উড়ুক্কু- শেষ পর্ব

আয়নামতি's picture
Submitted by aaynamoti [Guest] on Wed, 06/06/2018 - 9:55am
Categories:

স্কুলে বসেই টিঙ্কু পাঁচপেয়ে রাণীর সাক্ষাত চেয়ে একটা আর্জি পত্রবাহক মারফৎ পাঠিয়ে দিয়েছে। রাণীকে সংকেতের মাধ্যমে আর্জি জানানো আইন বিরুদ্ধ। সম্মতি বার্তা নিয়ে বাহক ফিরেও এসেছে। রাণী তার জন্যে আজ বিকেলে তিন মিনিট সময় বরাদ্দ করেছেন। সময়ের ব্যাপ্তি দেখে টিঙ্কুবুড়োর শূঁড়ে একটা কম্পন বয়ে যায়। অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে পারে রাণী তার সাথে গুরুতর কিছু নিয়ে আলোচনা করতে চান। ঠিক কোন বিষয়ে রাণী তার সাথে আলোচনা করতে চান সেটা তার জানবার কথা নয়। তাই সেটা নিয়ে না ভেবে টিঙ্কু নিজে যে কারণে তার সাক্ষাত প্রার্থনা করেছে সেটা গুছিয়ে লিখবার জন্যে ডায়েরি খুলে বসে। আগেভাগে যে কোনো কাজের পরিকল্পনা করে নেয়া এবং তার খুঁটিনাটি বিষয়াদি ডায়েরিতে লিখে রাখাটা তার অভ্যাস। টিঙ্কু পাঁচপেয়ের লেখা ভারী চমৎকার।

গোটা গোটা অক্ষরে ডায়েরির পাতায় কিছু পয়েন্ট টুকে বুড়ো। রাণীর সাক্ষাত প্রার্থনার প্রধান কারণ উড়ুক্কু। উড়ুক্কুকে দ্রণ নির্বাচিত করবার বিষয়ে বুড়োর ঘোর আপত্তি। উড়ুক্কুর মত একটা প্রতিভাবান ছেলের জীবন কিছুতেই রাণীমহলের আরাম আয়াসের আলস্যে ভেসে যাবে, তা হয় না। তার ভেতরে বুড়ো আগুন দেখেছে। সে আগুন সবখানে ছড়িয়ে দেবার ক্ষেত্র তৈরিতে সে খানিকটা এগিয়েছেও। এমন সময় উড়ুক্কুর দ্রণ হয়ে বসা মানে একটা স্বপ্নের অপমৃত্যু। এই অপমৃত্যু ঠেকাতে অবশ্যই তার কিছু করণীয় আছে। তাছাড়া, উড়ুক্কু নিজেও দ্রণ হবার বিষয়ে একেবারে উৎসাহী নয়। এটা বুড়োকে সে মুখ ফুটে না বললেও ওর মন পড়ে নিতে একটুও সময় লাগেনি তার। শ্রেণিহীন সমাজ ব্যবস্হা, সমাজের উন্নতি ইত্যাদিতে উড়ুক্কুর আগ্রহ। টিঙ্কুর গভীর আস্হা নিজের উপর, রাণীকে এ বিষয়ে সে প্রভাবিত করতে পারবে। তার হাতে তুরুপের একটি তাস আছে। সেটিকেই বুড়ো কাজে লাগাবে আজ।

তাদের এই ট্ররটিলা নামের পিঁপড়েটুলিতে( কলোনি) পিঁপড়েদের লক্ষণ বিচারপূর্বক প্রজাতি, গোত্র ইত্যাদি বিচারের বিদ্যাতে টিঙ্কু পাঁচপেয়ে একমাত্র বিশেষজ্ঞ। তার সে জ্ঞান কাজে লাগিয়ে উড়ুক্কুর আসল প্রজাতি সম্পর্কে নির্ভুল গণনা করেছে সে। দেখতে একই রকম হলেও উড়ুক্কু আগুনমুখো প্রজাতিভুক্ত নয়। রাণীর দ্রুণ হিসেবে অন্য প্রজাতির কাউকে নির্বাচনের রীতি ট্ররটিলাদের নেই। বাজি জিতে যাবার জন্যে এটিই যথেষ্ট। আসন্ন আলোচনা ফলপ্রসু হতে যাচ্ছে এমন একটা ভাবনা বুড়োর মুখে পাতলা একটা হাসি ছড়িয়ে দেয়। মনে মনে সে দ্রণ নির্বাচকমণ্ডলীর মুণ্ডুপাত করতেও ভুলে না। ব্যাটাদের জন্যে বেহুদা সময় নষ্টের হ্যাপা শুধু শুধু। সে নিশ্চিত উড়ুক্কুর চৌকস চেহারা ছবিই ওকে নির্বাচনের তালিকায় তুলে দিয়েছে। বুদ্ধিহীনেরা কবেই আর প্রতিভার কদর বুঝে। অবশ্য তাদের মধ্যে কেউ তো আর তার মতো প্রজাতি বিশেষজ্ঞ নেই, ভুল হওয়া স্বাভাবিক। ব্যাপারটা বুড়োর মনে আত্মতৃপ্তির মৃদু একটা ঢেউ তোলে। ডায়েরি লেখা শেষ করে রাণীর খাস মহলে যাবার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে টিঙ্কু পাঁচপেয়ে।

