছুদিন বেঁচে থাকলে অসুবিধা কী হতো? আর কয়টা বই লিখলে ক্যামন হতো? নীচের বইগুলার দিকে তাহলে চোখ পড়তো না।

কাল মেলায় ঢুকে দেখি বিরস বদনে দাঁড়ায়ে আছেন আশরাফ ভাই, সবজান্তা ভাই, তারেক লুহিম ভাই। কিন্তু বই মেলায় ঢুকে বিরস বদন ক্যানো? কারণ তারা পিকক থেকে লাথি খেয়ে এসেছেন। আজ শুভব্রতের জন্মদিন। কাল ছিলো তাই পূন্যরাত। এরাতে সুরা পান ঠিকনা। এরাতে পিকক বন্ধ থাকে, সেখানে রাতভর জিনরা বিধাতার জিকির করে।

তাদের সাথে দেখি নুপুরাপু এবং মউ। সবাই মিলে হাঁটা শুরু করলাম। কিন্তু চক্করের আগে ফার্স্ট কাজ বিড়ি খাওয়া। দশজন মিলে দুইটা বিড়ি খেতে খেতে পান্ডবদা হাজির। তিনি অবশ্য মেলায় এসেছিলেন একলা চলো নীতিতে। বেশ কয়েকজনকে এড়িয়ে একেবারে সচল গ্যাংগের কাছে এসে ধরা। তারও বদনটা বিরস হয়ে গেলো।

তারের লুহিম ভাই অদ্ভুত এক দ্বন্দ্বে ফালায় দিলেন প্রথমেই। ফেসবুকে একদল বিয়াদপ প্ল্যান করেছে কাগুর কাছ যেয়ে বলবে, তার রচিত সফটওয়ারে কেনো আল্লাহ, খোদার নামের পরিবর্তে নিজের ছবি ভেসে ওঠে? নিজেরে উনি কী মনে করেন? প্রশ্নটা শুনার সাথে সাথে কাগুর মুখটা মনে পড়লো। মেলন কণ্ঠের উচিত আজই এইটা নিয়ে একটা রিপোর্ট বের করা। ইউরিন প্যানের দিকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এইটা। জাতি এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়।

জয় এবং জামানের সাথে মেলায় ঢুকছি। পথেই দেখা হলো জাফর ইকবালের সাথে। আমিই দেখলাম আসলে। উনি পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। চট করে জানা দরকার এমন একটা প্রশ্ন মস্তিষ্ক হাতড়াতে লাগলাম। কিন্তু তার আগেই উনি উধাও। সামনে পেয়েও স্যারকে কোনো প্রশ্ন না করার দুঃখে দুঃখান্বিত হইলাম।

চা এর দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময় সামনে দেখি আরিফ জেবতিক ভাই। আমি না উনার কাহিনি বুঝিনা। আজকে উনি লন্ডন তো কালকে দেখি ঢাকায়। সেদিন বইমেলা নিয়ে ভাইয়ার 'যাচ্ছিনা, যাবোনা' স্ট্যাটাস পড়ে আমি ভাবলাম বেচারা বোধহয় আবার চলে গিয়েছেন। কালকে দেখি জলজ্যান্ত আরিফ ভাই সামনে খাঁড়ায়ে। আমি নিশ্চিত উনার কাছে বোরাক আছে। আমেরিকা প্রযুক্তি চুরি করে ফেলবে বলে উনি কাউরে বলেন না।

মেলায় ধুলো কম। তারমানে এখনও ঠিকঠাক মেলা শুরু হয়নি। এর মাঝেই ইতস্তত হাঁটলাম। নুপুরভাবী আবিষ্কার করলেন বিশ্বের প্রথম ইকো ফ্রেন্ডলি বই।

নজরুল ভাই লোকটাকে মিস করি। বইমেলা মানেই তো নজরুল ভাই আর তার হাত ভর্তি, ব্যাগ ভর্তি বই। সেই নজরুল ভাই প্রথম চারদিন মেলায় নাই। নজু ভাইকে ছাড়াই গতকাল নুপুরাপু হাজির। ফেরার পথে বোরাকের মালিক আরিফ ভাইয়ের সাথে ডুয়েলে লিপ্ত হওয়ার পরিস্থিতি উদয় হলো। বিষয়ঃ নুপুরাপুকে বাসায় পৌঁছায় দিবে কে?

