সিনেমাঃ ডুব

কনফুসিয়াস's picture
Submitted by konfusias on Sun, 26/11/2017 - 6:07pm
Categories:

‘ডুব’ দেখা হলো অবশেষে।
মেলবোর্নের সিনেমা হলে বসে বাংলা সিনেমা দেখবার আনন্দ অন্যরকম, সুযোগ এত কম আসে যে যখন আসে তখন মিস করতে ইচ্ছে করে না। দেশের ছবি হলে গিয়ে যদি না দেখি তাহলে সিনেমা শিল্পই বা বেঁচে থাকবে কী করে?
এবারে তবু দ্বিধায় ছিলাম অনেক। যাবো কি যাবো না, ট্রেলার দেখে আমার মনে একটা অদ্ভুত ভয়ও কাজ করছিলো, মনে হচ্ছিলো মুভি দেখা শেষে হয়তো ভয়ংকর একটা মন খারাপ নিয়ে বাড়ি ফিরবো। মনে হচ্ছিল এই গল্পের চিত্ররূপ দেখবার জন্যে আমি হয়তো আসলে এখনও প্রস্তুত হতে পারিনি, হয়তো আরও কিছু বছর লেগে যাবে আমার।
তবু দেখতে গেলাম। সব দ্বিধা পাশ কাটিয়ে, গল্পের জানা পটভূমিকে মাথা থেকে সরিয়ে দিয়ে দেখতে গেলাম ‘ডুব’।

সিনেমা শেষ করে মনে হলো, মাত্র এক লাইনেই ডুব নিয়ে লিখে ফেলা যায় আসলে, সেটা হচ্ছে, It didn’t make any sense at all.

গল্পের প্রাচুর্যের সম্ভাবনা যেখানে ছিল, সেখানে ডুব এর কাহিনী বিন্যস্ত হয়েছে অতি দুর্বল গল্পের উপরে। পর পর দৃশ্যের মধ্যিখানে কোন ধারাবাহিকতা নেই, সামঞ্জস্য নেই। পেছনের সব কিছু জানা থাকার পরেও সিনেমাতে গল্প খুঁজে নিতে যুদ্ধ করতে হয়েছে আসলে। ইরফান বা তিশা দুজনেই কি দুর্দান্ত অভিনেতা, তবু ঝর্ণার পারে বসে দুজনের প্রথম দৃশ্যটাকে রোমান্টিক দৃশ্য মনে হয়েছে, বাবা-মেয়ের বলে মনে হয়নি! পুরো মুভিতেই অজস্র কেন-র কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। অপ্রয়োজনীয় দৃশ্যের সংখ্যা অগুনতি। ধারাবাহিকতার অভাব এতটাই যে, অবধারিত মৃত্যুদৃশ্যটি পর্দায় আসার পরে আমার মনে প্রশ্ন এলো, ‘কে মারা গেল?’

টুকরো কিছু দৃশ্য ভালো লেগেছে। বাবার জন্যে পানি নিয়ে ছুটে যাওয়ার অংশটুকু ভালো লেগেছে। মায়ের জন্মদিন উদযাপনের পুরো দৃশ্যটাও অনেক সুন্দর ছিল। মেয়েকে ফোন করে বাবা-র আকুতির অংশটুকুও খুব মনে লেগেছে।

কিন্তু একটা দুটো দৃশ্য দিয়ে তো আর পুরো সিনেমা হয় না। তাই মনে হয়েছে, ডুব আসলেই পরিপূর্ন কোন সিনেমা হয়ে উঠতে পারেনি শেষমেশ। বহুদিন আগে মুগ্ধ হয়ে দেখা নাটক ‘প্রতি চুনিয়া’ বা সদ্য নেটফ্লিক্সের কল্যাণে দেখা ‘টেলিভিশন’ এর মত ভালো সিনেমার নির্মাতার জন্যে ‘ডুব’ আসলে একটা ‘এফ’ গ্রেড মুভি, পাশ মার্ক না পাওয়া একটা মুভি। ভালো সিনেমার দর্শকদের জন্যে যেটা কেবল হতাশা আর বিরক্তিই বয়ে নিয়ে আসে শুধু, আর কিছু না।


Comments

অনার্য সঙ্গীত's picture

একটা নির্ভরযোগ্য দর্শকের বক্তব্য পেলাম অবশেষে। অনেকটা সময় বেঁচে যাবে সিনেমাটা না দেখে।

এবং আপনি কতদিন পর লিখলেন বলেন তো?