***
শাস্তিগুহায় ঢুকতেই মগডালে বসে থাকা টট্টর তরল গলায় স্বাগত জানায় উড়ুক্কুকে। টট্টরকে সে খানিকটা এড়িয়ে চলে। ছেলেটির কাজেকর্মে মন নেই, শুধু ফূর্তিবাজিতে উৎসাহ। প্রায় সপ্তাহে শাস্তিগুহায় একবার করে ঘুরে যায় টট্টর। ওদের সমাজে ভুল সংশোধন করে সঠিকভাবে চলার রেওয়াজটা এই ছেলে সত্যিই ডুবিয়ে ছাড়বে একদিন। উড়ুক্কু বিষন্ন মুখে শূঁড় নাড়িয়ে প্রতিত্তোরে ধন্যবাদ সুলভ একটা কিছু বলে। ওর ভারী সংকোচবোধ হচ্ছে, আজকের আগে তাকে কখনো এখানে আসতে হয়নি। নিয়মশৃঙ্খলা- রুচিবোধ তার খুব প্রবল বলেই হয়ত এই সংকোচ। ঠোঁটকাটা টট্টর সেসবের তোয়াক্কা না করে প্রায় চেঁচিয়ে বলে, ওহে জ্ঞানী, আজ আর তোমাতে আমাতে কোনো পার্থক্য নেই। তোমার গোমরের কোমর ভাঙলো আজ! তারপর বেসুরো গলায় গেয়ে ওঠে, 'মোরা যাত্রী একই তরণীর।'

'উফ্! টট্টর, শষ্যের কাঁকর বাছা শেষ করো জলদি। সময় কিন্তু বেশি নেই।' ডানপাশ থেকে ভেসে আসা বেশ গুরুগম্ভীর একটা গলা শুনতে পায় উড়ুক্কু। এবার গলার মালিক উড়ুক্কুকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে, 'ভাই উড়ুক্কু, তুমি আমায় চিনবে না। তবে আমি তোমায় চিনি। তোমাদের যন্ত্রকৌশল বিভাগের উল্টো দিকের পূর্বকোণে আমাদের গোয়েন্দাসংস্হা। তথ্যে গড়মিল নিয়ে সংস্হা প্রধানের সাথে ক্যাচাল করায় ব্যাটা আমার নামে কাজে ফাঁকির নাশিল ঠুকে শাস্তি গুহায় পাঠিয়েছে। আমার নাম চৌচির। তোমাকেও বুঝি ব্যাটা হুলোহুলো ফাঁসিয়ে দিয়েছে?' একনাগারে কথাগুলো বলে থামে চৌচির। সসংকোচে উড়ুক্কু জানায় দোষ তার নিজেরই। চৌচির শূঁড় ঝাঁকিয়ে কথাটা মেনে নিতে অস্বীকার করে। তার এক কথা, উড়ুক্কুর মতো ভালো ছেলে কাজে ফাঁকি দেবে এটা অবিশ্বাস্য।

খাদ্য ভাণ্ডারের চট্টুলকে এখানে দেখে অবাক হয় উড়ুক্কু। চট্টুলকে সে ভীষণ পছন্দ করে। যেমন তার পড়াশোনা, তেমনই অমায়িক বন্ধুবাৎসল আর কর্মবীর চট্টুল। সে এখানে কী করতে! জানা গেলো তার কেসও খানিকটা উড়ুক্কুরই মতো। খুব গোপনে আর কষ্টেসৃষ্টে যোগাড় করা একটা বইতে অতিকায় প্রাণী মানুষদের বিপ্লবের কাহিনিতে সে এতই মশগুল হয়ে পড়েছিল যে, কাজের সময় গড়িয়ে যাচ্ছে সেটাও খেয়াল করেনি। যে কারণে তার এখানে আগমন।

ইতিমধ্যে টট্টর সশ্রম শাস্তি শেষ করে ফিরে যাবার আগে মজার ভঙ্গি করে সবার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে বলে যায়, 'ফের দেখা হবে বন্ধু!' উড়ুক্কু আর চট্টুলের কাজে গাফলতির পূর্ব রেকর্ড নেই। এমন শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য বিনাশ্রমে ১৫ মিনিট শুয়ে বসে থাকা শাস্তি হিসেবে নির্ধারিত। কাজ পাগল পিঁপড়ে মাত্রই এমন শাস্তিতে দম আটকে মরার দশা। কিন্তু এ মুহূর্তে শাস্তিটাকে উড়ুক্কুর শাপে বর মনে হচ্ছে। চট্টুলের কাছ থেকে মানুষ সমাজের বিপ্লব নিয়ে, শ্রেণিহীন সমাজ ব্যবস্হা নিয়ে শোনার আগ্রহে সে চট্টুলার ওদিকার ডালের কাছ ঘেঁষে বসে। এদিকটাতে স্যাঁত স্যাঁতে ভাবটা যেন একটু বেশি। তাতেও খুব একটা গ্রাহ্য করে না উড়ুক্কু। বলা শুরু করে চট্টুলা। মন দিয়ে শুনে যায় উড়ুক্কু মানুষের শ্রেণিহীন সমাজ ব্যবস্হার সফলতা-ব্যর্থতার ইতিহাস। চট্টুলা খুব প্রাণবন্তভাবে বলে যায় মানুষদের বিপ্লবের কাহিনি, আর উড়ুক্কু গ্রোগাসে সেসব গিলতে থাকে। মানুষের পৃথিবীতে বিপ্লব লেগেই আছে। দু'দুটো বড় যুদ্ধ হয়ে গেছে, যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অভাবনীয়। শ্রেণিহীন সমাজ ব্যবস্হা নিয়ে বলার মুখে খানিক থমকে যায়, দেখে উড়ুক্কু কেমন অস্বস্তি নিয়ে শরীর মোচড়াচ্ছে।