কুষ্টিয়াতে আরিফ ভাইয়ের এক হাত দিয়ে রাইফেল ধরে যেকোনো বেলুনের প্রাণবায়ু বের করার কাহিনি মনে পড়ে যাওয়ায় আমি একটু দমে গেলাম ডুয়েল ধারণায়। আরিফ ভাইও মহানুভবতাই সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা বিবেচনা করে ভাবীকে বাসায় পৌঁছে দেবার দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করে হাওয়া হয়ে গেলেন।

আমরা বের হলাম। নুপুর আপু, তারেক ভাই, বনিক ভাই, পান্ডব দা সহ বাকিরা মেলা থেকে বের হয়ে টিএসসির দিকে হাঁটা দিলেন। আমি হাঁটা দিলাম উলটা দিকে, কার্জন হলের পথে। সেখানে বাইক রাখা আছে। বাইক নিয়ে ঘুরপথ দিয়ে টিএসসি আসলাম। গিয়ে দেখি আরিফ ভাই আবার উড়াল দিয়ে হাজির। উনি আমাকে বললেনঃ চলে যাও। নুপুরকে পৌঁছে দিবো আমি, হু হা হা হা হা হা হা।

আমি আবারও বুঝলাম, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।


Comments

রায়হান আবীর's picture

.

অন্যকেউ's picture

আবীর স্যার পোলা নহে, আগুনের গোলা। তা যা লিকেচিস দাদা, হ্যাট খুলে হাতে নিয়ে নিলুম। লেখাটা শুরু করেই আগুন দেখে খুশি হয়া গ্লাম। উত্তম জাঝা!
আজকে মেলায় যাবার আগে রুম থেকে ঘুরে যাস। শুভব্রতের জন্মদিনটা উদযাপন করা দরকার। দেঁতো হাসি

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

রায়হান আবীর's picture

যুবরাজের জন্মদিন কী আর একদিনে পালন করে শেষ করা যায়? অনেক অনেক দিন ধরে করতে হবে দেঁতো হাসি

ত্রিমাত্রিক কবি's picture

চলুক চলুক

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

রায়হান আবীর's picture

সাথে পেয়ে ভালু লাগলো হাসি

দুষ্ট বালিকা's picture

দ্রিগ আর হয়রান, আজকে আমি মেলায় যামুই যামুই যামুই, তোরা থাকিস, পিলিজ লাগে!

লেখাটা ম্রাত্মক হয়েছেরে। বোসন এর কাহিনী যে বোস থেকে শুরু এ আজকাল বেশীরভাগ জ্ঞানীগুনী পুলাপাইনরাই জানেনারে। আফসোস খাইতে খাইতেই দিন যাবে আমাদের একদিন।

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

রায়হান আবীর's picture

থ্যাংকু মইন্তব্যের জন্য।

আশফাক আহমেদ's picture

একটা পর্বও মিস যাবে না আবীর ভাই
কী কী কিনলেন, জানালেন না?

-------------------------------------------------

ক্লাশভর্তি উজ্জ্বল সন্তান, ওরা জুড়ে দেবে ফুলস্কেফ সমস্ত কাগজ !
আমি বাজে ছেলে, আমি লাষ্ট বেঞ্চি, আমি পারবো না !
আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !

