ভর দুপুরের অনুভূতি

Sohel Lehos's picture
Submitted by mmalam1978 [Guest] on Fri, 09/02/2018 - 8:09pm
Categories:

মাছের মাথাটা শফিকের প্লেটে তুলে দিয়ে ময়না বলল,” আরেক টুকরা মাছ দেই?”

খাওয়া থামিয়ে বিরক্ত হয়ে শফিক বলল,” মাছতো আলরেডি প্লেটে ঢাইল্লা দিছ। দেওয়ার পর পারমিশন চাও এইটা কেমন স্বভাব?”

ময়না খিলখিল করে হাসে। বিরক্ত হয়ে শফিক মাছের মাথা চিবাতে চিবাতে বলল,” কথায় কথায় এত হাস কেন? সমস্যা কি তোমার?”

ময়না আরো জোরে জোরে হাসে। খিলখিল। খিলখিল।

“আরে কি সমস্যা! আবার মাথায় ঘোমটা দিছ? বলছি না আমার সামনে ঘোমটা দেওনের দরকার নাই?”

খিলখিল। খিলখিল। খিলখিল। খিলখিল।

“ধুর বাল খামুই না।”

ধাক্কা দিয়ে প্লেট সরিয়ে দেয় শফিক। শাড়ির আচল কামড়ে অতি কষ্টে হাসি থামিয়ে ময়না বলল,”এত চ্যাতেন কেন? নেন, নেন, খান। আর হাসমু না।”

হি হি হি করতে করতে দৌড়ে ঘর থেকে পালিয়ে গেল ময়না। অবস্থা দেখে শফিক নিজেই ফিক করে হেসে ফেলে। বাচ্চা মেয়ে আর কাকে বলে। তার বয়স নাকি আঠারো। বিয়ের সময় ময়নার চাচা তাই বলেছিল। ময়নার বাবা মা মারা গেছে অনেক কাল আগেই। শফিকের বিশ্বাস হয়না। মেয়ের কথা বার্তা শুনলে মনে হয় চৌদ্দ পনের। শুধু শরীরটাই যা বেড়েছে।

মিনিট দুয়েক পর ফেরত এসেছে ময়না। মুখে চাপা হাসি। তাকে দেখে বিষম খেল শফিক। ময়নার মাথায় ঘোমটা নেই। শাড়ির আচল কোমরে বাঁধা। তার সুউন্নত স্তন যুগল ব্লাউজ ফেটে বেড়িয়ে আসতে চাইছে। শফিক মাথা নিচু করে বলল,”আব্বা কই?”

“গঞ্জে গেছে। কি নাকি মিটিং। ফিরতে রাইত হইব।”

“ওহ আইচ্ছা।” প্লেটে হাত ধোয় শফিক।

“একটা কথা কই?”

“কও।”

“চলেন বেড়াইয়া আসি।”

“কই?”

“যেইখানে ইচ্ছা।”

“না।"

“চলেন না? কখনওতো কোনখানে যাই না।”

“এই ভর দুপুরে কই যামু? বাইরে ঠা ঠা রইদ।”

“আরে চলেন না।”

“ধুর বাল!”

ময়নাকে পেছনে বসিয়ে বাতাসের বেগে সাইকেল চালায় শফিক। এক হাতে শফিককে ধরে রেখেছে ময়না। শফিকের অস্বস্তি লাগে। অদ্ভুত কেমন একটা অনুভূতি অলস এক সাপের মত ধীরগতিতে তার তলপেটের দিকে এগিয়ে যায়।

মাটির উঁচু রাস্তা ধরে শনশন করে ছুটে চলে সাইকেল। দুই ধারে অবারিত শর্ষের ক্ষেত। এদিকটায় লোকজন তেমন নেই। পেছন থেকে দুই হাত দিয়ে শফিককে জড়িয়ে ধরে ময়না। দম বন্ধ করে মেশিনের মত প্যাডেল চালায় শফিক।

বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল তাদের। দরজায় মুখ প্যাঁচা করে বসে ছিল হাফিজ উদ্দিন। শফিকের বাবা। তাদেরকে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে গম্ভীর গলায় জিজ্ঞাস করল,”কই গেছিলি?”

