কম করে হলেও গত দশ বছর ধরে আকাশে হাতি আর ড্রাগনের লড়াই চলছে। এটা পঞ্চাশ-ষাটের দশকের ঈগল আর শ্বেতভল্লুকের লড়াইয়ের মতো। আমি গবেষণার বিপক্ষে নই। তবে প্রায়োরিটি ঠিক করতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
জাতীয় আয়ের খুব ক্ষুদ্র একটা অংশ খরচ হয় স্পেস প্রোগ্রাম এ. আর গত ৫০ বছরে স্পেস প্রোগ্রাম থেকে আসা টেকনোলজি ভারতের জনসাধারণের জন্যও অনেক কাজে লেগেছে. ইন ফাক্ট একই খরচ করে এর চেয়ে ভালো আউটপুট কিছুতেই পাওয়া যেত না. আর এটা ভাবার কারণ নেই অন্য খাতে কোনো গবেষণা হচ্ছে না. বাংলাদেশের এ থেকে শেখার আছে.
এমনকি আপাত দৃষ্টিতে কেবল কৌতূহল মেটানোর জন্য মনে হলেও গবেষণার কোন বিকল্প নেই। কৌতূহল এবং কৌতূহল মেটানোর স্পৃহা ছাড়া মানুষের কোন বিশেষত্ব নেই। মহাকাশ গবেষণা এবং খাদ্যাভাব একপাল্লায় রেখে যদি মাপা যায় তাহলে সকল গল্প এবং কবিতার বইও শিশুদের অভুক্ত রাখার জন্য দায়ি। এবং স্মার্টফোন, একাধিক পোশাক, প্রসাধনী, সিনেমা, সঙ্গীত, বিয়ারের বোতল, কোকাকোলা, রাস্তারমোড়ের ভাস্কর্য। ইত্যাদি ইত্যাদি
আমি কি মহাকাশ গবেষণার বিপক্ষে কিছু বলেছি? না। আমি বলেছি প্রায়োরিটির কথা। মহাকাশ গবেষণার বিষয়বস্তু ও ক্ষেত্র নির্ধারণেও প্রায়োরিটি ঠিক করার ব্যাপার আছে। ভারতের আর গণচীনের মহাকাশ গবেষণার প্রকৃতিকে তুলনা করলে স্পষ্ট হবে দরকারী মহাকাশ গবেষণা আর আকাশে হাতি vs ড্রাগনের লড়াইয়ের পার্থক্য কী।
ঠান্ডা যুদ্ধ? সেক্ষেত্রে কোনো এক পক্ষের চরম অধপতন হবার আগে সেটা থামার কোনো উপায় কোনো পক্ষের হাতেই নেই। নইলে অন্যের হাতে জিম্মি হতে হয়। তখন নদী-মদি আটকে দিলে কিছু বলার থাকে না। আর প্রায়োরিটির কথা কী বলব। আইপিএল এর বাজেটও মঙ্গলাভিযানের ব্যয়ের (৫০০কোটি) চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।