রায়হান আবীর's picture

এই ব্লগে নজু ভাই ঘুরে। কী কী কিনলাম এইটা তো প্রতিদিন কইলে ইজ্জত থাকবেনা দেঁতো হাসি

অনার্য সঙ্গীত's picture

মেলায় ঘুরাঘুরি বেলেল্লাপণার এইসব গপ্প শুন্তে ভাল্লাগেনা! তাও তারা দিলাম!
আমার অনেক দিনের শখ, তারেইক্যারে উলের দোকানে বেইচা দিমু! ছবি দেইখা শখ চাগা দিলো!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

রায়হান আবীর's picture

তখন তারে তারেক উল-হিম নামে ডাকা হইবো দেঁতো হাসি

অন্ত আফ্রাদ's picture

আবীর ভাই, আপনার দেয়া লিঙ্কটা ভিন্ন ট্যাবে খুলে প্রথম লাইনটা পড়তেই দমটা ফেটে চৌচির হয়ে গেলো। গড়াগড়ি দিয়া হাসি একজন সঙ্গীতশিল্পীর মুখে এই কথা শুনার বিনুদুন ই অন্যরকম!

Quote:
বিজ্ঞান শাখার ছাত্রী না হয়েও আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা নীতি ভালোই বুঝি। অনুভবও করি!

ভাইরে, আপ্নের মতো আমিও এই দেশটারে বহুত ভালা পাই। কিন্তু অস্থির লাগে। কবে আসবে সেই সোনার বাংলাদেশ! অপেক্ষায় আছি সেই দিনটার জন্য যেই দিনটা একদিন আসবেই...

ভালো লাগলো আপনার লেখাটি পড়ে। আশফাক ভাইয়ের মতো আমারও একটা পর্বও মিস যাবে আশা রাখি...
পরেরটার অপেক্ষায় রইলাম। আলসেমি না কইরা তাড়াতাড়ি লিক্ষা ফালান। হাসি

রায়হান আবীর's picture

স্বপ্ন সত্যি হোক চোখ টিপি

স্পর্শ's picture

১)
হুমায়ুন আজাদ এবং তার মত আরও যারা ছিলো, যাদের মেধার সঙ্গে সঙ্গে সেই 'বাড়িতি কিছুও' ছিলো, এমন মানুষগুলো এদেশে কেন যেন বেশি দিন বাঁচে না মন খারাপ

২)
প্রিন্সটনে আইনস্টাইন এর জাদুঘর আছে। কিন্তু ঢাকাভার্সিটিতে বোস জাদুঘর নেই। এখানেই আমরা হেরে গেছি...
বড় বড় সিলেবাস, মোটা মোটা বই এর চেয়ে এই দেখতে ছোটো খাটো ব্যাপারগুলো যে ছাত্রছাত্রীদের মনে কত গভীর ইম্প্যাক্ট ফেলতে পারে সেটা আমরা বুঝবো নিশ্চয়ই একসময়।

৩)
তুমি আশাবাদী হয়ে উঠছো জেনে ভালো লাগলো। সর্বশেষ যখন দেখা হয়েছিলো তখন ব্যাপক নিরাশাবাদী ছিলে!

৪)
আমার মনে হয় 'বাড়তি কিছু'টা এক রকম 'জিদ'। শেষ দেখে ছাড়ার জিদ। যে জিদ মানুষকে ইউটিউবে ঢুকতে দেয়না। কোনো একটা ধারণার গভীর থেকে গভীরে যাওয়ার শক্তি দেয়, তা যত কষ্টই হোক। এইসব জিদই মানুষকে শক্তি জোগায় মেধাবী হয়ে ওঠার, আর তারপর শক্তি জোগায় হুমায়ুন আজাদ, বা সত্যেন বোস হয়ে উঠতে...

এটা সম্ভব।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

রায়হান আবীর's picture

সংসার সাগরে দুঃখ তরঙ্গের খেলা
আশা তার একমাত্র ভেলা

দেঁতো হাসি

নিটোল's picture

চলুক

_________________
[খোমাখাতা]

অনরণ্য's picture

Quote:
প্রিন্সটনে আইনস্টাইন এর জাদুঘর আছে। কিন্তু ঢাকাভার্সিটিতে বোস জাদুঘর নেই। এখানেই আমরা হেরে গেছি...

