সাজাপ্রাপ্তরে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার এখতিয়ার থাকলে তিনি কেনো ক্ষমা করছেন সেই প্রশ্ন অবান্তর। রাজারে ক্ষমা করার ক্ষমতা দিয়া 'ক্ষমা করলেন ক্যান' জিগানোর মানে কী? সঠিক প্রশ্ন হইলো রাষ্ট্রপতি সাজা মওকুফ করার অধিকারপ্রাপ্ত হন কার উপকারে?
ক্ষমা করার এখতিয়ার থাকলেই তিনি কেনো ক্ষমা করছেন সেই প্রশ্ন অবান্তর হবে কেনো? রাজার কাছে ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার আশা করা তো অত্যন্ত যৌক্তিক দাবী! With great power comes great responsibility - এই ধরনের কথা তো শিশুতোষ মুভিতে বলা হয়।
কিন্তু উনি তো বিচারক না যে কারণ, তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ক্ষমা করবেন। ওনাকে ক্ষমতাটা দেওয়ার অর্থই তো বিচারালয়ের কৃত কারণ, তথ্য, উপাত্তকে অগ্রাহ্য করা। বিচারালয় প্রদত্ত সাজা মওকুফের আইনি তো কোনো কারণ থাকতে পারে না। অআইনিও বা কী ধরনের কারণ থাকতে পারে? বিচার করা কোনো সাজা মওকুফের ঠিক কী কী যথার্থ কারণ থাকতে পারে?
"With great power comes great responsibility" এইসব শিশুতোষ কথা তো আমরা বলি, যখন ইনসাফ করতে গিয়া বেইনসাফি হওয়ার সুযোগ থাকে। এই জায়গায় এই ক্ষমতার ব্যবহারে আদৌ কোনো ইনসাফের সুযোগ কি আছে? তাইলে আমরা বুঝতাম, রাষ্ট্রপতি এখানে কীসের responsibility নিতেছেন, কীসের দায়িত্ব পালিতেছেন। সেইটা আগে মীমাংসা হওয়া দরকার। ফলে, রাষ্ট্রপতি সাজা মওকুফ করার অধিকারপ্রাপ্ত হন কার উপকারে, এইটাই আদি প্রশ্ন। যেইখানে একটা ক্ষমতা ব্যবহারের সকল সম্ভাব্য পরিণতিই বেইনসাফি হয়, সেইখানে "কেনো ক্ষমা করছেন" তো অবান্তর প্রশ্নই।
রাষ্ট্রপতিকে একটা সিস্টেম ওভাররাইড করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষাপটটা কী? রাষ্ট্রপতি যখন ক্ষমা করবেন, তখন তিনি কিসের বিবেচনায় আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন? একজন কাদের, পুলিশের মতে ডাকাত - মিডিয়া/পরিচিতদের মতে ছাত্র/নিরীহ। একজন বিপ্লব পুলিশ/আদালতের মতে খুনী, লক্ষীপুরের তাহের ঘনিষ্ঠ আওয়ামীগ্রুপের মতে নিষ্পাপ। রাষ্ট্রপতি তার পাওয়ার এন্ফোর্স করার সময় কিসের বিবেচনায় রেস্পন্সিবল হবেন?