সাইকেল থেকে নেমে দ্রুত মাথায় ঘোমটা টানে ময়না। ভয়ে নীল হয়ে যায় শফিকের হলদে ফর্সা মুখ। হাফিজ উদ্দিন এলাকার মাতবর। চরম বদরাগী মানুষ। মাথা নিচু করে শফিক বলে,”একটু ঘুরাইতে নিয়া গেছিলাম।”

“ঘুরাইতে নিয়া গেছিলি?”

শফিক কিছু বলে না। মাথা নিচু করে রাখে। হঠাত পা থেকে স্যান্ডেল খুলে বিদ্যুৎ গতিতে ছেলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হাফিজ উদ্দিন।

“শুয়োরের বাচ্চা, নিজের মায়ের লগে পিরীতি চোদাও?”

পটাশ পটাশ স্যান্ডেল ফাটে শফিকের পিঠে। ছয় মাস আগে শফিকের মা ক্যান্সারে মারা যাওয়ার পর অনাথ ময়নাকে বিয়ে করে ঘরে এনেছিল হাফিজ উদ্দিন।


Comments

অনার্য সঙ্গীত's picture

এই টুইস্ট আশা করিনাই! আপনার লেখা খুব সাবলীল। পড়তে আরাম।
চমৎকার!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

Sohel Lehos's picture

আশা করা যায় এমন টুইস্ট কোন টুইস্টই না। অনেক ধন্যবাদ হাসি

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালী করো না। এসো এ বাহুডোরে।

এক লহমা's picture

গুরু গুরু

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

Sohel Lehos's picture

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- হাসি

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালী করো না। এসো এ বাহুডোরে।

অতন্দ্র প্রহরী's picture

বেশ ভালো লাগল।

Sohel Lehos's picture

ধন্যবাদ হাসি

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালী করো না। এসো এ বাহুডোরে।

অনার্য সঙ্গীত's picture

‌আপ্নে জ্যাতা!? অ্যাঁ

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সত্যপীর's picture

..................................................................
#Banshibir.

Sohel Lehos's picture

হাসি

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালী করো না। এসো এ বাহুডোরে।

ষষ্ঠ পাণ্ডব's picture

লেখকের নাম সোহেল লেহস আর ট্যাগে অণুগল্প দেখে বুঝতে পারছিলাম ট্যুইস্ট আসছে। পড়তে পড়তে আমি ধারণা করেছিলাম ঠিক দুক্ষুর বেলা ভূতুরে কিছু হবে। লম্বা ঘোমটা দেখে সন্দেহ আরও বেড়েছিল। শেষে ট্যুইস্টের ধাক্কাটা খেয়ে মনে হলো ঠিকই আছে। আপনি আর নীড়দা' ট্যুইস্ট নিয়ে খেললেও 'তেনা'রা আপনাদের কাছে বিশেষ পাত্তা পায়না।

ট্যুইস্টের বাইরেও গল্পটা চমৎকার। আপনার দেখার চোখ আছে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

Sohel Lehos's picture

দশ বারোটা বাচ্চা গল্প পয়দা করেছি গত ছয়মাস। সব কয়টাতেই ট্যুইস্ট দেয়া। পাঠক বুঝবে যে ট্যুইস্ট আছে। তবে কি ট্যুইস্ট সেইটা বুঝবে না। এইটাই কেরামতি খাইছে মন্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ হাসি

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালী করো না। এসো এ বাহুডোরে।

অতিথি লেখক's picture

@ষষ্ঠ পাণ্ডব'দা আপনার মতামত কে আমি সমর্থন করি। তারা দু'জন পারেও বটে! গল্প কইতে কই চইল্লা যায় ইয়ে, মানে... ইয়ে, মানে...
-বৃদ্ধ কিশোর

অতিথি লেখক's picture

দাদা আপনি পারেনও...... পড়লেই মনে হয় কতটা বাস্তব আবার শেষের দিকে এসে মনে হয় ঠাডায় বারি মারছে!!

