হাইকোর্টঃ “আমরা আদেশ জারি করছি যে, বাংলা ভাষার পবিত্রতা রক্ষা করতে সর্বোতভাবে চেষ্টা করতে হবে। এই ভাষার প্রতি আর কোনো আঘাত যাতে না আসে সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে।” খুব ভালো লাগলো শুনে। আমার দুখিনি বর্ণমালার দুখ যদি কিছু এবার ঘুচে!
"বাংলা ভাষার দূষণ, বিকৃত উচ্চারণ, ভিন্ন ভাষার সুরে বাংলা উচ্চারণ, সঠিক শব্দ চয়ন না করা এবং বাংলা ভাষার অবক্ষয় রোধে বাংলা একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে প্রধান করে একটি কমিটি করারও আদেশ দিয়েছে আদালত। " এগুলোর মানদণ্ড কী? মুখের ভাষাও কমিটির দখলে?
রুপোম ভাই, দূষণ বলতে আমার কাছে কথ্য ভাষার মধ্যে ক্রস ওভার বা মিউটেশন ঘটানোকে মনে হয়। আঞ্চলিক ভাষা তো থাকবেই তাতে সমস্যা নাই, ঢাকার স্থানীয়দের ভাষা তাদের মতোই থাকবে; কিন্তু এফেম রেডিওতে এখনকার পাঁচমিশালী ভাষা বড়ই শ্রুতিকটু। আদেশ জারির মাধ্যমে হয়তো পুরোপুরি এ দূষণ রোধ করা যাবে না, তবে একটা সতর্ক বার্তা অফিসিয়ালি তো তারা পাবে বলে মনে হয়।
আমার কাছে "এফেম রেডিওতে এখনকার পাঁচমিশালী ভাষা বড়ই শ্রুতিকটু" লাগলে আমি সেটা শুনবো না সেই চিন্তায় তাইলে আর আমরা নাই। হাইকোর্ট দিয়ে তার মুখ বন্ধ করাতে হবে। কয়দিন পর ব্লগে "সঠিক শব্দ চয়ন" করা না হলে সেটার বিরুদ্ধেও হাইকোর্ট রুলিং দিবে আশা করা যায়। ভাষাদুষণ ব্লগে করা যাবে, রেডিওতে যাবে না? এখনেরটা মেনে নিলে তখন আমাদের বলার কী থাকতে পারে? রুচিশীল সুশীল সাহিত্যিকেরা বাংলা একাডেমী আর হাইকোর্টকে সাথে নিয়ে ভাষার ঠিকাদারি শুরু করে দিলেন তাইলে। বছর দুই আগে বাংলা একাডেমী অপ্রমিত ভাষায় লেখা বইও বই মেলায় নিষিদ্ধ করার পাঁয়তারা করছিলো। ভাষা আন্দোলন থেকে কোনোকিছু যদি আমরা শিখি, তাইলে প্রথমেই শিখা উচিত ছিলো যে ভাষা সরকারের নিয়ন্ত্রণের জিনিস না। মানুষের তার নিজের মতো মতপ্রকাশের অধিকার আছে। মুখের ভাষাও কারটা দুষণ কারটা না এমন সরকারি নজরদারির মধ্যে দিয়ে েযই ভাষাকে যেতে হয়, সেই ভাষার ভবিষ্যত নিয়ে আমি শঙ্কিত। বাংলা ভাষার মুক্তি চাই।