ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বিবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জকে না'গঞ্জ লেখার একটা ফ্যাশন তৈরির চেষ্টা বহুদিন ধরে চলমান। এই ফ্যাশনওয়ালাদের ফরিদপুরকে ফপুর কিংবা মোহাম্মদপুরকে মোপুর লিখতে তো দেখি না।
রানা, ব্যাপারটা আলাদা নয়। বগুড়া আজিজুল হক কলেজ বা কালকিনী সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ বা রংপুর কারমাইকেল কলেজের নাম কিন্তু সংক্ষিপ্ত করা হয় না, যেটা করা হয় খুলনা ব্রজলাল কলেজ (বি এল কলেজ), বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ (বি এম কলেজ), ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ (এ এম কলেজ), বাগেরহাট প্রফুল্লচন্দ্র কলেজ (পি সি কলেজ), যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজ (এম এম কলেজ)-এর ক্ষেত্রে। সুবিধামতো জায়গায় বলার সুবিধা ব্যবহার করা হয়।
মধুসূদনের আগে মাইকেল আছে, খিয়াল কৈরা। তবে ব্যাটা যে স্বভাবে কেষ্টঠাকুরের মতো ছিল সেটা ঠিক। ঔপনিবেশিক পূর্ববঙ্গের পয়সাওয়ালাদের মধ্যে বেশিরভাগ শাক্ত ছিল - অন্তত জমিদারগুলো। বিষ্ণু বা তার অবতারদের প্রতি তাদের স্পেশাল ভক্তি ছিল এমনটা বলা যায় না। ভক্তিমতের প্রতি যাদের আগ্রহ ছিল বলে মনে হয়, তারাও ভক্তিমতের মূল দর্শনের চেয়ে তার ডালপালার দিকে বেশি আগ্রহী ছিল। প্রতিষ্ঠানের নামকরণের সময় বিষ্ণুর শরণাপন্ন হবার কারণ মনে হয় স্ত্রীবাচক (শক্তি, কালী, বগলা, চতুর্ভূজা, পার্ব্বতী, তারা, কাত্যায়নী ইত্যাদি) নাম পরিহার করা।