সমস্যা তো কমিশন-মুনাফা না। সমস্যা হইল এক সরকারের তিনটা আলাদা তেল বিতরণ কোম্পানি, তিনটা আলাদা অফিস-সংস্থাপনা, তিনটা আলাদা ব্যাবস্থাপনা, তিনটা আলাদা সাপ্লাই চেন। পদ্মা-মেঘনা-যমুনা'র বদলে একক বিপিসি মারকেটিং হইলে পাবলিকের তো লাভই হইত, নাকি?
একখানা বিপিসি মার্কেটিং থাকলেও তার অবকাঠামো আর অন্যান্য খরচান্ত হৈত। যদি তিনখান পদ্মা-মেঘনা-যমুনা একই কমান্ড এরিয়ায় কাজ করে, তাহলে এই খরচ নিয়ে আপত্তি তোলা যায়।
যতদূর জানি, তিন কোম্পানির কোন কমান্ড এরিয়া ভাগ করে দেয়া নাই। ফতুল্লা গেলে দেখবা পাশাপাশি তিনোজনের ডিপো, বাংলামোটর-শাহাবাগ-তেজগাও এলাকায় পাশাপাশি তিনোজনের পাম্প।
এদের কোন আলাদা কমান্ড এরিয়া নেই, তাদের পণ্যের মূল্যে বা সেবার মান-প্রকৃতিতেও কোন পার্থক্য নেই। বাংলাদেশে কেউ গাড়িতে জ্বালানী তেল নেবার সময় কখনোই খোঁজ করে না সেটা পদ্মা/মেঘনা/যমুনা'র ডিলারের আউটলেট - কারণ, এই খোঁজ করাটা অর্থহীন, অপ্রয়োজনীয়। কেউ একজন পেট্রোল পাম্প দেবার সময় যার কাছে ধরণা দিয়ে ডিলারশীপ পায়, তার সাইনবোর্ডই ঝুলায়। তিনটা আলাদা কোম্পানী করে ওভারহেড বাড়ানোর কোন যৌক্তিকতা এখানে নেই।
এই কম্পানিগুলি আলাদা আলাদা পূর্বসূরী কম্পানির জাতীয়করণের পরে আলাদা আলাদা সময়ে গঠিত হয়। এদের অ্যাসেট ও লায়াবিলিটির হিস্ট্রিও আলাদা। কাজের ক্ষেত্রের জিওগ্রাফিকাল ডিস্ট্রিবিউশন একই দেখাইলেও, সম্ভবত এদের পৃথক লিস্টেড কম্পানি হিসাবে কিছু পৃথক কর্মকাণ্ড আছে, তেলের মোটকা গাড়ি এদিক ওদিক করা ছাড়া।
কোম্পানিগুলার ইতিহাস, আয়, দায় ইত্যাদি আলাদা হওয়ার পাশাপাশি এদের কিছু কাজ আলাদা আছে মনে হয়। যেমন সমুদ্রবন্দরের জাহাজে কেবল যমুনা অয়েল জ্বালানি তেল (ফার্নেস অয়েল ) বিক্রি করতে পারে। অন্যদিকে কেবল পদ্মা অয়েল শাহ আমানত বিমানবন্দরে জ্বালানি তেল যোগান দিতে পারে।
কমিশন থেকেও এদের আরও বড় ঘাপলা আছে। বিদেশ থেকে আমদানি করে আনার পর ঘাটে ঘাটে তেল কমে আর বাড়ে বলে শোনা যায়। আবার পেট্রোল পাম্পগুলার অধিকাংশই প্রতি লিটারে মাপে কম দেয় দেখা গেছে। তেলে ভেজাল মেশানো তো কমন ঘটনা। মাপে কম আর ভেজাল দিয়া লিটারে কয়েক টাকা পর্যন্ত মাশুল আদায় হয় মনে হয়।
দেশের জ্বালানী চাহিদার প্রায় ৪৫ ভাগ পরিবহন খাতে ব্যয় হয়। এর সিংহভাগ ব্যয় হয় সমুদ্রগামী জাহাজ, বিমান আর রেলওয়ের পিছনে। এই তিনখাতে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ লিটার জ্বালানী লোপাটের সংবাদ আসছে আগে। প্রায় ছয় মাস আগেই প্রায় ৩ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েলের একটা অবৈধ চালান চট্টগ্রামে ধরা পড়েছিল, টাকার হিসাবে এর দাম প্রায় দুই কোটি টাকা।
পথিকদা, ঢাকা বিমানবন্দরের ব্যাপারটা ঠিক (পদ্মা); কিন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের কিন্তু পদ্মা-মেঘনা-যমুনা ও তাদের এজেন্টরা বাঙ্কারিং করে থাকে। ছত্রাকের মত গড়ে ওঠা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর তেল-মোবিল সরবারহের ক্ষেত্রেও কিছু উনিশ-বিশ আছে।
ঠিক। তবে সমুদ্রবন্দরে তেল বেচার সোল এজেন্ট যমুনাই ছিল মনে হয়। কি এক সমস্যা হৈয়া বছর খানেক আগে যমুনা তেল বাঙ্কারিং বন্ধ কৈরা দিলে অন্য কোম্পানির তেল বন্দরে ঢোকা শুরু করে।
আপনার প্রস্তাবমত আয় দায়সহই তিনটা কোম্পানিরে মার্জ করায় আমি কোন আপত্তি দেখি না, কেবল সাবেক কোম্পানির কোন চেয়ারটা মার্জ করার পর কোনখানে বসবে (বাক্যান্তরে তেলের লরির উপরি কার পাত্রে কতটুকু খালাস হবে), এই সংক্রান্ত বিবাদ বিসংবাদ ছাড়া।