'কী হলো তোমার?' দ্রুত স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করে উড়ুক্কু। 'না, তেমন কিছু না। গায়ে কেমন আঠালো একটা জিনিস লেগেছে। অস্বস্তি হচ্ছে, ছাড়ানো যাচ্ছে না কিছুতে। থাকগে, বাড়ি গিয়ে সাবান ঘষে গোসল করলে চলে যাবে নিশ্চয়। তুমি বলে যাও।' 'সাবানে কাজ না হলে, বালি ঘষে দেখতে পারো।' ওদের অবাক করে দিয়ে চৌচির গলা তুললো। তারমানে এই পুরোটা সময় চৌচির সবটাই শুনেছে! গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করে চৌচির, ব্যাপারটা ওদের খানিকটা অস্বস্তিতে ফেলে দিলো। যদিও বই পড়া ওদের সমাজে অপরাধের কিছু না। তবে বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি আসতে কতক্ষণ! সাবধানের মার নেই। বুদ্ধিমান চট্টুলা একটা কৃত্রিম হাই তুলে চৌচির কে শুনিয়ে বললো, 'বেশ ঘুম পেয়েছে। খানিক ঘুমিয়ে নেই বরং।' একফাঁকে সংকেত পাঠিয়ে উড়ুক্কুকে পরে বাকিটা শোনাবে জানিয়ে পাশ ফিরে সত্যিসত্যি ঘুমের তোড়জোড় শুরু করলো।

***
রাণীর খাস মহলের আলোচনাকক্ষে বসে আছে পণ্ডিত টিঙ্কু পাঁচপেয়ে। একজন রাজ কর্মচারী তার সামনে রাজসিক খাদ্যবস্তু রেখে দাঁড়িয়ে আছে বুড়োর সংকেতের অপেক্ষায়। সৈনিক পিঁপড়ের অস্বাভাবিক শারীরিক গঠনের জন্য নিজে নিজে খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না, অন্যের সাহায্য প্রয়োজন হয়। টিঙ্কু বুড়ো একজন প্রাক্তন সৈনিক। বুড়ো ইশারা করতেই কর্মচারীটি মধুর পেয়ালাটা এগিয়ে ধরে তার শূঁড়ের সামনে। খানিকটা মধু মুখে নেয় বুড়ো। বাহ! চমৎকার স্বাদ। আরো খানিকটা খাবার ইচ্ছায় শূঁড় তোলার মুহূর্তে রাণী সাহেবার আগমণবার্তা ঘোষিত হয়। সসম্মানে উঠে দাঁড়িয়ে রাণীকে অভিবাদন জানায় পণ্ডিত। প্রাথমিক কুশলাদি বিনিময়ের ধাপ পেরিয়ে মূল আলোচনা শুরু করতে অনুরোধ করেন রাণী।

টিঙ্কু পাঁচপেয়ে বিনা ভণিতায় দ্রণ হিসেবে উড়ুক্কুর নির্বাচন চূড়ান্ত কিনা সেটা জানতে চায়। রাণী সাহেবা তার পাখায় মৃদু কম্পন তুলে পালটা প্রশ্ন করেন, প্রধান পণ্ডিতের পাণ্ডুলিপি সহকারীটির মনোনয়ন চূড়ান্তের সুপারিশ করাই তার আগমনের হেতু কি? পণ্ডিতকে অপেক্ষায় না রেখে উত্তরটাও জানান দ্রুতই, সেজন্য কষ্ট করে না আসলেও তার চলতো। তার সহকারী বলেই রাণীর বিশেষ সুপারিশে উড়ুক্কুকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কাজেই তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। বুড়োর মুখ খানিকটা ঝুলে পড়ে হতাশায়। এদিকটার কথা তো তার মাথাতে আসেনি! নিজের উপর রাগ হয় ভীষণ। কিন্তু এখন সেসব ভেবে সময় নষ্টের মানে নেই।