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

হাসিব's picture
কনফুসিয়াস's picture

হাসি

-----------------------------------
ব্লগস্পট

অনার্য সঙ্গীত's picture

খাইছে! আপনি আর কীসের কীসের হিসাব রাখতাছেন? চিন্তিত

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

কালাম 's picture

ডুব কি ওই সিনেমা হলে নিয়মিত প্রদর্শনী হয়েছিল (যেমনটা অন্যান্য ছবির বেলায় হয়) নাকি সপ্তাহের কোনো নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ে?

কনফুসিয়াস's picture

না, নিয়মিত ছিল না এটা। বিশেষ প্রদর্শনী ছিল, একটাই শো।

-----------------------------------
ব্লগস্পট

অতিথি লেখক's picture

দেশে গেলে বন্ধুবান্ধবের ধাক্কাধাক্কিতে হয়তো দেখতে চলে যেতাম । সময় বাচাইলেন ।
ফারুকীর লিটনের ফ্ল্যাট নাটক / সিনেমা দেখার পর আসলে আর তার বানানো কিছু দেখার রুচি হয় নাই ।

মেলবোর্নে বাংলা সিনেমার প্রদর্শনি হচ্ছে এইটা ভালো সংবাদ । ঢাকা অ্যাটাক ইউএসেএ তে বেশ ভালো দর্শক টানছে শুনছিলাম । লন্ডনে এতো বাংলাদেশী থাকা সত্ত্বেও আসছে বলে খবর পাই নাই ।

আপনি ‘টেলিভিশন’ সিনেমাটাকে ভালো বলছেন, কিন্তু বেশ কয়েকটা অ্যালেগেশন ছিল সিনেমার গল্প টার্কিশ সিনেমা ‘ভিজনটেল’ সিনেমার নকল বা বেশ ভালো মিল রয়েছে । নিশ্চিত করে বলতে পারছি না, কারন যাচাই করে দেখা হয় নাই ।

মামুনুর রশীদ [ ভবঘুরে শুয়োপোকা ]
========================
mamun babu ২০০১ at gmail.com
হাজার মানুষের ভিড়ে আমি মানুষেরেই খুজে ফিরি

কনফুসিয়াস's picture

টেলিভশন- নিয়ে আমি শুনেছি। কিন্তু টার্কিশ মুভিটা আমার দেখা হয়নি, তাই বলতে পারবো না।
কিন্তু সিনেমা হিসেবে দেখার সময় 'টেলিভিশন' ভালো লেগেছে আমার। গল্প ভালো ছিল, সেটার চিত্রায়নও ভালো, এবং শেষটুকু খুব ভালো লেগেছিল। সাধারণ দর্শক হিসেবে একটা সিনেমার কাছে আমি আসলে এটুকুই চাই।

-----------------------------------
ব্লগস্পট

সোহেল ইমাম's picture

আসলে খুব উঁচুমার্গের ছবি সবাই বুঝতে পারেনা। মৃত্যুর ব্যাপারটা আপনার কাছে পরিস্কার হয়ে যাবে যদি ঐ অংশটা একটু ভালো করে দেখতেন। নায়িকা বললো আজ মুড়িঘন্ট তৈরী করেছি। ইরফান কোন কথা না বলে ধীরে ধীরে সোফা থেকে উঠে নায়িকাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং ধরেই থাকলেন। এই খানে ইরফান চরিত্রের গভীরতা, সে মুড়িঘন্ট তৈরীর খবর পাওয়া মাত্র উপলব্ধি করেছে এই মুড়িঘন্ট তাকেই খেতে হবে এবং মুড়িঘন্টে থাকা মাছের কাঁটা গলায় বেধে তার মৃত্যু হবে। মুড়িঘন্ট খাবার পর কি হয় না হয় তাই আগে ভাগেই নায়িকার কাছে বিদায় নিয়ে নেওয়া। তার পরের ধাপেই কোরান তেলাওয়াতের শব্দ ও দৃশ্য। এই যে এখানে মুড়িঘন্টের কথা উল্লেখ করা হলো এটা খুবই চিন্তিত এবং পরিকল্পিত একটা ব্যাপার। উুঁচু মার্গের পারিচালকরা এভাবে একটা শব্দ দিয়েই গভীর আর ব্যাপক জিনিস বুঝিয়ে ফেলেন। আমারতো মনে হয় ছবির কাহিনিই এটা মুড়িঘন্টের বাটিতে ডুবে মরা। আপনি নিশ্চিন্তে সরল সাদা আলুভর্তার জীবনেই শান্তিতে থাকতে পারতেন কিন্তু আপনি গোটা ব্যাপারটাকে মুড়িঘন্ট না বানিয়ে ছাড়বেননা, তাহলে বোঝেন এখন।