আমার ধারণা- তেলচুরাদের নিবৃত্ত করতে পারলে আমাদের জ্বালানী ভর্তুকির অর্ধেক টাকা উসুল হইয়া যাইত।
অ্যাম্বিয়েন্ট টেম্পারেচার, ফ্লুইডের টেম্পারেচার, ভিসকোসিটি, ডেনসিটি এগুলো বছরের কত তারিখে আসলে কত ছিল আর কত বলে রেকর্ড করা হয়েছে এগুলো নিয়ে ব্যাপক খেলাধুলা চলে। সেই খেলাধুলা ক্রুড অয়েল কেনা থেকে শুরু করে রিফাইনারীতে পরিশোধন, বিতরণ, বিপনণ সব পর্যায়ে চলতে থাকে।
আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টিকে সহজেই ব্যাকট্র্যাক করা যাবে ভাবলেও সেটা কোনদিনই সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের সিস্টেম লসের নামে চুরি নিয়ে কিঞ্চিত আলাপ-আলোচনা হলেও জ্বালানী বিভাগের হরিলুট নিয়ে জানা-বোঝা-আগ্রহের ঘাটতি থেকে মিডিয়ায় কোন রিপোর্টও হয় না, কোন আলোচনাও হয় না।
প্রশাসনের দক্ষতা বাড়াতে কোথাও বিকেন্দ্রিকরণ দরকার হয়, কোথাও মার্জার / অ্যাকুইজিশন / অ্যাবোলিশন দরকার হয়। রাষ্ট্রের চরিত্র জনমুখী হলে প্রশাসনে জনমুখী পরিবর্তন আনা হবে। আর রাষ্ট্রের চরিত্র লুটেরাবান্ধব হলে লুটপাটের রাস্তা খোলা রাখা হবে।
রাষ্ট্রযন্ত্র আর সরকারের পার্থক্যটাও এখানে মাথায় রাখা দরকার।
কমিশন থেকেও এদের আরও বড় ঘাপলা আছে। বিদেশ থেকে আমদানি করে আনার পর ঘাটে ঘাটে তেল কমে আর বাড়ে বলে শোনা যায়। আবার পেট্রোল পাম্পগুলার অধিকাংশই প্রতি লিটারে মাপে কম দেয় দেখা গেছে। তেলে ভেজাল মেশানো তো কমন ঘটনা। মাপে কম আর ভেজাল দিয়া লিটারে কয়েক টাকা পর্যন্ত মাশুল আদায় হয় মনে হয়।
দেশের জ্বালানী চাহিদার প্রায় ৪৫ ভাগ পরিবহন খাতে ব্যয় হয়। এর সিংহভাগ ব্যয় হয় সমুদ্রগামী জাহাজ, বিমান আর রেলওয়ের পিছনে। এই তিনখাতে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ লিটার জ্বালানী লোপাটের সংবাদ আসছে আগে। প্রায় ছয় মাস আগেই প্রায় ৩ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েলের একটা অবৈধ চালান চট্টগ্রামে ধরা পড়েছিল, টাকার হিসাবে এর দাম প্রায় দুই কোটি টাকা।
ঠিক। তবে সমুদ্রবন্দরে তেল বেচার সোল এজেন্ট যমুনাই ছিল মনে হয়। কি এক সমস্যা হৈয়া বছর খানেক আগে যমুনা তেল বাঙ্কারিং বন্ধ কৈরা দিলে অন্য কোম্পানির তেল বন্দরে ঢোকা শুরু করে।
আপনার প্রস্তাবমত আয় দায়সহই তিনটা কোম্পানিরে মার্জ করায় আমি কোন আপত্তি দেখি না, কেবল সাবেক কোম্পানির কোন চেয়ারটা মার্জ করার পর কোনখানে বসবে (বাক্যান্তরে তেলের লরির উপরি কার পাত্রে কতটুকু খালাস হবে), এই সংক্রান্ত বিবাদ বিসংবাদ ছাড়া।
আমার ধারণা- তেলচুরাদের নিবৃত্ত করতে পারলে আমাদের জ্বালানী ভর্তুকির অর্ধেক টাকা উসুল হইয়া যাইত।
আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টিকে সহজেই ব্যাকট্র্যাক করা যাবে ভাবলেও সেটা কোনদিনই সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের সিস্টেম লসের নামে চুরি নিয়ে কিঞ্চিত আলাপ-আলোচনা হলেও জ্বালানী বিভাগের হরিলুট নিয়ে জানা-বোঝা-আগ্রহের ঘাটতি থেকে মিডিয়ায় কোন রিপোর্টও হয় না, কোন আলোচনাও হয় না।
প্রশাসনের দক্ষতা বাড়াতে কোথাও বিকেন্দ্রিকরণ দরকার হয়, কোথাও মার্জার / অ্যাকুইজিশন / অ্যাবোলিশন দরকার হয়। রাষ্ট্রের চরিত্র জনমুখী হলে প্রশাসনে জনমুখী পরিবর্তন আনা হবে। আর রাষ্ট্রের চরিত্র লুটেরাবান্ধব হলে লুটপাটের রাস্তা খোলা রাখা হবে।
রাষ্ট্রযন্ত্র আর সরকারের পার্থক্যটাও এখানে মাথায় রাখা দরকার।