ধ্রুব বর্ণন ভাই, সময় করে এইটা নিয়ে পোস্ট দিলে আলোচনা ভাল করে করা যাবে বলে আশা করি। কলরবের ক্ষীণ কলেবরে খুব একটা জুত হচ্ছেনা।
আপনার প্রশ্নগুলো ঠিক আছে। কিন্তু সেটা রাজার ভুমিকাকে নিয়ে প্রশ্ন করাটাকে অবান্তর করে দেয় না। সাফির মন্তব্যের উত্তরে আপনি যেমন বলেছেন এটা একটা অপভ্রংশ, সে কারণেই আমেরিকায় এই নিয়ম থাকলেও প্রেসিডেণ্ট সেই সুযোগ নিয়ে ক্ষমা করেছেন এরকম নজীর বিরল। থ্যাঙ্কসগিভিং এর সময় একটা টার্কি-কে ক্ষমা দেয়া ছাড়া আমার স্মৃতিতে নেই যে কাউকে ক্ষমা করা হয়েছে। শুধুমাত্র দূর্নীতিপূর্ণ দেশের দূর্ণীতিবাজ শাসকরাই এই আইনের সুযোগ নেন আজকাল।
আপনার প্রশ্নগুলো ঠিক আছে। কিন্তু সেটা রাজার ভুমিকাকে নিয়ে প্রশ্ন করাটাকে অবান্তর করে দেয় না। সাফির মন্তব্যের উত্তরে আপনি যেমন বলেছেন এটা একটা অপভ্রংশ, সে কারণেই আমেরিকায় এই নিয়ম থাকলেও প্রেসিডেণ্ট সেই সুযোগ নিয়ে ক্ষমা করেছেন এরকম নজীর বিরল। থ্যাঙ্কসগিভিং এর সময় একটা টার্কি-কে ক্ষমা দেয়া ছাড়া আমার স্মৃতিতে নেই যে কাউকে ক্ষমা করা হয়েছে। শুধুমাত্র দূর্নীতিপূর্ণ দেশের দূর্ণীতিবাজ শাসকরাই এই আইনের সুযোগ নেন আজকাল।
তাছাড়া আপনি নিজেই বলেছেন, "কিন্তু উনি তো বিচারক না যে কারণ, তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ক্ষমা করবেন।" সেই কারণেই রাজা নিজে এথিক্যাল কারণে এই আইনের প্রয়োগ করতে অনেক সাবধান থাকার কথা - বিশেষ করে আলোচ্য ক্ষেত্রে যেহেতু প্রেসিডেণ্টের সাথে বিপ্লবের পরিবারের ব্যক্তিগত ওঠাবসা আছে বলে জানা গেছে। আইনের বলে একটা ক্ষমতা দেয়া হলেই আপনি সেটা যথেচ্ছ প্রয়োগ করতে থাকবেন? এসব কারণেই প্রশ্ন তোলাটা অবান্তর না।
রাষ্ট্রপতি বিপ্লবকে যখন প্রথমবার ক্ষমা করেন, তখন হাসান মোরশেদ ভাই সচলে একটা লেখা দিয়েছিলেন, এরকম চিন্তাভাবনা নিয়ে। ওখানে আলোচনাগুলো দেখে নিয়েন একটু।
"With great power comes great responsibility" এইসব শিশুতোষ কথা তো আমরা বলি, যখন ইনসাফ করতে গিয়া বেইনসাফি হওয়ার সুযোগ থাকে। এই জায়গায় এই ক্ষমতার ব্যবহারে আদৌ কোনো ইনসাফের সুযোগ কি আছে? তাইলে আমরা বুঝতাম, রাষ্ট্রপতি এখানে কীসের responsibility নিতেছেন, কীসের দায়িত্ব পালিতেছেন। সেইটা আগে মীমাংসা হওয়া দরকার। ফলে, রাষ্ট্রপতি সাজা মওকুফ করার অধিকারপ্রাপ্ত হন কার উপকারে, এইটাই আদি প্রশ্ন। যেইখানে একটা ক্ষমতা ব্যবহারের সকল সম্ভাব্য পরিণতিই বেইনসাফি হয়, সেইখানে "কেনো ক্ষমা করছেন" তো অবান্তর প্রশ্নই।
ধ্রুব বর্ণন ভাই, সময় করে এইটা নিয়ে পোস্ট দিলে আলোচনা ভাল করে করা যাবে বলে আশা করি। কলরবের ক্ষীণ কলেবরে খুব একটা জুত হচ্ছেনা।