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

নাশতারান's picture

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

কনফুসিয়াস's picture

সেটাই হবে আসলে। এই অবুঝ মন লইয়া আমি এখন কী করি?

-----------------------------------
ব্লগস্পট

ষষ্ঠ পাণ্ডব's picture

মন অবুঝ হইলে 'অবুঝ মন' সিনামার শাবানার মতো গান গাইতে পারেন।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অনার্য সঙ্গীত's picture

মুড়ি(ঘণ্ট) খাওয়াটাই তাইলে সিনামার মূল কাহিনী!?

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অতিথি লেখক's picture

ছবিটি দেখা হয়নি। কনফুসিয়াসের এই লেখা এবং আপনার মন্তব্য পড়ে প্রাণ আইঢাই করে উঠলো মুড়িঘণ্টের জন্য। আপনি একটা খারাপ লোক সোহেল ইমাম।

---মোখলেস হোসেন।

অতিথি লেখক's picture

দেখার ইচ্ছাটাই মরে গেল।
এ্যানি মাসুদ

নীড় সন্ধানী's picture

এই সিনেমা টেলিভিশনের চাইতে খারাপ হলে তো ভয়ানক ঘটনা।
ফারুকীর 'টেলিভিশন' দেখা শেষ করে বলতে ইচ্ছে করছিল - আমার দুই ঘন্টা ফেরত দে।
শুনছিলাম টেলিভিশন সিনেমা নাকি তুরস্কের ভিজোনটেলের অনুকরণে বানাইছে। ভিজোনটেলের সাথে কিছু মিলে কিনা দেখতে গিয়ে ওটার দুঘন্টা নষ্ট করছিলাম।

ডুব নিয়ে বিতর্কটা ফারুকী নিজেই চাইছিল। তার মার্কেটিং খরচ আশিভাগ কমে গেছে। এ ধরণের জনপ্রিয় বিতর্কগুলো বাণিজ্যের লক্ষী হয়ে কাজ করে।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

Rezwan's picture

প্রাগুক্তিঃ মিডিয়াতে দেখা ফারুকি’কে আমার পছন্দ হয়না। মনে হয়, লোকটা বেশি পাকনা। “আমাত্তে কেঊ বেশি বুঝেনা” ভাব নেয়া কিসিমের গর্দভ। প্রায়শঃই সে নিজ-বিষয়ের বাইরেও আলতু-ফালতু বেশ কনফিডেন্সের সাথেই বলে। তবে, ছবি-নির্মাতা ফারুকি যে জনপ্রিয় ছবি বানানোর কায়দা জানে, সেটা স্বিকার করি। আমাদের দেশে, দুজন মানুষ সবাইকে বই পড়তে-কিনতে শিখিয়েছিলেন। তাদের একজনও রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল নন। এরা দুজন হচ্ছে মাসুদ রানার লেখক আনোয়ার হোসেন, আরেকজন হুমায়ুন আহমেদ। আর, যারা আমাদের ছবি দেখতে হলে নিয়েছেন, তাদের অনেকের একজন হচ্ছে ফারুকি। এরপরেও, একজন হুমায়ুন আহমেদ যেমন রবীন্দ্রনাথ নন, ফারুকিও তেমন সত্যজিত বা মৃনাল সেন নন। টোবে, অন্ততঃ ছায়াছবি দেখতে মধ্যবিত্ত মানুষকে টিনি সিনেমা হল-গামী করছেন, এর জন্য বাহবা দেই।
স্বীকারুক্তিঃ আমার ছায়াছবি জ্ঞান প্রায় শুন্যের কোঠায়। কেবল টিকেট কেটে ছবিটি দেখেছি বলে, কাস্টমার রাইট থেকেই এ ক্রিটিক লিখছি।

