বেশ কয়েকদিন পর সচলে ঢুকলাম, থিসিস ডিফেন্স, বাসা বদলানো, আর শেষমেষ ভ্যাঙ্কুভারে বদলি হবার ঝামেলা মোটামুটি শেষের পথে। উপলব্ধি- সচল আসলেই একটা খোলা জানালা।
আপনার জানালা খোলা, আর আমারটা বন্ধ হওয়ার জোগাড় হইছে। রক্তচোষা নরকের কীট মাফিয়া সর্দার গব্বর সিংএর যন্ত্রনায় একটা কিবোর্ড পর্যন্ত কিনতে পারতেছি না। ইংরেজির পাশাপাশি 'পরাজয়ের' লেয়াউট প্রিন্ট করা জগাখিচুড়ি মার্কা কিবোর্ড ছাড়া কোন প্লেইন ইংরেজি কিবোর্ড পাচ্ছি না দোকানে। দোকানিদের ভাষ্যমতে এটা এখন বাধ্যতামূলক, এবং তা গব্বরের চালাকি - রয়াল্টি খাবার লোভে। পার কিবোর্ড সে নাকি ৩০ টাকা করে পায়। একটা কিবোর্ডের জন্য আধা দিন ঘুরাঘুরি করে মাথা দিয়ে ধুঁয়া বাইরাইতাছে! কেউ কি আসল ঘটনা জানেন?
জব্বর সিংএর আইন কি তার বেরাদর গব্বর সিংদের আটকানোর জন্য তৈরি হয়? তাছাড়া বিস্তারিত না জানলেও, অনুমান করি এমন হতে পারে যে সরাসরি হয়তো 'পরাজয়' বাধ্যতামূলক করা হয়নি, বরং ভাষাপ্রেমের ধুয়ো তুলে বাংলাকে করা হয়েছে (মোবাইলের ক্ষেত্রেও এটা হতে যাচ্ছে বা গেছে) - একথা ভাল করে জেনেই যে বাস্তবে এর আসল মানেটা কি দাঁড়াবে! এরকম হলে টেকনিকালি একে কি ধরা যাবে? ওদিকে ব্যবসায়ী/আমদানিকারকরা কি আর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলা কিবোর্ড ব্যবহারকারী যে লেয়াউটের কুক্ষিগত সেটা বাদ দিয়ে অন্য কিছু ব্যবহার করবে? চীন থেকে কিবোর্ড আমদানিকারকরা নাকি তাদের অর্ডারে এখান থেকেই ঐ হিংটিংছটের কথা স্পেসিফাই করে দেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যে বিশাল ক্রেতাগোষ্ঠী পরাজয় বা বাংলা ব্যবহার করেন না, বা করলেও অভ্র জাতীয় কিছু করেন, তাদের কেন জোর করে এই কনফিউসিং জগাখিচুড়ি কিবোর্ড গিলতে (এবং রয়াল্টি দিতে) বাধ্য করা হবে তাদের চরম অসুবিধে সত্বেও? আলাদা বাংলা কিবোর্ডই তো যথেষ্ট! এজন্যেই মনে হয়, গব্বরই বাংলাদেশের আসল 'পাইরেট'। সবার গলায় পাড়া দিয়ে সর্বজনীন ভাবে পকেট কাটার কি নিদারুন বুদ্ধি!
লেআউট হিসাবে 'ফনেটিক' এবং 'বিজয়ে'র তুলনার কোনো বৈজ্ঞানিক আলোচনা কেউ করলে ভাল হইত। পৃথিবীতে তো প্রচুর ভাষার 'স্ট্যান্ডার্ড' লেআউট থাকার কথা। সেগুলির ডিজাইনের লজিক নিয়া কারো ধারণা থাকলে, একটা পোস্ট আশা করি।
এটা নিয়ে তো একবার অনেক আলোচনা হয়েছিলো সচলে যতোদূর মনে পড়ে। বিজয়ের কাছাকাছি একটা কীবোর্ডই নাকি গবেষণা করে বের করা হয়েছিলো (স্মৃতি থেকে বলছি, ভুল হতে পারে)। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে শ্রেয়তরটা সরকারিভাবে একমাত্র বাধ্যতামূলক করা যায় কিনা সে নিয়ে আমার আগ্রহ।
আপনার প্রশ্নে আমার উত্তর পূর্বনির্ধারিত। যেইটা পূর্বনির্ধারিত না, সেইটা হইল বৈজ্ঞানিক লেআউটটা আসলে কোনটা? সচলের পুরান আলোচনা যদ্দুর মনে পড়ে স্রেফ বিজ্ঞানভিত্তিক ছিল না। ঐখানে সামাজিক/আইনী/নৈতিক/রাজনৈতিক প্রসঙ্গগুলাও আসছিল। এতে ক্ষতি নাই। কিন্তু খালি বৈজ্ঞানিক আলোচনা হওযাও দর্কার। [পুনশ্চ, বাধ্য করা,আর বাধ্য করার মাধ্যমে ব্যক্তিকে মুনাফা করতে দেয়ার মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে আমি সচেতন]
ব্যবহারিক আলোচনায় যদি আসি, বিজয় হয়তো ফনেটিকের চেয়ে দ্রুত টাইপর করতে বেশি সহায়ক। ধরি (বেনিফিট দিলাম)। তবে ফনেটিকের লার্নিং টাইম আবার অত্যন্ত কম। আবার ফনেটিক ইংরেজি লেআউট নির্ভর। বিজয় সেটা না, তবে বিজয় তেমন একমাত্র লেআউটও না।
এখানে তুলনামূলক বিচার চলে আসছে। কোনটা অপ্টিমাল, সেটা অবজেক্টিভের উপর নির্ভর করে। সেই অবজেক্টিভে যেহেতু মানুষ জড়িত, সেখানে নৈতিক, রাজনৈতিক বিষয়ও হয়তো চলে আসে। এগুলোকে বাইরে রাখতে চাইলে আপনাকে অবজেক্টিভটা স্পষ্ট করে ডিফাইন করা লাগতে পারে। যেমন, ধরুন আপনি কেবল দ্রুত টাইপ করাকে আমলে নিতে চান বৈজ্ঞানিক আলোচনায়, আর কিছু না, এমন।
ডিজিটাল বাংলাদেশ এর 'রূপ ও কার'তিনি - শিথিল আইন প্রযোজ্য