আমরা আমদের নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে এতটাই সন্দিহান যে বছর বছর স্টেডিয়াম,বিমানবন্দর,নভোথিয়েটার এর নাম পরিবর্তন করা লাগে।যেখানে ফ্রান্স, কিউবায় কবিগুরুর নামে সড়ক হয়।জাফর ইকবাল স্যার এক লেখায় দুঃখ করেছিলেন,শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনের নাম সত্যেন বোসের নামে রাখতে পারেননি বলে,সাম্প্রদায়িক মানুষদের প্রতিবাদের কারণে।গর্বের করেই বলি চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎকৌশল বিভাগের রিসার্চ ল্যাবের নাম রাখা হয়েছে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর নামে।

ফয়সাল আহমেদ's picture

দারুন লাগল।

রায়হান আবীর's picture

ধন্যবাদ হাসি

রেদওয়ান বাশার's picture

শুধু হুমায়ুন আজাদ নন, কোন মানুষই ‘রিওয়ার্ডে বিশ্বাস’ নিয়ে জন্মায় না। "রিওয়ার্ডের ধারণাটাই আরোপিত"...এই কথাটা বলতে যেয়েও সামলে নিলাম কারণ ‘রিওয়ার্ড’, ‘মোটিভেশন’, ‘ড্রাইভ’, ‘কোয়েস্ট’ বা ‘তাড়না’ শব্দগুলার একাধিক অর্থ তৈরি হয়। যেই শব্দটাকে জোর গলায় আরোপিত বলতে পারি সেটাকেই বলি বরং। ‘প্রতিযোগিতা’র ধারণাটা সহজাত না, আরোপিত। রিওয়ার্ড এর একটা অর্থ হয় ওই প্রতিযোগিতায় জেতার পুরষ্কার। লড়াই ব্যাপারটা মানুষের স্বভাবজাত, মানুষ বলছি কেন শুধু, লড়াই ব্যাপারটা প্রাণীকুলের একটা স্বভাব-গুন। প্রতিযোগিতা মানুষ একাই করে। তবে সভ্যতা প্রতিযোগিতা করে আগায় না, লড়াই করে আগায়।

লড়াই আর প্রতিযোগিতার পার্থক্যটা একটু চিন্তা করলেই সবাই ধরতে পারে। “লড়াই যেমন ঝড়ের রাতে হেরে গিয়েও বাঁচতে শেখায়”, প্রতিযোগিতায় আবার জিতে যাওয়া মানে কেবলই বাদবাকি প্রতিযোগীদের কোন একটা মাপকাঠিতে পেছনে ফেলতে পারা।

স্পর্শ তার মন্তব্যে 'বাড়তি একটা জিদ' বলে আমার বলা 'লড়াই' এর স্পিরিটটাই বোঝাতে চেয়ে থাকতে পারেন।

সাধারণ বা গড়পড়তা ধারণা যদি অন্যরকম হয়, যদি অভিযোগটা ওরকম ক্লাস-ওয়ান, ক্লাস-ফাইভ, ভার্সিটি- কর্মজীবনের স্ট্রাকচারে ফেলে করার মতই হয়, তা হলে দায়টা ‘সাধারণ বা গড়পরতা’ স্ট্রাকচার্ড শিক্ষাব্যবস্থাকেই নিতে হয় মনে হয়। যদি অন্য কোন দেশের গড়পড়তা চিন্তার মান এর থেকে উন্নত মনে হয়, কোন কোন দেশে যদি সেরকম কীর্তিমান সন্তান বেশি বেশি আছে বলে মনে হয়, সেই কৃতিত্বও তা হলে সেখানকার শিক্ষার গড় মানকেই দিতে হয়।

সম্ভবত লেখক উত্তর চেয়ে প্রশ্ন করেন নাই, ভাবনার উদ্রেক করতে প্রশ্ন করছেন। আমিও এমনি এমনিই ভাবনা জানালাম।