গলা খাঁকারি দিয়ে স্পষ্টভাবে পণ্ডিত জানায় তার আগমণের উদ্দেশ্য একেবারেই উল্টো। এরপর কেন উড়ুক্কুকে দ্রণ করা ঠিক হবে না একে একে প্রায় সবই বলে যায় বুড়ো। রাণী সাহেবার তাতে খুব একটা ভাবান্তর ঘটেনা। বরং তিনি জানান, 'এতে তো ভালোই হবে পণ্ডিত মশাই, ছেলেমেয়েরা ভালো শিক্ষায় শিক্ষিত হবে ঘরে বসেই।' তাতে কোনো দ্বিমত নেই জানিয়ে খানিকটা নাটকীয় ভঙ্গিতে বুড়ো বলে ওঠে, 'কিন্তু তা তো হবার জো নেই রাণী সাহেবা! উড়ুক্কু কোনোদিনই সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হবে না। কারণ সে আগুনমুখো প্রজাতির বাইরের একজন। আর আপনার তো ভালোভাবে এ তথ্য জানা আছে, বাইরের অন্য প্রজাতি আগুনমুখোর রাণীকে সন্তান দানে অক্ষম!' বুড়োর ধারণা মতো রাণী এবার পুরোপুরি ধরাশায়ী হলেন।

সিদ্ধান্ত হলো নির্বাচক মণ্ডলীর কাছে তারবার্তা পাঠিয়ে উড়ুক্কুর নাম তালিকা থেকে বাদ দেবার সুপারিশ যাবে। শূঁড় তুলে রাণী কেমন একটা হতাশ ভঙ্গি করে বলে উঠলেন, 'আজ চারদিক থেকে শুধু দুঃসংবাদ পাচ্ছি পণ্ডিত মশাই!' পাখা নাড়িয়ে হতাশা উড়িয়ে এরপর রাণী টিঙ্কু পাঁচপেয়ের সাথে গোয়েন্দা বাহিনি মারফত পাওয়া খবরগুলো নিয়ে গভীর আলোচনায় ডুবে গেলেন। একটা বিচক্ষণ উপদেশমণ্ডলী থাকা সত্বেও প্রধান পণ্ডিতের পরামর্শের উপর রাণীর অগাধ আস্হা। আজ পর্যন্ত পণ্ডিতের কোনো পরামর্শ ভুল প্রমাণিত না হওয়াটা একটা প্রধান কারণ অবশ্য। তাছাড়া এই বুড়ো পণ্ডিতটিকে ঘিরে রাণীর নিজস্ব কিছু অনুভূতি কাজ করে। পিতা মাতার কোনো স্মৃতিই তার নেই। কিন্তু যখনই তিনি এই বিপুল জ্ঞানী বুড়োর সংস্পর্শে আসেন খুব আপনজনের কাছে আসবার অনুভূতি পান যেন। যে কারণে টিঙ্কু পাঁচপেয়ের প্রতি রাণীর ভীষণ পক্ষপাতিত্ব। তার মন্ত্রী পরিষদের অনেকেই বিষয়টা ভালো চোখে দেখে না, রাণী সাহেবা সেসব একদমই আমলে নেন না।

***
শাস্তিগুহা থেকে ফেরার পরপরই উড়ুক্কু কেমন বদলে গেছে। এমনিতে শান্ত শিষ্ট হলেও বন্ধু মহলে তার গ্রহণযোগ্যতা ঈর্ষণীয়। যে কোনো আড্ডায় সে মধ্যমণি। বেশি কথা হয়ত বলছে না, কিন্তু যখন বলে তখন বন্ধুমহলে বাহবার হুল্লোড় বয়ে যায়। প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় কিছুক্ষণের জন্য উড়ুক্কু আর তার বন্ধুরা আড্ডায় বসে। কিন্তু প্রায় দু'দিন হলো বন্ধুরা আড্ডায় তাকে পাচ্ছে না। চট্টুলা বই বগলে করে বার দুয়েক ঘুরে গেছে, তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ওদিকে বুড়ো টিঙ্কু পাঁচপেয়ে সংকেতের পর সংকেত পাঠিয়েও তার কোন সাড়া পাচ্ছে না। সংবাদবাহক দিয়ে একখানা তারবার্তা পাঠিয়েছে শেষমেশ। এদিক ওদিক এলোমেলো হাঁটাহাঁটি শেষে উড়ুক্কু বাড়ি ফিরে সেটি পড়েছেও। বার্তায় লেখা, দারুণ কী একটা খবর আছে তার জন্যে! খবরটা কী হতে পারে ভাবনা আসবার পরবর্তী মুহূর্তেই নিজের ভেতর কেমন শূন্যতাবোধ করে উড়ুক্কু।

সুস্হির মত কিছু ভাবতে বা করতে সমস্যা হচ্ছে উড়ুক্কুর। চিন্তাশক্তিও কেমন অসাড় হয়ে যাচ্ছে থেকে থেকে। কাজের জায়গাতেও আজ বিরাট এক দুর্ঘটনা ঘটে যেতো যদি সময় মত আরেক সহকর্মী এসে মেশিন বন্ধ না করতো। শরীরটা যেন তার ইচ্ছেতে চলছে না, অন্য কেউ তাকে পরিচালিত করছে। সারা গায়ে সাদা সাদা কী যেন আবরণ পড়তে শুরু করেছে। এত আঠালো যে ছাড়ানো যায় না, সাবান বা লবন ঘষেও। দেখতেও কেমন বিশ্রী লাগে এখন তাকে। এসব কারণে সে অন্যদের কিছুটা এড়িয়ে চলছে। এসব কী হচ্ছে? কেন হচ্ছে? উড়ুক্কু কেমন অসহায়বোধ করে। সে ঠিক করলো টিঙ্কু বুড়োর কাছে গিয়ে সব খুলে বলবে।