১। আমার ছোটবেলা থেকেই “চিত্রালি” টাইপের গসিপে বড় অনীহা ছিল। এ ছবিটি হুমায়ুন আহমেদের জীবঅনালম্বনে তৈরি এই “গসিপ-আলোচনা”টি ফারুকি তার আগডুম বাগডুম ব্যক্ষা এবং শাওনের অতি-প্রতিক্রিয়ার কারনে ছবিটি্র ভাল প্রচারনা এনে দেয়। তাই, প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ দর্শক, হুমায়ুন আহমেদের জীবনের অতি-ব্যক্তিগত অধ্যায়ের প্রতি আগ্রহের কারনেই হলে গিয়েছেন বলে আমার ধারনা। হুমায়ুনের জীবন-কেচ্ছা- আগ থেকেই জানা বলেই, এই ছবিটির কাহিনী-নেরেশন কিছুটা অনুধাবন করা যায়। তা না হলে, এই ছবি’র গল্প-নেরেশন-চরিত্র গুলো কতজন বুঝতে পারতেন, আমার সন্দেহ আছে। শানে নজুল ছাড়া, দেড় ঘন্টার ঘটনা থেকে ঘটনায় লাফালাফি দেয়া ছবিটির নিজস্ব কোন অবয়ব নাই।
২। সমাজে অনাদি কাল থেকে প্রচলিত ধারনা এই যে “নষ্টা নারীর” কারনে, বিবাহ সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং অনেক সুখের সংসার ভেঙ্গে চুড়মার হয়ে যায়। ফারুকির সৃষ্ট নীতু চরিত্রটি সে ব্যক্ষা-ধারনাকেই আরো জোড়াল করেছে। তাকে ভিলেন বানিয়ে, ফারুকি সমাজের “ইজ্জত-পবিত্রতা” রক্ষা করেছেন। যদিও, এটা যে ভীষণ অন্যায় এক-পেশে অবিচার, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখানেই ফারুকির ভন্ডামি।
৩। ছবিটির নাম কেন ডুব? কাউকে তো ডুবতে দেখলাম না। জীবনের ঘটনা-পরম্পরায় অসহায়-শিকার মানুষগুলো যে যার মত, চিত-সাঁতার কেটে জীবণ-স্রোতে ভেসে থাকার কাহিনি এটি। এর নাম কেন হবে ডুব?
৬। সাবেরি নামক টিন-এজার চরিত্রটি রুপায়নে তিষার “বলছি করছি” উচ্চারনে একটা অদ্ভুত এক্সেন্ট আনাটা ব্যাপক বিরক্তিকর। কিছু শব্দ ভিন্ন কায়দায় উচ্চারণ করেই যদি টিন-এজার সাজা যায়, আমার মতে, দিলারা হাশেমকে দিয়ে এই চরিত্র করালেই হতো। অভিনয়ে উনি এখন শ্রেষ্ট।
৭। জাফর ইকবালের অনুকরনে সৃষ্ট চরিত্র-রুপায়ন নাদের এক্সিলেন্ট। মমিসিংগা এক্সেন্টে অসহায় চাচার চরিত্রটি সারা ছবির শ্রেষ্ঠ অংশ। যদিও, বাবাকে পানি এনে দিবার দৃশ্যটি আমার বেশ ভাল-লেগেছে।
৮।Irrfan khan এর-বাংলা বানান কি হবে ইর্ফান না ইড়ফান? উনাকে ভাড়া করে আনার কারন কি? আর কেঊ কি ছিলনা ? নাকি ফারুকির ব্যবসায়িক স্টান্ট? ভদ্রলোকের বাংলা উচ্চারণ তো ভীষন বাজে।

সর্বসাকুল্যে এটা একটা বি মাইনাস ছবি।

Post new comment

The content of this field is kept private and will not be shown publicly.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.