গ্যালিলিও থেকে হুমায়ুন আজাদ, কারো ভেতরের তাড়নাটার স্বরুপই আমাদের জানা হবেনা। যেই হুমকি-ধামকি-আক্রমণের শিকার হতেন তারা সেগুলার খবর জানা যাবে। এর বিপরীতে থেকে তারা তাদের কাজটা চালিয়ে যেতেন এটাও জানা যায়। এইসব থেকে তাদের তাড়নাগুলা কী কী ছিলোনা তা তো স্পষ্ট বোঝা যায়। ভ্যানগগের মাথার ভিতর কী চলতো, সেটা ভেবে দেখার একটা উপযোগিতাহীন, রোমান্টিক চিন্তা আমিও করি মাঝে মাঝে, কোন উত্তরের আশায় করিনা, একটা আনন্দময় টাইম-পাস বলা যায়। এই ভাবনা ছাড়াই তো আমরা সবাই জানি, ওই মাথার ভিতরে ছবি বিক্রির কোন চিন্তা ঘুরতো না।

রায়হান আবীর's picture

তাড়নাটা মানেই কী এন্টিসিপেশন ফর রিওয়ার্ড না? গরীব মানুষকে আমি একটা কাপড় দিলাম, তার মুখে হাসি দেখে আমার মনটা ভরে গেলো। এই মন ভরে যাওয়াটাও এক ধরণের রিওয়ার্ড। ভালো বাংলা হাতড়িয়েও পেলাম না।

অবশ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়, রিওয়ার্ড পেয়ে গেলে আসলে কোনো অনুভূতি হয়না, রিওয়ার্ড পাওয়ার জন্য তাড়নার সময়েই প্রবাহিত হয় ডোপামিন। এ কারণেই হুমায়ুন আজাদের সেই ঠিক করা রিওয়ার্ডের কথা ভাবি, যেটা পাবার তাড়নায় তিনি এতো এতো চমৎকার লেখা লিখেছেন।

দুইটা ব্লগেই আপনার মন্তব্য খুব দারুন পেলাম হাসি

হিমু's picture

কনকচাঁপার চেয়ে বিদিশার রাজনৈতিক কলামগুলি বেশি সুখপাঠ্য।

রায়হান আবীর's picture

তা আর বলতে দেঁতো হাসি

রায়হান আবীর's picture

বিশেষণের ভারে চাপা পইড়া মইরা গ্লাম গা।

তাপস শর্মা's picture

অসাধারণ - দুরন্ত - ফাটাফাটি ... প্রতিটি লাইন স্পর্শ করে দেখলাম যেন...

নিটোল's picture

লেখা বরাবরই সুখপাঠ্য। চলুক চলুক। চলুক

_________________
[খোমাখাতা]

রায়হান আবীর's picture

দেখি চলে কিনা দেঁতো হাসি

গৌতম's picture

Quote:
কনকচাঁপা তাই উপ-সম্পাদকীয় লিখেন।

সবাই এখন সবকিছু নিয়ে লিখেন!

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

রায়হান আবীর's picture

আমরা সবাই সবকিছু জানি, সবকিছু বুঝি। অনুভব করি।

সত্যপীর's picture

আপনার ইকো ফ্রেন্ডলি বইয়ে এসে চোখ আটকে গেল, লিখক লতিফুল ইসলাম শিবলী? গীতিকার লতিফুল ইসলাম শিবলী যিনি জেমসের মধ্যরাতের ডাকপিয়ন আর বাচ্চুর হাসতে দেখ গাইতে দেখ'র মত গানগুলির রচয়িতা? তিনি হঠাত বিরাট ধার্মিক হয়ে গিয়েছিলেন জানি, চিল্লায় গিয়ে গান লিখার মত বেদাতি কাজ বাদ দিয়ে জিকিরে লিপ্ত হন। তিনি আবার কবিতা লিখছেন? এইটা কি নতুন বই?

ছবিটা দিয়ে কাজ ভালো করেননাই। এখন মাথায় এটাই ঘুরবে। লতিফুল ইসলাম শিবলী লতিফুল ইসলাম শিবলী। ধুর।

লিখায় পাঁচতারা দিসি কিন্তু মাইন্ড কইরেন না।

..................................................................
#Banshibir.