সেদিন কাজ শেষে অনেক ভেবেও উড়ুক্কু মনে করতে পারলো না তার বাড়ির পথটা ঠিক কোন দিকে। পথের মাঝখানে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে কেমন ঘোরলাগা ভাবে সে জঙ্গলের দিকে এলোমেলো পা ফেলে হাঁটতে শুরু করে। জঙ্গলের ওদিকটায় কেউ তেমন একটা যায় না। ক্লান্তিতে শরীর কেমন ভেঙে পড়তে চায় উড়ুক্কুর। একটা আধমরা পাতা পেয়ে তার উপর শুয়ে পড়লো। মনে হলো দিনের আলো কমে আসছে। সেদিন দুপুরবেলাতেই যেন সূর্যাস্ত নেমে এলো উড়ুক্কুর পৃথিবীজুড়ে। তার কিছু সময় পর একটা সাদা আবরণ আস্তে আস্তে তাকে সম্পূর্ণ গ্রাস করলো নিঃশব্দে।

***
উড়ুক্কু নিখোঁজ হবার খবরটা টিঙ্কু পাঁচপেয়ের কাছে পৌঁছাতে কেমন একটা অমঙ্গল আশংকায় ভেতরটা কেঁপে ওঠেছিল বুড়োর। খুশীর খবরটা পেয়ে উড়ুক্কু তার কাছে ছুটে না এসে কেমন দূরত্ব রেখে চলছিল, সেটা তাকে খুব ভাবাচ্ছিল। কত ছেলে বুড়ো পিঁপড়ে এদিক সেদিক হারিয়ে যায়। বেঘোরে মারা পড়ে প্রতিদিন। তা নিয়ে পিঁপড়ে সমাজে কোন বিকার নেই, এসব দৈনিক স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু উড়ুক্কুর ব্যাপারটা টিঙ্কু পাঁচপেয়ের কাছে বেদনাদায়ক। তাকে নিয়ে একটা স্বপ্ন গড়ে উঠছিল। ঠিক এসময়ে নিখোঁজ হবার ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছে না সে।

ট্ররটিলা পিঁপড়েটুলির প্রধান রাজপণ্ডিতের বিশেষ অনুরোধে রাণী আদেশ জারি করেন চিরুনী অভিযানের। উড়ুক্কুর খোঁজ দিয়ে যৌথবাহিনিকে সাহায্যের বিশেষ আহ্বান জানানো হয় সম্মিলিত পিপীলিকা কমিটির প্রতিটি সদস্যকে। এমন ঘটনা এই টুলিতেই শুধু না, পিঁপড়ে সমাজের ইতিহাসেও ইতিপূর্বে ঘটেনি।

দিন দুয়েক পর, যৌথবাহিনি মারফত খবর এলো সাদারোগে আক্রান্ত একটা পিঁপড়ের লাশ দেখা গেছে টুলির বাইরে জঙ্গলের একটা গাছের গোড়ায়। খবরটা পেয়ে বুড়ো পণ্ডিতের মনটা কেমন করে উঠলো। সে কাউকে কিছু না বলে ছুটে গেল ওখানে। নিরাপত্তার কারণে তাকে কাছে যেতে দেয়া না হলোও, বিশেষ শূঁড় সংকেত দিয়ে বুঝতে পারলো ওই সাদা পর্দার নীচে নিথর শরীরটা আর কারো নয়, উড়ুক্কুরই।

সাদারোগ পিঁপড়েদের জন্য মৃত্যু পরোয়ানা। রোগটা একধরনের ছত্রাকের মাধ্যমে প্রথমে পিঁপড়ের শরীরে ছড়ায়, পরে শিকারকে নিজের কব্জায় টেনে নেয়। আক্রান্ত পিঁপড়ে হারিয়ে ফেলে তার চিন্তাভাবনার সব শক্তি। শাস্তিগুহার গাছে বসে চট্টুলের কাহিনি শোনার সময় যে আঠালো জিনিসটা উড়ুক্কুর গায়ে আটকেছিল সেটা ছিল এই মরণঘাতী ছত্রাক। ছত্রাক আক্রান্ত শরীরটি দ্রুত বিষে চুবিয়ে মাটি চাপা দেবার আদেশ দেয়া হলো, নইলে টুলিতে ওই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিষন্ন মুখে টিঙ্কু পাঁচপেয়ে দূরে দাঁড়িয়ে একটা সম্ভাবনাময় জীবনের শেষ পরিণতি দেখলো। এই কদিন চুপচাপ সয়ে থাকলেও এবার নিজেকে ধরে রাখতে ভীষণভাবে ব্যর্থ বুড়োটা শূঁড় নামিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এই প্রথম নিজেকে ভীষণরকম একা মনে হলো তার। ওর চোখ ছাপিয়ে বাঁধনহারা জলের বন্যা। ট্ররটিলাটুলির রাজপণ্ডিত টিঙ্কু পাঁচপেয়ে, জীবনে প্রথমবারের মত কাঁদছে।