Sohel Lehos's picture

মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাই। আপনি যেন কে? নাম দেখি না হাসি

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালী করো না। এসো এ বাহুডোরে।

অতিথি লেখক's picture

দুঃখিত নাম লিখতে প্রাই ভুলে যাই।
-বৃদ্ধ কিশোর

করবী মালাকার's picture

চমৎকার । এবং বাস্তবতা আমাদের গ্রামগঞ্জের।

Sohel Lehos's picture

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালী করো না। এসো এ বাহুডোরে।

আয়নামতি's picture

এমনটা আশা করিনি হে! তুখোড় ।

Sohel Lehos's picture

অনেক ধন্যবাদ হাসি

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালী করো না। এসো এ বাহুডোরে।

অতিথি লেখক's picture

আপনার পরিবর্তনটা চোখে পড়ার মতো। ভালো লেগেছে।

----মোখলেস হোসেন

Sohel Lehos's picture

লিখতে লিখতেই পরিবর্তন আসে। ভাল লেগেছে জেনে অনেক ভাল লাগল। ধন্যবাদ!

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালী করো না। এসো এ বাহুডোরে।

সোহেল ইমাম's picture

ঐ যে বলছিলাম আপনার নাম দেখলে না পড়ে থাকাই যায়না। চলুক

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

Sohel Lehos's picture

ধন্যবাদ

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালী করো না। এসো এ বাহুডোরে।

অতিথি লেখক's picture

শেষটা একেবারেই ঠা ঠা রইদের মত হইছে !
এ্যানি মাসুদ

Sohel Lehos's picture

ধন্যবাদ হাসি

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালী করো না। এসো এ বাহুডোরে।

নীড় সন্ধানী's picture

শেষটায় এসে চরম একটা ধাক্কা খেলাম! কী চমৎকার করে গল্পের প্লট সাজান আপনি! হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

Sohel Lehos's picture

অনেক ধন্যবাদ হাসি

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালী করো না। এসো এ বাহুডোরে।

অতিথি লেখক's picture

জিনিস লিখসেন একটা। লাস্টের টুইস্ট পইড়া মুখ যে হাঁ হইসিলো, বন্ধ হইসে পাক্কা এক ঘন্টা পর। নাহ, অদ্ভুত হয়েছে। মানে ধাক্কাটা; পুরা ধক করে লাগে। অসাধারন। এই এক লেখা পড়ে এতটাই মুগ্ধ হয়েছি যে আপনার বাদবাকি লেখাগুলা লাইন ধরে পড়ে ফেললাম।

Sohel Lehos's picture

হা হা হা খিয়াল কইরা মুখ দিয়া আবার মাছি ঢুইকা না যায়। গল্প ভাল লেগেছে জেনে আমারও ভাল লাগল। আপনার নামটাতো জানা হলো না। অনেক ধন্যবাদ হাসি

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালী করো না। এসো এ বাহুডোরে।

অতিথি লেখক's picture

নাম লিখতে ভুলে গিয়েছিলাম। ইয়ে, মানে...

আপনার গল্পগুলার মধ্যে এইটা আসলেই "এ ক্লাস এপার্ট।" যতবার পড়ি ভাল্লাগে। এইটাও একটা মজা। লাস্টের টুইস্ট জেনে পড়াটা। দেঁতো হাসি

অন্তরা রহমান

করবী মালাকার's picture

গল্পটি তবে এই?! সাংঘাতিক টুইস্ট। চমৎকার গল্প। আমাদের গ্রাম বাংলার চিত্র। ভাল লেগেছে আর কেঁদে উঠেছে মন।

Sohel Lehos's picture

ধন্যবাদ!

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালী করো না। এসো এ বাহুডোরে।

Post new comment

The content of this field is kept private and will not be shown publicly.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.