রায়হান আবীর's picture

র‍্যান্ডম একটা বই দেইখা আপনার মাথায় এতো স্মৃতি চাগার দিয়া উঠলো দেঁতো হাসি :D দেঁতো হাসি

সচল জাহিদ's picture

চলুক চলুক চলুক

ঠিক যেমন BBA MBA করা আই ইউ বির শিক্ষক জনাম এম এ আরাফাত টিপাইমুখ বাঁধের গোলটেবিল বৈঠকে বসেন ডঃ আকবর আলী, ডঃ আইনুন নিশাত, ডঃ এম এ কাশেম এর সাথে এবং টিপাইমুখে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিপননের উপর গুরুত্ত্ব আরোপ করেন।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট
কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

রায়হান আবীর's picture

আমরা এতো বস ক্যান জাহিদ ভাই দেঁতো হাসি

যুধিষ্ঠির's picture

ভালো লাগলো আপনার লেখায় বইমেলা পড়াহাসি

সেইসঙ্গে অন্যান্য প্রাসঙ্গিক চিন্তাও।

মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষমতা দেখে তাজ্জব হবার কিছু নেই, বরং সেই ক্ষমতা ব্যবহার না করার অপরিসীম ক্ষমতা দেখলেই আসলে তাজ্জব হয়ে যেতে হয়।

রায়হান আবীর's picture

সেইটাই মন খারাপ

তানিম এহসান's picture

অসাধারণ একটা লেখা পড়লাম, একচুল নড়িনি .. লেখা শেষ। অনেক ধন্যবাদ বইমেলা ছেড়ে থাকা সময়টায় অনেকটা মুহূর্ত বইমেলা দিয়ে ভরিয়ে দিলেন বলে। চলুক

রায়হান আবীর's picture

হাসি

চরম উদাস's picture

চলুক
কি জানি সমস্যা হইছে আমার শালার আইপাদের। কমেন্ট লিখলেই ব্ল্যাংক স্পেস দেখায় ইয়ে, মানে... । কষ্ট করে আবার কম্পু খুল্লাম কমেন্ট লেখা জন্য। বইমেলা নিয়ে লেখা বড় ভাল পাচ্ছি। পড়ি আর মনডা আরো উদাস হয়।

রায়হান আবীর's picture

স্বপ্নাহত ওড়ফে জিহাদ তরফদার আইপাদের নাম দিসেন আইপেইড দেঁতো হাসি

রায়হান আবীর's picture

রিপোর্টিং এর দিন ঘরে থাকি দেঁতো হাসি

নিবিড়'s picture

আমিও তো বইমেলায় যাই তোরে দেখি না কেন চিন্তিত ঘরে বইসা বইসা রিপোর্টিং করিস না তো খাইছে

ধ্রুবনীল's picture

দারুন আপনার লেখার হাত, দুটো পর্বই চমৎকার! চলুক চলুক

রায়হান আবীর's picture

হাসি

তারেক অণু's picture
রায়হান আবীর's picture

(বাংলায়)

নুরুজ্জামান মানিক's picture

চলুক । সাথে আছি

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

রায়হান আবীর's picture

আমি কি আছি? দেঁতো হাসি

সাকিন উল আলম ইভান's picture

হাততালি চলুক

রায়হান আবীর's picture

ম্যাঁও

তাসনীম's picture

Quote:
কথাগুলো ক্যানো বললাম? দেশকে আমি ভালোবাসি। মাঝে যদিও নদীর ওপারে থাকা বিদেশেই সর্ব-সুখের হাতছানি দেখতে পেতাম এখন সে অনুভূতি ধীরে ধীরে ম্লান হচ্ছে। দেশ নিয়েও একটু আশাবাদী হচ্ছি। দেশে থেকেও সুখী হওয়া যায় বুঝতে পারছি। দেশে বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করা যায় বুঝতে পারছি। দেশটার বর্তমান অবস্থা যদিও খুব খারাপ। নিজেকে বোঝাই, মাত্র তো চল্লিশ বছর হলো। আরো কয়েকশ বছর যাক তারপর নিশ্চয়ই একটা কিছু হয়ে যাবে। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় আমরা ভুল পথে হাঁটছি। কথাটা হয়তো খুবই কেতাবি শোনাবে, কেতাবি কথা বলতে ভালো পাইনা তারপরও বলি- আমরা আসলেই আমাদের গুণীদের মর্যাদা দেই না।