-----------------------------------

কৃতজ্ঞতা স্বীকার: গোপাল'দা, অর্ণব পাল, হিমুভাই


Comments

সোহেল ইমাম's picture

এ কি করলেন আয়নামতি!!! সাদা রোগে সব শেষ!! অ্যাঁ

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

আয়নামতি's picture

সব সময় সব স্বপ্ন একবারের চেষ্টাতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে কী ভ্রাত! একের দেখিয়ে যাওয়া পথে অন্যেরা হাঁটে। উড়ুক্কু সেরকম একটা পথ তৈরি করে গেলো হয়ত বা। গল্প পড়বার জন্য ধন্যবাদ।

এক লহমা's picture

যা! এমনি এমনি-ই মরে গেল!
লেখা ঝর্ঝরে হইয়েছে - সেটা পছন্দ হয়েছে।
বেশী ভালো লাগত পর্বে পর্বে নানা প্রজাতির নানা খুঁটিনাটি জীবনচিত্র তুলে ধরলে।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

আয়নামতি's picture

মন খারাপ
লেখা পছন্দ হয়েছে জেনে খুশি হলেম। পিঁপড়ে নিয়ে সামান্য একটু পড়াশোনা করে যতটুকু বুঝেছি, এই ছোট্ট পিঁপড়েদের জগত এত বৈচিত্রে ভরপুর কী বলবো! আহা দাদাই, সত্যি যদি ওরকমটা লেখা ফেলা যেতো। অনেক অনেক ধন্যবাদ জেনো।

আব্দুল্লাহ এ.এম.'s picture

টিংকু বুড়োর পায়ের সংখ্যা পাঁচটি কেন? একটি পা কি যুদ্ধে হারিয়েছে?

আয়নামতি's picture

জ্বী, আব্দুল্লাহ ভাই আপনার ধারণা একদম সঠিক। গল্পটা পড়বার জন্য আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

নীড় সন্ধানী's picture

পিপড়ে সমাজের গোয়েন্দা ব্যবস্থা এবং শাস্তিগুহার বিষয়টি অভিনব এবং চমৎকার। এই বিষয়টা ধরে গল্পটা আরো একটু বড় করা যেতো বলে মনে হয়েছে। উড়ুক্কুর এরকম পরিণতিটা অপ্রত্যাশিত। টিংকু পাঁচপেয়ের মতো পাঠকের মনেও একটা স্বপ্ন দানা বেধেছিল উড়ুক্কুর বিপ্লবী কর্মকাণ্ড নিয়ে। যেহেতু টিংকু বুড়ো বেঁচে আছে, ভবিষ্যতে আরেকটি নতুন স্বপ্ন নিয়ে একটা সিকুয়েল করা যায় কিনা ভেবে দেখতে পারো। হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

আয়নামতি's picture

হেহে... ওরকম কোনো শাস্তি ব্যবস্হার উল্লেখ পিঁপড়ে নিয়ে যেটুকু পড়েছি তাতে পাইনি। তবে গুপ্তচর বা গোয়েন্দার ব্যাপারটা পিঁপড়ে সমাজে সত্যিই আছে। গল্পটা বড় করা যেতো..কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে পিঁপড়ের কুট্টুশ কামড়ে কামড়ে কেমন জানি খেই হারিয়ে ফেললাম। ফলে 'বিপ্লব চেয়ে আমি চিৎপাত' আর কী! আপনার মতামতটা বেশ লাগলো কিন্তু। এদিকটা নিয়ে ভবিষ্যতে কিছুমিছু লেখা যায় কিনা চেষ্টা করবো। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।

তুলিরেখা's picture

ঈশ, কী ভালো যে লাগছিল পড়তে। কাহিনিটা জটিল দিকে যাচ্ছিল, এমন সময়েই কিনা ছত্রাক আক্রমণ!
ওদের গোয়েন্দাবাহিনীর জায়গাটা পড়তে পড়তে কেন জানিনা অস্ত্রভস্কির "ইস্পাত" মনে পড়ছিল, সেখানে "চেকা" বলে ফ্রেন্ডলি তরুণ-গোয়েন্দাবাহিনী ছিল। হাসি

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

ষষ্ঠ পাণ্ডব's picture

পার্টিজান সাহিত্যে কতভাবেই না মিথ্যাচার করা যায়! বাস্তবের 'চেকা' এক বিভীষিকাময় কুখ্যাত গোপন বাহিনী।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

তুলিরেখা's picture

আর বলবেন না, ওই আপেলের গান শুনে তো ভাবলাম চেকা কী চমৎকার বন্ধুত্বমূলক গোয়েন্দাবাহিনী অনেকটা এই পিঁপড়েদের গোয়েন্দাসংস্থার মতন।
"আরে আরে ছোট্টো আপেল চললে কোথায় হে?/ চেকার হাতে পড়বে ঠিকই, আসবে না আর ফিরে।" পাভেলরা অ্যাকর্ডিয়ন বাজিয়ে গান গাইতো।
অপূর্ব সব বইপত্রের অনুবাদ আসতো সোভিয়েত থেকে। বাঙালি অনুবাদকরা ওখানে থাকতেন। এখন জানা যায়, ভয়াবহ সব কান্ড চলছিল ওখানে। অনেকেই কিচ্ছু বলতে পারে নি।কিন্তু এই অনুবাদকেরা অনেকে তো ইচ্ছে করলে দেশে ফিরে এসে সত্যি কথাগুলো বলে দিতে পারতেন! কেজানে, হয়তো উপায় ছিল না।

