উদ্ধার কার্যক্রমের মধ্যে মড়াখেকো শকুনের মতো যত্রতত্র ক্যামেরা নিয়ে গুতাগুতি ছুটাছুটিতে ব্যস্ত সাংবাদিকদের মালিক সমীপেষু: এদের একটা করে ভালো দেখে ৩০০ মিমি লেন্স কিনে দেন। নিরাপদ দূরত্বে থেকে সব রেকর্ড করতে পারবে।
প্রথম দিকে টিভি রিপোর্টারদের এই কাজে বাধা সৃষ্টি করে শকুনের মত গুঁতাগুতি, এডভেঞ্চারিস্ট-সেনসেশনালিস্ট-ঘুলিশ মনোভাব, অশুদ্ধ ভাষা ও উচ্চারণে অগোছালো-হড়বড়-মেলোড্রামাটিক ফুটবল কমেন্ট্রির ভঙ্গিতে ধারাবিবরণী বা সম্পূর্ণ ইনএপ্রোপ্রিএট ক্ষেত্রে 'আপনার অনুভূতি কি' মার্কা সাক্ষাৎকার - আমাকে প্রচণ্ড বিরক্ত করেছে সন্দেহ নেই। অনেকে খুব কাছে থেকে দেখানো অনেক এক্সপ্লিসিট দৃশ্যও পছন্দ করেননি। কিন্ত পরে আমার মনে হয়েছে আমাদের সেন্সিবিলিটিতে আঘাত করলেও, এর বোধহয় দরকার ছিল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। এই ক্লোজ-কোয়ার্টার এক্সপ্লিসিট দৃশ্যাবলী - এই লাশের দৃশ্য, চাপা পড়া মানুষের আকুতি, উদ্ধারকারীদের জানবাজি প্রচেষ্টা-আবেগ ও কান্না, কোন কোন মহলের যথেষ্ট সংশ্লিষ্টতায় ঘাটতি এবং সর্বোপরি অবিচারের একটা অতি ঘনিষ্ট চিত্র উম্মোচন করেছে এটা জাতির সামনে। সবমিলিয়ে সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মহলের উপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে এখন, এই ঘনিষ্ট রিপোর্টিংয়ের একটা ভূমিকা আছে মনে হয় এর পিছনে। দূর থেকে ছবি তুললে সেটা হয়তো অনেক নৈর্ব্যক্তিক, নিরুত্তাপ ও চাপহীণ হত।