দারুণ লাগলো। শুধু উপরের লাইনগুলো নয় - পুরো লেখাটাই।

আমার আব্বা সত্যেন বোসের গল্প প্রায়ই বলতেন। সত্যেন বোস আর কাজি মোতাহার হোসেন (কাজি আনোয়ার হোসেনের বাবা) মিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগ চালু করেন। আব্বা ওই সময়ে ছাত্র ছিলেন। সত্যেন বোসের দিন রাতের হিসাব না থাকার গল্প আব্বার কাছেও শুনেছি।

সত্যেন বোস যে বাড়িটাতে থাকতেন সেটা আশির দশকের মাঝামাঝি ভেঙে ফেলা হয়। স্মৃতিবিজড়িত সেই বাড়িতে মিউজিয়াম করা উচিত ছিল - পত্রিকায় এই নিয়ে কলাম লিখেন কেউ। কলাম লিখে এই দেশে পরিবর্তন আনা কঠিন।

বুয়েটে ফোর্থ ইয়ারে পড়তে হয়েছিল বোস-আইনেস্টাইন থিওরি। পড়াতেন শহীদুল হাসান স্যার। তিনি বিজ্ঞ লোক, কিন্তু ক্লাসে একবারও বলেন নি যে এই বোস সাহেব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং এই তত্ত্ব আমাদের সেই ক্লাস রুম থেকে হাঁটা দূরত্বে বসে সেই ক্ষ্যাপাটে বিজ্ঞানী বের করেছেন।

আব্বা সত্যেন বোসের উপর লেখা একটা বই জোগাড় করে আমাকে পড়তে দিয়েছিলেন। তিনি ফুটপাথ থেকে নিয়মিত পুরানো বই কিনতেন - বিভিন্ন বিষয়ে। জেনেছিলাম বোসের বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির জন্য রেকোমেন্ডেশন লিখেছিলেন আইনেস্টাইন স্বয়ং এবং ওই পদের জন্য আরেক ক্যান্ডিডেট মেঘনাদ সাহার রেকোমেন্ডশন ছিলেন ম্যাক্সওয়েল প্ল্যাঙ্ক। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড এমনিতে বলা হতো না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে।

আমরা শুধু ইতিহাস বিস্মৃত বা গুনীদের মর্যাদা দিতে ব্যর্থ নই - আমরা একটা আত্মসম্মানহীন জাতি। উই গেট হোয়াট উই ডিজার্ভ - তাই এখন রেকোমেন্ডশন আসে ছাত্রলীগ আর ছাত্রদল থেকে। কাজেম আলির মতো লোকেরা হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপচে পড়ে জাকির নায়েকের ভিডিও। হুমায়ূন আজাদের মতো লোকের বেশিদিন বাঁচতে পারে না - এই বৈরি প্রতিকূল পরিবেশে। সবকিছুই নষ্টদের দখলে চলে যায়।

বাংলাদেশের সমবয়েসি আমার আর উচ্চাশা নেই দেশ নিয়ে - তবু মাঝে মাঝে তোমাদের মতো কারো কারো লেখা পড়লে আশা নিয়ে বাঁচতে দারুণ ইচ্ছে করে। জাগিয়ে রাখো সেই আশা -হয়ত দেখবে একদিন এই কেরানীগিরির চাকরি ছেড়ে এক মেঘলা সকালে লোটা-কম্বল নিয়ে চলে আসব তোমাদের কাছে।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অরিত্র অরিত্র's picture

চলুক

রায়হান আবীর's picture

সত্যেন বোসের বাড়ির জায়গাটায় এখন মোকাররম ভবন।

আপনার মন্তব্য পেয়ে ভালো লাগলো। নিজের অনুভূতি অন্যের মাঝে সম্প্রসারিত করে দিতে পারলে অনাবিল আনন্দ লাগে আসলে ...

অরিত্র অরিত্র's picture

চলুক। অনেক ভাল হচ্ছে। আরো চাই। চলুক

রায়হান আবীর's picture

কস্কি মমিন!

Post new comment

The content of this field is kept private and will not be shown publicly.