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

ষষ্ঠ পাণ্ডব's picture

আচ্ছা ল্যুক স্কাইওয়াকার মারা গেছে তো কী হয়েছে! ওবি-ওয়ান কেনোবি তো বেঁচে আছে। আগামী দিনে ল্যুকের বোন প্রিন্সেস লেইয়া অরগানা আসবে, দুলাভাই হ্যান সলো আসবে, ভাগ্নে বেন সলো আসবে। তাছাড়া সি-৩পিও আর আর২-ডি২'র মতো কেউ না কেউ আসবে। সুতরাং বিপ্লবকে ঠেকাবে কে? বিপ্লব আসবেই!

গল্পে পরিমিতি বজায় রাখা কঠিন ব্যাপার, সবাই লোভ সামলে রাখতে পারেন না ফলে ভালো গল্প অতির দোষে মার খায়। পরিমিতি বজায় রেখে এই গল্পটা এখানে শেষ করাটা আমার কাছে ঠিক মনে হয়েছে।

পিঁপড়ে টুলি > পিঁপড়েটুলি (যেমন, মাহুতটুলি, কায়েতটুলি, গণকটুলি)


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

আয়নামতি's picture

বিপ্লব আসবেই দেঁতো হাসি

পাঠককে যন্ত্রণা দিলাম না বেশি। তালগোল পাকানোর (কিংবা গল্প হয়ে ওঠার) আগেই ইতি টেনেছি। গল্পের পরিণতি নিয়ে কিছু না বললেও(আপনার কাছ থেকে লেখা বিষয়ে কিছু শুনতে পাওয়া সৌভাগ্য মানি আমরা অনেকেই) গল্প শেষ হওয়াতে আপনি সহমত, তাতে স্বস্তি পেলাম। 'পিঁপড়েটুলি' শুধরে নিয়েছি। লেখা পড়ে বরাবরের মত সুচিন্তিত মতামতের জন্য অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ পাণ্ডব'দা।

আয়নামতি's picture

এটাকে বড় গল্প, কল্পকাহিনি, বা গাঁজাখুরি গল্প যে নামেই ডাকা হোক, এরকম লেখা(বড়গল্পও)র চেষ্টা এটাই প্রথম দিদি। সেক্ষেত্রে খুব একটা সুবিধা বা সুবিচার করতে পেরেছি কিনা জানিনা, তবে চেষ্টা করেছি। আর চেষ্টাটা যেন খুববেশি তালগোলের দিকে না যায়, বলতে পারো সেরকম একটা ভয় থেকে গল্পের ইতি টেনেছি। এটাও তো ঠিক বলো, সব চেষ্টা, স্বপ্ন এক দমেই সফলতা পায় না। উড়ুক্কুর পরিণতিটা ওরকমই দেখাতে ইচ্ছে করেছে। সেটা ঠিক কেন তা বলতে পারবো না। 'চেকা'র কথা মনে আসেনি লেখবার সময়। পিঁপড়ে রাজ্যের 'চেকা'দের কর্মকাণ্ডও কম অবাক হবার মতো না বলো! গল্পের পরিণতিটা তোমাদের আশাহত করেছে, এটা ভেবে কষ্ট হচ্ছে। ভাবছি এরকম একটা প্লট নিয়ে যদি হিমুভাই, পাণ্ডব'দা, সত্যপীরভাই কিংবা তুমি লিখতে কী দারুণ একটা গল্প হতে পারতো! কী আর করা.. গল্পটা মন দিয়ে পড়বার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ দিদি

তুলিরেখা's picture

না না গল্পের পরিণতি আশাহত করে নি, কেবল অসম্পূর্ণ মনে হয়েছে । এটা উপন্যাস হবার যোগ্য কাহিনি । যতটা লিখেছ সেটাকে প্রথম দুই পরিচ্ছেদ বলা যায় । নতুন নতুন যেসব চরিত্ররা দেখা দিয়েছে তাদের পরিস্ফুটন হতে থাকলেই কাহিনি গতি পাবে ।

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

আয়নামতি's picture

উপন্যাস লেখার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতির দরকার রে দিদি। সেরকম অবস্হায় পৌঁছাতে পারলে হয়ত লেখা হবে একখানা।

কর্ণজয়'s picture

মেনে নিতে কষ্ট হলো, এই শেষ।
মুগ্ধ বিষ্ময়ে পড়ছিলাম,আর ভাবছিলাম-আরও একবার পড়তে হবে।। প্রতিবারই
যা হোক, শেষ ভাবলেও- নতুন শুরুর বেশ এক সম্ভাবনা তৈরি করেই গেলো

আয়নামতি's picture

কর্ণজয় ভাই ভাবছেন এই লেখা 'আরও একবার পড়তে হবে' এটা তো বিরাট পাওয়া! শেষ করে দিলাম রে ভাই, না করে উপায় ছিল না। উপরের মন্তব্যে বলেছি সেসব নিয়ে, তাই আর পুনরাবৃত্তিতে গেলাম না। এত মায়া নিয়ে গল্পটা পড়বার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।

রংতুলি's picture

গল্পের শুরু থেকে জ্ঞান-প্রতিভা ও তারুণ্যের হাত ধরে একটা সাম্য-সুশৃংখল সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আশু বিপ্লবের আভাস পাওয়া গিয়েছিল। শেষটা কেমন যেন বেখাপ্পা ঠেকল। সব শেষ যে আশানুরূপ হতে হবে এমনও কোনো কথা নেই। তবে উড়ুক্কুর সামান্য অপরাধে প্রথমবারের মতো শাস্তি গুহায় গিয়ে প্রাণনাশী ছত্রাকের সংক্রমণে মৃত্যু পাঠকের মনে নানা আশংকা/সন্দেহের জন্ম দেয়। গল্পটা এখানেই শেষ না করে আরেকটু বাড়ানো যায় কিনা ভেবে দেখার অনুরোধ রইল।

আয়নামতি's picture

পাঠক হিসেবে আপনাকে আশাহত করার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি ভগিনী। এর বিপরীতে কিছু বলতে গেলে নিজের লেখাকে জাস্টিফাই করতে চাচ্ছি এমনটা মনে হবে হয়ত। তারপরও বলি, এমন ঘটনা কিন্তু একেবারেই অসম্ভব না ভগিনী। সামান্য কারণেই কত অসামান্য অঘটন ঘটে পৃথিবীতে। এক ছুটেই সবার পৌঁছে যাওয়া হয়না কাঙ্খিত গন্তব্যে..খামোখাই ঝরে যায় সম্ভাবনাময় প্রাণ....ইত্যাদি ইত্যাদি.... গল্পটা আর বাড়াতে ইচ্ছে করেনি আসলে। পড়বার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ রংতুলি।

সোহেল ইমাম's picture

এভাবে কাহিনিটার শেষ টানার একটা মানে হয় লেখক বিপ্লব নিয়ে লিখতে চাইলেও মনের অন্তঃস্তলে বিপ্লবকে সমর্থন করেননা, তাই অজান্তেই দেখিয়েছেন কিভাবে নিয়মের বাইরের “বিপ্লব” নিয়তি বা কোন সৃষ্টিকর্তার হাতে অতি সহজেই নাকচ হয়ে যায়। আর আরেকটা অর্থ হয় যে প্রথম পর্বটার পরই লেখক কাহিনিটার ব্যাপারে উৎসাহ হারিয়েছেন, আর চাইছেননা এ নিয়ে সময় নষ্ট করতে তাই তড়িঘড়ি “নটে গাছটা মুড়িয়ে গল্প দিলেন ফুরিয়ে”। আমার মনে হয় দ্বিতীয় কারণটাই এই গল্পের আচানক সমাপ্তির মূলে। নইলে যে ভাবে কাহিনি এগিয়েছে তাতে এ পরিণতিটা আসেনা। আয়নামতি হয়তো আরো কোন লেখা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, সেই নতুন লেখার আশাতেই রইলাম।

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

আয়নামতি's picture

দেঁতো হাসি.... তাই? এভাবে পটাং করে বুঝে ফেলা যায় আদতেই আয়নামতি বিপ্লবকে সমর্থন করে কী করে না! হ্যাঁ, একথা ঠিক বিপ্লব বিপ্লব বলে আবেগী হওয়া কিংবা ভানভণিতা করা এক জিনিস, আর তাতে আস্হা রাখা আরেক জিনিস। ল্যাটিন এই শব্দের ইংরেজি অর্থটা অবশ্যই আপনার জানা। স্বৈরাচার এরশাদ হটানো আন্দোলন বলেন, কী আমাদের প্রজন্মের জন্য সবচে' বড় র্টান এ্যারাউন্ড শাহবাগ আলোড়ন বলেন, তাতে আয়নাবিবির বিশ্বাস নাই বলিলে তাহা খুব সরলীকরণ হয়ে যায়। গল্পটা হুট করে শেষ হওয়াটা পাঠক হিসেবে পছন্দ হয়নি, আশাহত হতে হয়েছে আপনাদের সেটা বুঝেছি। পাঠককে আশাহত করবার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। গল্পটা কেন শেষ করেছি তুলি'দির মন্তব্যে বলেছি ভ্রাত। নতুন লেখা দেবার বিপ্লবী আশাবাদ রাখলেম। ধন্যবাদ জানিবেন। হাসি

সোহেল ইমাম's picture

Quote:
আমার মনে হয় দ্বিতীয় কারণটাই এই গল্পের আচানক সমাপ্তির মূলে।

আমি মন্তব্যে দু’টি কারণ উল্লেখ করেছিলাম, এবং প্রথম কারণটি আমি নিজেও বিশ্বাস করিনা। আয়নামতি আপনার লেখা সব সময়ই মুগ্ধতা নিয়ে পড়ি, আপনাকে আহত করে থাকলে ক্ষমা প্রার্থী।

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

Post new comment

The content of this field is kept private and will not be shown publicly.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.